মেইন ম্যেনু

কোথায় সেই ‘মাস্টারমাইন্ড’ জঙ্গি মারজান

রাজধানীর গুলশানের হটি আর্টিজান রেস্তোরাঁ ও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগা ময়দানের অদূরে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার অন্যতম ‘মাস্টারমাইন্ড’ নুরুল ইসলাম মারজানকে নিয়ে চট্টগ্রাম পুলিশে এখন উল্টো সুর।

কাউন্টার টেররিজম ও ট্রান্সন্যাশলান ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলামের একটি মন্তব্য ঘিরে মারজানকে নিয়ে নানা কথা বার্তা শুরু হয় চট্টগ্রাম পুলিশে।

কিছু দিন আগেও চট্টগ্রাম পুলিশের শীর্ষ কয়েকজন কর্মকর্তা প্রকাশ্যেই বলেছেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সময়ের ছাত্র দুর্ধর্ষ ‘জঙ্গি’ মারজান চট্টগ্রামেই আছে। আবার কেউ কেউ আরেকটু আগ বাড়িয়ে বলেছেন, মারজান পুলিশের নজরদারিতেই রয়েছে। দুই সপ্তাহ যেতে না যেতেই সেই পুলিশ কর্মকর্তারা তাদের পূর্বের অবস্থান থেকে সরে এেেসছেন। তারা এখন বলছেন, মারজান কোথায় তা তারা জানেন না।

চট্টগ্রাম পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মারজানকে নিয়ে চট্টগ্রাম পুলিশের মধ্যে কোনো পরিষ্কার ধারণা নেই। বরং তাকে নিয়ে একটা ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

তবে মারজানের অন্যতম সহযোগী ও মাস্টারমাইন্ড তামিম চৌধুরী তার দুই সহযোগীসহ সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে পুলিশের এক অভিযানে নিহত হয়েছেন।

চট্টগ্রাম পুলিশের কয়েকজ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের একজন কর্মকর্তা তাদেরকে বলেছিলেন, মারজানকে চট্টগ্রামে দেখা গেছে। ব্যাস এর পরের দিন গত ১৭ আগস্ট চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার নূর-ই-আলম মিনা বলেন, পুলিশের নজরদারিতেই আছে মারজান। তার সঙ্গে আরও তিনজন মাস্টারমাইন্ড রয়েছে। তারাও ধরা পড়বে।

এর দু‘দিন যেতে না যেতেই চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. কামরুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, জঙ্গি মারজান ওই সময়ের মধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েও গিয়েছিলেন। তাদের এই বক্তব্য নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। এক পর্যায়ে জঙ্গি মারজানের চবির আরবি বিভাগের ৪৩ জন শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরে ক্লাসে অনুপস্থিতি এমন তথ্য ফাঁস হয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দেয়া তথ্যেও এর সত্যতা পাওয়া যায়।

কিন্তু কোথায় মারজান? ১৭ আগষ্ট চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার নুর-ই-আলম মিনার বক্তব্যের দিন থেকে হিসেব করলে এরই মধ্যে দুই সপ্তাহ পার হয়ে গেছে। কিন্তু পুলিশের খাতায় হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁর মাস্টারমাইন্ড ‘জঙ্গি’ মারজানের খোঁজ মিলছে না।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার নূর-ই-আলম মিনা বলেন, জঙ্গি মারজানের বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। তার ব্যাপারে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট (সিটিইউ) বলতে পারবে। তবে কিছুদিন আগে তাকে চট্টগ্রাম এলাকায় দেখা গিয়েছিল বলে পুলিশের হ্যালো সিটি অ্যাপে মানুষ তথ্য দিয়েছে। সাংবাদিকদের এ তথ্য দেন কাউন্টারটেররিজম ইউনিটের প্রধান প্রধান মনিরুল ইসলাম।

চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. কামরুজ্জামান এ প্রসঙ্গে বলেন, জঙ্গি মারজানের খোঁজে পুলিশ চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড-মিরসরাই ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কিছু এলাকায় পুলিশ অভিযান চালায় এবং এখনো তৎপর রয়েছে। কিন্তু মারজানের অবস্থান সম্পর্কে পুলিশ ধোঁয়াশায় রয়েছে। মারজানকে ধরার জন্য পুুলিশ নানামুখী চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে চট্টগ্রাম মেট্টেপলিটন পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, কোনো একজন কর্মকর্তা ‘জঙ্গি’ মারজানকে চট্টগ্রামে দেখা গেছে-এমন কথা বলেই খালাস। এরপর থেকে ঘুম হারাম হয়ে গেছে চট্টগ্রাম পুলিশের। একের পর এক অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি চালিয়েও খোঁজে পাওয়া যায়নি মারজানকে। এ নিয়ে চরম বেকায়দায় রয়েছে পুলিশ।

গোয়েন্দ সূত্র বলছে, হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার সময় জেএমবির মাস্টারমাইন্ড তামিম চৌধুরীর সঙ্গে মারজানের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। রাজধানীর কল্যাণপুরে জঙ্গি আস্তানায়ও মারজানের যাতায়াত ছিল।

মারজান জেএমবির প্রচার বিভাগের দায়িত্বে রয়েছে। গুলশান হামলার পর জঙ্গিরা যে নাশকতার ছবি পাঠিয়েছিল, তা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেয়ার দায়িত্বটি বিশ্বস্ততার সঙ্গে পালন করে স্ত্রীকে নিয়ে নিখোঁজ এই নুরুল ইসলাম মারজানই।