মেইন ম্যেনু

কুড়িগ্রামে খাদ্য সংকটে পানিবন্দি ছয় লাখ মানুষ

কুড়িগ্রাম জেলায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। টানা ১৮ দিন পানিবন্দি থাকা প্রায় ছয় লাখ মানুষ চরম খাদ্য সংকটে পড়েছে।

সবকিছু তলিয়ে যাওয়ায় বানভাসী মানুষ নৌকা, বাঁশের মাচান ও ঘরের চালে আশ্রয় নিয়েছে। অনেকে খাদ্য ও নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকায় নৌকা দেখলেই ত্রাণের আশায় ছুটে যাচ্ছে মানুষ। জেলার ৯ উপজেলার ৬৮ ইউনিয়নের ৬ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে দুর্বিসহ দিন যাপন করছে। দেখা দিয়েছে চরম খাদ্য সংকট।

সদর উপজেলার খেয়ার আলগা চরের আছমা খাতুন বলেন, ‘বন্যার মধ্যে বাচ্চা-কোচ্চা নিয়া সোয়ার জায়গা নাই। খাওয়া দাওয়ার কোন ব্যবস্থা নাই। কারে খাবার বাড়িতে নাই। কাইও ১ সারযে দিবে তারও বুদ্ধি নাই। সবাইরে বিধিকিস্তির অবস্থা দাঁড়াইছে।’

সদর উপজেলার ভগবতীপুর চরের আবুল জানান, ১২ থেকে ১৩ দিন হলো ঘরে পানি ঢুকেছে। ঘরের চৌকি পর্যন্ত তলিয়ে গেছে। কোন রকম মাচার ওপর রান্না করে জীবন বাঁচাচ্ছি। মেম্বার- চেয়ারম্যান কেউ খোঁজ নেয় না। খুব বিপদে আছি।

সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর জানান, আমার ইউনিয়নের ছয় হাজার মানুষ প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে পানিবন্দি জীবন-যাপন করছে। প্রথমে তিন মেট্রিকটন ও পরে চার মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ পেয়েছি। সবাইকে ত্রাণের চাল দেয়া সম্ভব হয় নাই।

এদিকে বন্যার্তদের জন্য জেলা প্রশাসন থেকে ২৫০ মেট্রিকটন চাল ও সাড়ে ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

জেলা প্রশাসক খান মো. নুরুল আমিন জানান, বন্যার্তদের জন্য এ পর্যন্ত ৪০০ মেট্রিকটন চাল ও ১৩ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২৫০ মেট্রিকটন চাল ও সাড়ে ৬ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান জানান, চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ৪০ সেন্টিমিটার ও ধরলার পানি ৪৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।