মেইন ম্যেনু

কেউ জানতো না নজরুল এতো বড় জঙ্গি!

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিকী ও পঞ্চগড়ের অধ্যক্ষ যজ্ঞেশ্বর দাসাধিকারী হত্যা মামলাসহ ১১টি হত্যা মামলায় জড়িত জঙ্গি নজরুল ইসলামের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) ভোরে জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার সোনাহার ইউনিয়নের নিজগ্রাম গজপুরীতে তাকে দাফন করা হয়। তিনি ওই গ্রামের আব্দুল্লাহ মিয়ার ছেলে। নজরুল দেবীগঞ্জে পুরোহিত যজ্ঞেশ্বর দাসাধিকারী হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি।

এদিকে নজরুলের মৃত্যুতে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পরিবার কিংবা প্রতিবেশি কেউ জানতো না নজরুল এতো বড় মাপের একজন জঙ্গি সদস্য।

পরিবার ও স্থানীয়দের দেয়া তথ্য থেকে জানা যায়, নজরুল বাড়ির পাশে একটি মাদরাসা এবং পরে সৈয়দপুরের একটি মাদরাসায় পড়াশোনা করেন। একপর্যায়ে শহরে মশলার ব্যবসা শুরু করেন। প্রায় দু’বছর আগে তিনি স্ত্রী ও দুই মেয়ে নিয়ে ঢাকায় যান। এরপর থেকে বাড়ির কারো সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিলো না।

নজরুলের জঙ্গি সম্পৃক্ততা প্রথমে জানতে পারেন তার প্রথম স্ত্রী ইসমত আরা। ওই সময় তিনি মাঝে মাঝে উধাও হয়ে যেতেন। হঠাৎ এমন উধাও হয়ে যাওয়ার কারণ খুঁজতে গিয়ে ইসমত জানতে পারেন তার স্বামী জঙ্গি দলের সদস্য।কিন্তু ইসমত এতে সমর্থন না দেয়ায় তাকে তালাক দেয় নজরুল। পরে তিনি আবারও বিয়ে করেন।

গত ৪ জুলাই টাঙ্গাইলের কালিহাতি থানা পুলিশ উপজেলার যোকারচর রেলগেটের পাশে একটি বাড়ি থেকে জেএমবির তিন নারী সদস্যকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সাজিদা নামে এদেরই একজন পুলিশের কাছে নিজেকে নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী পরিচয় দেয়।

গত মঙ্গলবার রাজশাহীতে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হওয়ার পর পুলিশের মাধ্যমে জানতে পেরে তার মৃত্যুতে স্থানীয়রা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

ওই এলাকার ওমর আলী (৬০) জানান, আমরা নজরুলকে ভাল ছেলে হিসেবেই জানতাম। কিন্তু সে যে এতো বড় জঙ্গি, মানুষ হত্যা করে তা আমাদের জানা ছিল না। এটা আমাদের জন্য লজ্জার। তার মতো আরেক প্রতিবেশি শুক্কুর আলী (৪২) জানান, নজরুলের মতো মানুষ জঙ্গি সদস্য ও একাধিক হত্যা মামলার আসামি এটা বিশ্বাস করতেও কষ্ট হয়। আমরা কখনো তার এমন আচরণ লক্ষ্য করিনি। এটা গ্রামের বদনাম এবং ইসলামের বদনাম। আমরা আমাদের গ্রামে এমন মানুষ চাইনা।

নজরুলের ভাই সফিকুল ইসলাম (২২) জানান, আমার ভাইয়ের মতো যেন এমন পরিণতি আর কারো না হয়। কারো ভাই যেন আর জঙ্গি না হয়। যার ভাই জঙ্গি সেই বুঝে তার কষ্ট, সেই বুঝে জঙ্গির ভাই হওয়া কতটা অপমানজনক।

পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার (এসপি) গিয়াসউদ্দীন আহমদ বলেন, পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত জেএমবি সদস্য ‘বাইক নজরুল’ দেবীগঞ্জের পুরোহিত হত্যা মামলার আসামি বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। তার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং পারিবারিকভাবেই তাকে দাফন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে একাধিক হত্যা মামলার আসামি নজরুলকে ধরিয়ে দিতে ১ লাখ টাকা পুরষ্কার ঘোষণা করেছিল পুলিশ। গত ২ আগস্ট মঙ্গলবার রাজশাহীতে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত মোস্ট ওয়ানন্টেড এই জেএমবি সদস্য।