মেইন ম্যেনু

কুমিল্লায় স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যা : স্বামী-শ্বাশুড়ী আটক

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে যৌতুক না পেয়ে শ্বশুর বাড়িতে এসে কেরোসিন ঢেলে মুন্নি বেগম (২২) নামে এক গৃহবধূকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে তাঁর পাষণ্ড স্বামী। উপজেলার আদ্রা ইউনিয়নের দক্ষিণ শাকতলি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মুন্নি ওই গ্রামের আবুল বাশার চৌকিদারের মেয়ে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী ওমর ফারুক ও শাশুড়ি পারভিন বেগমকে গতকাল শুক্রবার ভোরে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত প্রায় চার বছর পূর্বে উপজেলার আদ্রা ইউনিয়নের দক্ষিণ শাকতলি গ্রামের আবুল বাশার চৌকিদারের মেয়ে মুন্নি বেগমের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী লাকসাম উপজেলার পশ্চিম বাতাখালী গ্রামের কোরবান আলীর ছেলে ওমর ফারুকের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে ওমর ফারুক স্ত্রী মুন্নি বেগমকে যৌতুকের জন্য বিভিন্নভাবে নির্যাতন শুরু করে। গত সপ্তাহ থেকে ২০ হাজার টাকা যৌতুকের জন্য স্বামী ওমর ফারুক স্ত্রী মুন্নি বেগমকে বেদম মারধর করে। খবর পেয়ে মুন্নির বাবা আবুল বাশার চৌকিদার ফারুকের বাড়ি গিয়ে মেয়েকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন। কিন্তু যৌতুক না পেয়ে সর্বশেষ বৃহস্পতিবার ভোরে স্বামী ওমর ফারুক শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে মুন্নির ঘরের দরজা ধাক্কাতে থাকে।

এ সময় স্ত্রী মুন্নি ঘরের দরজা খুলতেই স্বামী ওমর ফারুক মুন্নির গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর মুন্নির চিৎকারে বাড়ির লোকজন ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে মুন্নির অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়। তবে টাকার অভাবে মুন্নিকে ঢাকা মেডিক্যাল থেকে বাড়িতে নিয়ে আসেন আবুল বাশার চৌকিদার।

এদিকে, খবর পেয়ে কুমিল্লার পুলিশ সুপার শাহ মো. আবিদ হোসেন ১০ হাজার টাকা, নাঙ্গলকোট থানার ওসি নজরুল ইসলাম পিপিএম ১০ হাজার টাকা, এসআই আশরাফুল ইসলাম দুই হাজার টাকা, নাঙ্গলকোট প্রেসক্লাবের সভাপতি এ এফ এম শোয়ায়েব এক হাজার টাকা এবং এসআই মজিবুর রহমান ৫০০ টাকা সহায়তা দিয়ে আহত মুন্নিকে চিকিৎসার জন্য বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠান। তবে সেখানে চিকিৎসাধীন আবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে পৃথিবী থেকে চির বিদায় নেন মুন্নি।

নাঙ্গলকোট থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম পিপিএম জানান, নৃশংস এ হত্যার ঘটনায় মুন্নির বাবা আবুল বাশার চৌকিদার বাদী হয়ে নাঙ্গলকোট থানায় দুজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পরে শুক্রবার ভোরে লাকসাম উপজেলার পশ্চিম বাতাখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘাতক স্বামী ওমর ফারুক ও শাশুড়ি পারভিন বেগমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।