মেইন ম্যেনু

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও আশপাশে মানুষের ঢল

দীর্ঘ ছয় দশক পরও বাঙ্গালিরা একটুও ভোলেনি ভাষা শহীদদের। তাইতো ৬৪ বছর পরও শহীদ মিনার কেন্দ্রীক মানুষের যেন ঢল নেমেছে। রাত ১২টার পর থেকেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দেয়ার জন্য মানুষের সমাগম বাড়তে থাকে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে ক্লান্তিহীন মানুষ সুশৃঙ্খলভাবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছে।

যারা ভোরে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে পারেননি তাদেরকে দুপুর পর্যন্ত কড়া রোদ উপেক্ষা করে লাইনে দাঁড়িয়ে ফুল দিয়ে হাঁসিমুখে ফিরতে দেখা গেছে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আশপাশেও হাজার হাজার মানুষকে জাড়ো হতে দেখা যায়। অনেকেই তাদের বুকে কালো ব্যাজ ধারণ করেছে।

শাহবাগ,আজিমপুর,নীলক্ষেতসহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যাওয়ার প্রতিটি প্রবেশপথেই ছিল মিছিলের সারি। শহীদ মিনারের আশপাশের এলাকায় মাইকে অনবরত বাজানো হচ্ছে,‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/ আমি কি ভুলিতে পারি’।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসও যেন একটা উৎসবমুখর পরিবেশ ফিরে পেয়েছে। অনেকের হাতে-গালে শহীদ মিনারের প্রতীক শোভা পাচ্ছে। শহীদ মিনারে আসা নগরবাসীর পোশাকেও রয়েছে একুশের চেতনার ছাপ। পোশাকে সাদা আর কালো রঙের ব্যবহার বেশি। তাতে খচিত রয়েছে বর্ণমালা,কবিতার চরণ বা গানের কলি। আবার লাল-সবুজের বাংলাদেশকে ধারণ করতে দেখা গেছে কারও কারও পোশাকে। রাস্তার পাশে ছোট ছোট দোকানে এবং হাতে করে ফেরিওয়ালারা বিক্রি করছেন ছোট ছোট পতাকা,একুশের বাণী লেখা মাথায় বাঁধার ফিতা,শহীদদের ছবিসহ পোস্টকার্ড।

একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে আজ জাতীয় ছুটির দিন। জাতীয় গ্রন্থ মেলাও খুলেছে সকাল থেকেই। ছোট ছোট বাচ্চারা তাদের বাবা-মায়ের হাত ধরে এলোমেলোভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে মেলাপ্রাঙ্গন। অনেকে বইও কিনছেন। আশপাশের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানও শত লোক হাত ধরাধরি করে নিজেদের মতো করে দিনটি উৎযাপন করছেন। জায়গায় শোনা যাচ্ছে একুশের গান।

শাহবাগ,পলাশী,কাঁটাবন,নীলক্ষেত মোড়সহ শহীদ মিনারের আশপাশে সময় গড়ার সঙ্গে বাড়ছে এ ভিড়।

ভোর সাড়ে ৬টায় পূবের সূর্য উঁকি দেয়ার সাথে সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শুরু হয় এ প্রভাতফেরি।

অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে প্রভাতফেরি করে আজিমপুর কবরস্থান হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন উপাচার্যের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

এরপর নানা শ্রেণি পেশার মানুষের ঢল নামে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন, স্কুলের পাশাপাশি ছিল রাজনৈতিক সংগঠনগুলো। ছোট ছোট শিশুদেরও এসময় পুষ্পস্তপক অর্পণ করতে দেখা যায়। ফুলে ফুলে ভরে গেছে শহীদ মিনার।

১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে বাঙালির আত্মদানের দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে মহান শহীদ দিবস। বাঙালির অহংকারের দিন। জাগরণের দিন। তবে এই অর্জন এখন শুধু বাংলাদেশেরই নয়, ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে পালিত হয় সারা বিশ্বে। ১৯৯৯ সালে ইউনেসকো একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।