মেইন ম্যেনু

কুমিল্লা ঈদ বাজার জমে উঠলেও! উঠতে পারেনি নিউ হকার্স মার্কেট

মাসুদ আলম, কুমিল্লা  থেকে : কুমিল্লায় রমজানের ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন বিপনী বিতান, বহু তলা মার্কেট, শপিং কমপ্লেক্সসহ রাস্তার দুই পাশের হকার্স দোকান গুলোতে ঈদের কেনা-কাটায় জমজমাট আমেজ পড়েও তার বিপরীত দৃশ দেখা গেল কুমিল্লা নিউ মার্কেট আন্ডারগ্রাউন্ডের “নিউ হকার্স মার্কেটে”। এক সময়ের ঐতিহ্যবাহী দেশি, বিদেশী পণ্যের হাট কুমিল্লা কান্দিরপাড় টাউনহল গেটের দুইপাশের ৯২জন হকার্স ব্যবসায়ীদের যেন দূর্দিন চলছে।

চলতি বছরের প্রথম দিকে নগরীর পরিবেশ ও যানজট নিরসনের কথা চিন্তা করে কুমিল্লা ৬ আসনের এমপি হাজী আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার ও সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর সমন্বয়ে বহু বছরের অবস্থানরত কুমিল্লা কান্দিরপাড় টাউনহল গেটের দুইপাশের হকার্স ব্যবসায়ীদেরকে উচ্ছেদ করে। উচ্ছেদকৃত হকার্স ব্যবসায়ীদেরকে কুমিল্লা নিউ মার্কেটের আন্ডারগ্রাউন্ডে স্টোলের মাধ্যমে ব্যবসায়ের সুযোগ প্রদান করে। কিন্তু সেই হিসেবে প্রচার ও প্রসার না থাকায় ওই ৯২জন হকার্স ব্যবসায়ীর দুর্দিন কাটছে।

সরেজমিনে গুরে দেখা গেল, রমজানের ঈদকে সামনে রেখে ৯২টি স্টোলে দেশি, বিদেশী বাহারী ডিজানের পণ্যের আমদানী হয়েছে। ব্যবসায়ীদের ধারণা ছিল সারা বছর বেচা-বিক্রয় যেমন হলেও ঈদ উপলক্ষে অবশ্যই ক্রেতারা নিউ হকার্স মার্কেট মূখী হবে। কিন্তু দেখা গেল তার ভিন্ন দৃশ।

new huqrs pic 1

নিউ হকার্স মার্কেটের দুই ব্যবসায়ী মনির হোসেন ও রাসেল কান্নায় জড়িত হয়ে কন্ঠবারী করে বলেন, ভাই গত রমজানে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে ১৯ রমজানে পর্যন্ত প্রায় ৭০/৭৫ হাজার টাকা বিক্রয় করেছি। কিন্তু এই রমজানের আজ ১৯ রমজান পর্যন্ত ১০ হাজার টাকা বিক্রয় করতে পারেনি।

তারা বলেন, সারা বছর যেমন তেমন ঈদ উপলক্ষে যদি দৈনিক ২/১ হাজার টাকা বিক্রয় হয়! তাহলে কিভাবে দোকান ভাড়া বিদ্যুৎ বিলসহ যাবতীয় খরচ ব্যয় করবো? এমনকি মা-বাবা, ভাই-বোন ও ছেলে-মেয়েসহ পরিবারটা কিভাবে চলাবো ভেবে কুল পাই না।

এব্যাপারে নিউ মার্কেট আন্ডারগ্রাউন্ডের নিউ হকার্স মার্কেট কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান জানান, কান্দিরপাড় থাকাকালিন দৈনিক ১০/১৫ হাজার টাকা বিক্রয় করেছি। আর এখন প্রতিদিন ২ হাজার টাকা বিক্রয় করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কিভাবে নিজে খাবো আর পরিবারকে বাচাবো। সারাবছর বসে ছিলাম ঈদের অপেক্ষায়! যে ঈদ উপলক্ষে বেশ আর কম কিছু বিক্রয় করতে পারবো। কিন্তু সেই ধারণাটি ভুল ছিল।