মেইন ম্যেনু

কূটনীতিকপাড়াসহ সারাদেশে নিরাপত্তা জোরদার

একাত্তরে মানবতা বিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের রিভিউ পিটিশনের রায়কে কেন্দ্র করে রাজধানীর কূটনীতিক পাড়াসহ সারাদেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল থেকেই রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বেড়েছে পুলিশের টহল গাড়ির সংখ্যাও।

এদিন বিকেলে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। এরই মধ্যে আগামীকাল বুধবার মুজাহিদের রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো বিন্যাস করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। বিকেলের পর থেকে রাজধানীজুড়েই বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি গুলশানের কূটনৈতিক এলাকাকে ঘিরে শক্ত অবস্থান নিয়েছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

রাজধানীর বিভিন্ন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও (ওসি) অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়ার কথা বাংলামেইলকে নিশ্চিত করেছেন।

বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ জলিল বলেন, ‘আমরা রাস্তায় টহল গাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধি করেছি। পোশাকে ও সাদা পোশাকে আমরা নজরদারি করছি।’

রামপুরা থানার ওসি (অপারেশন) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘মালিবাগ, রামপুরাসহ আশপাশের এলাকায় পোশাকে সাদা পোশাকে পুলিশ দায়িত্বপালন করে যাচ্ছে। যে কোনো ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি।’

পল্লবী থানার ওসি দাদন ফকির বলেন, ‘এ রায়কে কেন্দ্র করে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা রায়ের প্রতিবাদে যে কোনো ধরনের বিক্ষোভ ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড করতে পারে। এটি প্রতিহত করতে ইতিমধ্যে ১০টি মোবাইল টিম, ৫ টি পিকেট ডিউটি, ৪টি হোন্ডা পার্টি ও ১টি চেকপোস্ট অতিরিক্ত করা হয়েছে। আমরা সতর্ক রয়েছি।’

মোহাম্মদপুর থানার ওসি মীর জামাল উদ্দীন বলেন, ‘পুরো এলাকায় আমরা সতর্কাবস্থা নিয়েছি।’

কূটনীতিক এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার
রাজধানীর গুলশানের কূটনীতিক এলাকা ব্যপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে রাস্তায় অতিরিক্ত পুলিশ ও চেকপোস্টে পুলিশের কড়া উপস্থিতি দেখা গেছে। নতুন বাজার দিয়ে গুলশানে প্রবেশের সামনে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস কেন্দ্রিক চেকপোস্টে পুলিশ সতর্কবস্থায় দায়িত্বপালন করছে। এছাড়াও বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের সামনে রয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। তারা অনগার্ড দায়িত্বপালন করে যাচ্ছেন।

গুলশান থানার দূতাবাস এলাকার নিরাপত্তা কর্মকর্তা শেখ সোহেল রানা বলেন, ‘পুরো ডিপ্লোম্যাটিক এরিয়ায় নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। রায়ের আগে ও পরে এই নিরাপ্তা ব্যবস্থা বলবৎ থাকবে।’

সার্বিক বিষয়ে কথা হয় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারের উপ-পুলিশ কমিশনার মুনতাসিরুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘রায়কে কেন্দ্র করে যে কোনো নাশকতা রোধে সতর্কবস্থা নেয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ এলাকা ভেদে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’

এদিকে পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দেশের যে কোনো স্থানে নাশকতা প্রতিরোধে পুলিশ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।বাংলামেইল