মেইন ম্যেনু

কৃষ্ণকলির স্বামী অর্ক প্রসঙ্গে সমগীতের কৈফিয়ত

কণ্ঠশিল্পী কৃষ্ণকলি’র বাসায় তাঁর কাজের মেয়ের আত্মহত্যার ঘটনায় বর্তমানে কারাগারে অবস্থান করছেন কৃষ্ণকলির স্বামী অর্ক। সমগীত গোষ্ঠির সদস্য অর্ককে নিয়ে নানা ধরনের অপপ্রচারণা চলছে সর্বত্র। এসব বিষয়ে একটি কৈফিয়ত পাঠিয়েছে সমগীত। সমগীতের কৈফিয়তটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হরো।

তবে সবার আগে বিচারের দাবী তুলবো আমরা!
(সমগীত সদস্য অর্ক প্রসঙ্গে আমাদের কৈফিয়ত)

অর্ক’র দুই দিনের রিমান্ডে পুলিশী জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হওয়াতে আমরা খুশি হয়েছি। আমরা এটাই চাইছিলাম যে, ওর ক্ষমতাবান আত্মীয় – স্বজনরা যেন ক্ষমতা বা টাকার জোরে ওকে তদন্ত সম্পন্ন হবার আগেই বের করে নিয়ে না আসে। কেননা অর্ক-কৃষ্ণকলির বয়ান অনুযায়ী ১৭/১৮ বছরের মেয়ে শিল্পী আত্মহত্যা করেছে ওদের বাড়িতে। ফলে তার প্রাথমিক দায় ওদের ঘাড়েই বর্তায়। পুলিশী তদন্তের মুখোমুখি ওদের দাঁড়াতেই হবে। এবং আমরা অবশ্যই চাই যথাযত তদন্ত প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে মেয়েটির মৃত্যুর কারণ উদ্ঘাটিত হোক। কিন্তু আমরা যেহেতু ব্যক্তিগত ভাবে খুব কাছে থেকে কৃষ্ণকলি এবং অর্ককে বহুদিন থেকে চিনি, জানি এবং বুঝি ফলে সেই ব্যক্তিগত জ্ঞান ও উপলদ্ধি থেকেই জানি এই মৃত্যুতে ওদের কোন সম্পর্ক থাকতে পারে কি না, কৃষ্ণকলি কিংবা অর্কের পক্ষে কোন নির্যাতকের ভূমিকা গ্রহণ সম্ভব কি না। কিন্তু সেই চেনা-জানা তো ব্যক্তিগতই, কৃষ্ণকলির বন্ধু এবং পরিজনদের। বাকি সকলের জন্য এই অভিজ্ঞতা প্রযোজ্য হবে না, এটাও আমরা বুঝি। ফলে একদিকে আমরা যেমন আমাদের বন্ধুর নির্দোষিতা সম্পর্কে সন্দেহমুক্ত, অন্যদিকে আমরা আরও বেশি করে চাই আমাদের বন্ধু কৃষ্ণকলি আর অর্ক যথাযথ এবং হস্তক্ষেপমুক্ত প্রক্রিয়াতেই দায়মুক্ত হোক।
ফলে সুরতহালে কোন প্রকার নির্যাতনের চিহ্ন না পাওয়া গেলেও ময়না তদন্ত রিপোর্ট হাতে আসার আগে পরিচিত কিংবা দুরবর্তী অনেক বন্ধুর মতো হুটহাট মন্তব্য করতে চাই নি। কারণ আমরা জানি মুখে তাদেরকে যাই বলি না কেন, সন্দেহ থেকেই যাবে। সব ঘটনা যে একই রকম নয়, তা কেবল যারা এ রকম পরিস্থিতির শিকার, তারাই জানেন। আর এটাতো অনেক পুরনো কথা যে, বিপদে পড়লে তবে প্রকৃত বন্ধু চেনা যায়। তবু যারা ফোন করেছেন, তাদের যথাসম্ভব তথ্য-উপাত্ত দিয়েছি। এবং তাদের অবশ্যই ধন্যবাদ জানাই এ কারণে যে, তারা কেবল মাত্র সংবাদ মাধ্যমের উপর ভরসা না করে, ফোন করে বিস্তারিত জানবার চেষ্টা করেছেন। যারা ব্যাক্তিগত ভাবে অর্ককে চেনেন না, ধন্যবাদ জানাই তাদেরকেও, তারা তাদের নৈতিক জায়গা থেকে ‘শিল্পী’র আত্মহত্যা রহস্য উন্মোচনের দাবি জানিয়েছেন। কেননা আমরা যদি অর্ককে খুব কাছ থেকে না জানতাম, তাহলে আমরাও নিশ্চই সংবাদপত্রের খবরের উপর ভরসা করেই সাথে সাথে হয়তো একই রকম প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতাম।
ফেসবুকে দেখলাম আমাদের ঈমান নিয়ে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন। অর্ক যেহেতু সমগীতের সদস্য, তাই আমরা চুপ, মেয়েটার পক্ষে কথা বলছি না, ইত্যাদি। কেউ কেউ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার প্রকাশ ঘটাচ্ছেন তাদের বক্তব্যে। কেউ আবার বলছেন, যদি ১৭/১৮ বছরের মেয়েটি আত্মহত্যা করেও থাকে, তাকে সেই প্ররোচনা কে দিয়েছে? এই প্রশ্নটির উত্তর তদন্তে বেরিয়ে আসুক, এটা আমাদেরও চাওয়া।
তবে আমরা শুধু আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, কৃষ্ণকলি বা অর্ক তাদের বাড়িতে কাজ করতে আসা কোন গৃহকর্মীর সাথে কখনো ‘কাজের মেয়ে’ সুলভ আচরণ করত না। পরিবারের সদস্য হিসেবেই ট্রিট করত। এটা আমরা কেন, ওদের বাড়িতে যাদের যাতায়াত আছে তারা সবাই এ কথা বলবে।
তবে হ্যাঁ! কৃষ্ণকলির বিরুদ্ধে অনেকেরই ক্রোধ আছে স্রেফ এই কারণে যে তিনি মুখের ওপর কথা বলেন, ভুল হোক ঠিক হোক যা নিজে মনে করেন, তা বলতে ছাড়েন না। কিন্তু যারা ব্যক্তিগতভাবে তাকে চেনেন, এটা তারা জানেন যে, কৃষ্ণকলি সব সময়েই তার এই ব্যক্তিত্ব ক্ষমতাধরদের সাথেই দেখিয়েছেন, শিশু-দরিদ্র-ক্ষমতাহীন মানুষের সাথে কৃষ্ণকলি নমনীয়তম। এবং আমাদের ধারণা, কৃষ্ণকলি বা অর্ক যদি প্রচলিত ক্ষমতা কাঠামোর সাথী হতো তবে এতোদিনে এই ঘটনা ধামাচাপা পড়ে যেতো। কিন্তু আমরা জানি এসব ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার উপর ভর করে আত্মহত্যার রহস্য উন্মোচিত হবে না। তাই আমরাও চাই বিচারিক প্রক্রিয়ায় সুষ্ঠ তদন্ত হোক।
আমরা কেন, স্বয়ং অর্ক এবং কৃষ্ণকলি’রও বক্তব্য তাই। অর্ক পুলিশী রিমান্ড শেষে এখন কারাগারে, তদন্ত চলছে, ভিসেরা প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত কোন প্রাথমিক সিদ্ধান্তেও আসা যাবে না। কিন্তু অর্ক তার এই জেলবাস, তদন্ত বা রিমান্ডের চেয়ে অনেক বেশি বিচলিত তার হেফাজতে থাকা মেয়েটার মৃত্যু নিয়েই। তবু আমাদের যে বন্ধুরা একেরপর এক আমাদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলে যাচ্ছেন, তাদের কে বলি, যদি তদন্তে অর্ক অপরাধী প্রমাণিত হয়, তবে সবার আগে ওর বিচারের দাবী আমরা তুলব।কথা দিচ্ছি আপনাদের। এরকম প্রমাণ আমরা আগেও দিয়েছি। সেই দিন যদি দেখেন সমগীতের সদস্য বলে অর্কের অপরাধ আমরা আড়াল করবার চেষ্টা করছি, গালিটা সেইদিন দিয়েন। কয়টা দিন অপেক্ষা করেন, তদন্তটা হতে দেন। তার আগেই কেবল মাত্র কোন কোন পত্রিকার (যাদের প্রচারিত তথ্যের সাথে দায়িত্ব প্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের তথ্যের অনেক অমিল)মনগড়া সংবাদের উপর ভিত্তি করে ফেসবুকি প্রতিক্রিয়া দেখাবেন না, প্লিজ! আবারো বলছি, একটা ঘটনাকে অন্য ঘটনার সাথে গুলিয়ে ফেলবেন না। সব ঘটনা একই সরল রেখায় ব্যাখ্যা করা চলে না। আর আপনাদের সাথে সমগীতের দীর্ঘ দিনের পরিচয়,সম্পর্ক, কারো কারো সাথে সহযোদ্ধার সম্পর্ক, আপনারা আমাদের যদ্দুর চিনেন, তাতে আপনারা এইটুক আস্থা রাখতে পারেন, সমগীত কখনো অন্যায়ের পক্ষ নেবে না, সে অর্ক হোক কিংবা অমল আকাশ। আমরা আপনাদের কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
–সমগীত সংস্কৃতি প্রাঙ্গণ
২৮/৩/২০১৬