মেইন ম্যেনু

কেউ কি ভূত কিনতে চান? পাওয়া যাচ্ছে অনলাইনেই…

‘আমি একটি ভূত বিক্রি করতে চাই। এই পুরুষ ভূতটিকে আমি একটা পুরনো কাঠের বাক্স কিনতে গিয়ে ফাউ হিসেবে পেয়েছেলাম। ওই বাক্সের ভিতরেই সে থাকে। আমি যে ঘরেই বাক্সটাকে রাখি না কেন, সে ওই ঘরেই গিয়ে ওঠে। আমি বাক্সটাকে লুকিয়ে রাখলেও, সে সেটাকে খুঁজে বের করে। খুঁজে না পেলে অনর্থ বাধায়। বাক্স ও ভূতের সামগ্রিক দাম মাত্র ৩০০ ডলার। ক্রয়ে আগ্রহীরা শিগগির ইমেল করুন।’

উপরোক্ত বিবৃতিটি কোনও ভৌতিক গল্পের উদ্ধৃতি নয়, এটি একটি বিজ্ঞাপন। এবং একটি নামকরা ই-কমার্স সাইটে বিজ্ঞাপনটিকে দেখা গিয়েছে। সেই সঙ্গে বিজ্ঞাপনদাতা ছবিও দিয়েছিলেন সেই বাক্সের। তার পরে কে সেই বিজ্ঞাপন দেখে ক্রেডিট কার্ড সোয়াইপ করেছেন, জানা না গেলেও এই বিজ্ঞাপনের কমেন্ট বক্স-এ তুলকালাম খিল্লি শুরু হয়ে গিয়েছে।

কেউ প্রশ্ন করেছেন আলোচ্য ভূতটির চরিত্র সম্পর্কে, কেউ জানতে চেয়েছেন তার সাইজ। পরে বিজ্ঞাপনদাতা বিরক্ত হয়েই কিনা কে জানে, ভূতের দাম বাড়িয়ে ১০০০ ডলার করে দেন। এবং জানান, তিনি আর যা-ই হোন, খোরাক নন। তিনি ভূতের ‘ছবি’-ও পোস্ট করেন। তিনি এ-ও জানান, ভূতটি ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি বা ৬ ফুট লম্বা। ঘরে প্রবেশ করলেই সে একটা কালো কুয়াশার আকৃতি নেয়। ভাল করে দেখলে বোঝা যায়, সে একটা কালো জিনস পরে রয়েছে, কিন্তু তার গায়ে কোনও জামা নেই।

বিজ্ঞাপনদাতা আরও জানান, তিনি ভূতের ভিডিও তুলতে চাইলে কোনও লাভ হয়নি। ভিডিও-তে ভূত ধরা দেয়নি। তার স্টিল ছবি তোলা গিয়েছে এবং সেগুলোই তিনি বিজ্ঞাপনে দিয়েছেন। তার মুখ তিনি কখনওই দেখতে পাননি। কিন্তু তার শরীর যে বেশ স্বচ্ছ, তা বুঝতে পেরেছেন। তাঁর কিছু প্যারানর্মাল-বিশেষজ্ঞ বন্ধুবান্ধব তাঁর বাসায় এসে পরখ করে গিয়েছেন ভুতুড়ে কাজ-কারবার।
এই বিবৃতির পরে খেলা আরও জমে যায়। খিল্লি যা-তা লেভেলে পৌঁছয়।
কিছুক্ষণের মধ্যেই বিজ্ঞাপনদাতা জানান, জনৈক প্যারানর্মাল-সন্ধানী বাক্স সমেত ভূতটিকে কিনে নিয়েছেন।
এই ‘ভুতুড়ে’ বিজ্ঞাপনের মাথা ও মুন্ডু কিছু বোঝা যায়নি বলেও মন্তব্য করেছেন অনেকে।