মেইন ম্যেনু

কৃতিম শুক্রাণু তৈরি, শুক্রাণু থেকে জন্ম হয়েছে সুস্থ ইঁদুরও

চীনের একদল গবেষক এবার পরীক্ষাগারে শুক্রাণু তৈরি করেছেন। শুধু তাই নয়, এ শুক্রাণু থেকে জন্ম হয়েছে সুস্থ ইঁদুর ছানারও। কৃত্রিম শুক্রাণু তৈরির এ প্রক্রিয়া মানুষের ক্ষেত্রে সফল হলে পুরুষের বন্ধ্যত্ব দূর করার চিকিৎসায় বড় অগ্রগতি হবে বলে আশা করছেন ওই গবেষকেরা।

বেইজিংয়ের চায়নিজ একাডেমি অব সায়েন্সেস, নানজিং মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এবং আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা ওই গবেষণায় অংশ নেন। তারা ইঁদুরের ভ্রূণের স্টেম সেল সংগ্রহ করে তা থেকে একধরনের অপরিণত শুক্রাণু-সদৃশ কোষ বা স্পার্মাটিড তৈরি করেন।

এ কাজের জন্য তারা ইঁদুরের ভ্রূণের স্টেম সেলকে একটি রাসায়নিক মিশ্রণে রাখেন, যার মাধ্যমে সেগুলো আদি জননকোষে রূপ নেয়। তারপর নতুন কোষগুলোকে শুক্রাশয়ের কোষ এবং টেস্টোস্টেরনের মতো যৌন হরমোনের সঙ্গে মেশানো হয়। সেই পরিবেশে জননকোষগুলো স্পার্মাটিডে রূপান্তরিত হয়। আর সেগুলোকে ইঁদুরের ডিম্বাণুতে স্থাপন করে ভ্রূণ তৈরি করা হয়। সেই ভ্রূণ স্ত্রী ইঁদুরের গর্ভে স্থাপন করার পর সুস্থ ছানার জন্ম হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার সেল স্টেম সেল সাময়িকীতে এ-সংক্রান্ত গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। নানজিং মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জিয়াহাও শা বলেন, মানুষের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি নিরাপদ ও কার্যকর হলে কৃত্রিম উপায়ে পুরুষের বন্ধ্যাত্ব দূর করার চেষ্টায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। বর্তমানে প্রচলিত চিকিৎসা অনেক দম্পতির ক্ষেত্রে কাজ করে না।

যুক্তরাজ্যের এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজনন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ রিচার্ড শার্প চীনের ওই গবেষণায় যুক্ত ছিলেন না। তিনি বলেন, ইঁদুরের স্টেম সেল থেকে শুক্রাণু-সদৃশ কোষ তৈরির গবেষণায় বহু বছর লেগেছে।

এর নতুনত্ব হলো, গবেষকেরা জননকোষ এবং সেগুলোর ডিএনএর সঠিক বিকাশ দেখাতে পেরেছেন। ফলে মানুষের ক্ষেত্রে একই পদ্ধতি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে।