মেইন ম্যেনু

কুড়িগ্রামে বিলুপ্ত ছিটবাসীদের ভোটার হওয়ার কাজ শুরু

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : ভোটার হচ্ছে বিলুপ্ত ছিটমহলের অধিবাসীরা। বাংলাদেশের মূল ভূখন্ডের সাথে যুক্ত হওয়ার প্রায় ১ বছর পর ভোটার তালিকায় তাদেরকে অন্তর্ভূক্ত করা হচ্ছে। রোববার কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার দাসিয়ারছড়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটার তালিকার কাজ উদ্বোধন করেন ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও।

এসময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার ও ম্যাজিস্ট্রেট নবী নেওয়াজ, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল কুদ্দুস সরকার, ছিটমহল আন্দোলনের নেতা গোলাম মোস্তফা খান, আলতাফ হোসেনসহ ভোটার কাজে নিয়োগপ্রাপ্ত ৩ জন সুপারভাইজার ও ১৪ জন তথ্য সংগ্রকারী। দীর্ঘ বঞ্চনার পর ছিটবাসীরা পুর্নাঙ্গ নাগরিক অধিকার পেয়ে ভীষণভাবে উল্লসিত। গোটা দাসিয়ারছড়ায় নারী-পুরুষের মাঝে দেখা দিয়েছে প্রাণের উত্তাপ।

জানা যায়, সারাদেশে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময় থেকে বাংলাদেশের সাথে যুক্ত বিলুপ্ত ছিটবাসীরা অপেক্ষার প্রহর গুণছিল কবে তাদের হাতে পৌছবে কাংখিত জাতীয় পরিচয়পত্রের। শেষ পর্যন্ত অপেক্ষার প্রহর ঘুচিয়ে তাদের সর্বোচ্চ সুযোগ- সুবিধার কথা চিন্তা করে ৩টি ইউনিয়নের সাথে তাদেরকে যুক্ত করে রোববার শুরু হল ভোটার তালিকার কাজ। তবে ২০১১ ও ২০১৫ সালের বাংলাদেশ ভারতের যৌথ গণনায় যারা বাদ পরেছিলেন তাদেরকে ভোটার তালিকার অন্তর্ভুক্ত আপাতত করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তবে এখনো বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পাওয়া নিয়ে চলছে অনুযোগ-অভিযোগ। দাসিয়ারছড়ার মহির, চান্দু মিয়া, দুলাল, আপেল, রোকসানা, আঙ্গুর, রাবেয়া, নবির উদ্দিন ও ফাতেমা জানায়, আমাদের পরিবারের কেহই ২০১১ সালে বা ২০১৫ সালের গণনায় অন্তর্ভুক্তি করা হয়নি। সেসময় আমরা জীবন জীবিকার তাগিদে ভারতের ইট ভাটায় ও বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় কাজের সন্ধানে ছিলাম। কিন্তু আমরাতো দাসিয়ারছড়ার বাসিন্দা। এখন আমাদের কি হবে ? তাই তারা সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে।

দেশের বৃহত্তম ছিটমহল দাসিয়ারছড়ায় ৬ হাজার ৫২৯ জন লোকের বসবাস। তাদের মধ্যে ১৯৯০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে যাদের বয়স ১৮ বছর হয়েছে শুধুমাত্র তারাই ভোটার তালিকার অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে। এনিয়ে দাসিয়ারছড়ার বালাটারী গ্রামের হাছেনের স্ত্রী মাজেদা বেগম জানান, এই প্রথম আমি বাংলাদেশের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় বেশ আনন্দ লাগছে। শুনেছি আমাদের দাসিয়ারছড়ার প্রাপ্ত বয়স্কদের ভোটার তালিকার কাজ শেষ হলেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা করা হবে। এটা খুশির সংবাদ। ৬৮ বছর আমাদের পরিচয় ছিল না বা পরিচয়পত্র ছিল না। ভোটদানেও বঞ্চিত ছিলাম। এখন এদেশের নাগরিকত্বসহ ভোট দেয়ার অধিকার পাচ্ছি এর চেয়ে আনন্দ কি থাকতে পারে।

ফুলবাড়ি উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, ১০ জুলাই থেকে ১৬ জুলাই অধুনালুপ্ত দাসিয়ারছড়ায় তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারগণ বাড়ী বাড়ী গিয়ে ২নং তথ্য ফরম পুরণ শেষে পুরণকৃত তথ্য ফরম অনুযায়ী রেজিষ্ট্রেশন সেন্টারে ছবি তোলা ও বায়োমেটিক্স করা হবে ১৭ থেকে ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে। এরইমধ্যে ডাটা বেইজ, খসড়া ভোটার তালিকা সিডি প্রস্তুত শেষে প্রেরণ, খসড়া ভোটার তালিকা মুদ্রন প্রকাশ, খসড়া ভোটার তালিকার উপর আপত্তি ও নিস্পত্তি করণ, ভোটার তালিকা সংশোধন শেষে ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬তে চুড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন।

গত ১১ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন দাসিয়ারছড়ার অধিবাসীদের নামের তালিকার গেজেট প্রকাশ করে। এর পুর্বে ভোটার এলাকা পুনর্বিন্যাস করে ফুলবাড়ী সদর, কাশিপুর ও ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের অধিনে অন্তর্ভুক্ত করে বিলুপ্ত দাসিয়ারছড়ার অধিবাসীদের নাগরিকত্ব দেয়ার জন্য ভোটার তালিকায় আনার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়।

এ ব্যাপারে ফুলবাড়ী উপজেলার ইউএনও দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও জানান, অধুনালুপ্ত দাসিয়ারছড়া ছিটমহলের অধিবাসী আপাতত যারা ভোটার হতে পারবেন না তারা আবেদন করলে যথাযত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্বাাচন কমিশনে তাদের আবেদন পাঠিয়ে দেয়া হবে। বিষয়টি মানবিক।

এ প্রসঙ্গে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন জানান, অধুনালুপ্ত ছিটমহলের নাগরিকের ভোটার তালিকার কাজ ১০ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা হল। আশা করি নির্বাচন কমিশনের দেয়া সময়সীমার মধ্যেই সব কাজ শেষ করতে পারবো।

উল্লেখ্য, গত ২০১৫ সালের ১লা আগস্টে বাংলাদেশের মানচিত্রে ভারতীয় ১১১ ছিটমহল নতুনভাবে যোগ হয় । ফলে ২০১৫ সালের ৬ থেকে ১৬ জুলাই দু’দেশের যৌথ গণনায় মোট জনসংখ্যা ৩৭ হাজার ৫৩৫ জনের মধ্যে বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়ায় ৬ হাজার ৫ শত ২৯ জন লোকের বসবাস। তাদের মধ্যে ১৯৯০ সালের ১ জানুয়ারি হতে যাদের বয়স ১৮ বছর হয়েছে শুধুমাত্র তারাই ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন।