মেইন ম্যেনু

‘কেন্দ্র থেকে বেরিয়েই দেখি মারামারি, পেটে ছুরি’

কেন্দ্র থেকে বেরিয়েই মারামারির মধ্যে পড়েন প্রকাশ দে; কিছু বুঝে ওঠার আগেই পেটের বাম পাশে ছুরিকাঘাতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। শনিবার সকালে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার সারোয়াতলী ইউনিয়নের বেঙ্গুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। এ কেন্দ্রে সংঘর্ষের ঘটনায় গুলি ও ‍ছুরিকাঘাতে আহত হন কমপক্ষে ছয় জন।

বিকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঘটনার বর্ণনা দেন আহত প্রকাশ (২৩)। তিনি বলেন, “সকালে ভোট দিতে গিয়েছিলাম, কেন্দ্র থেকে ভোট দিয়ে বাইরে আসতেই দেখি মারামারি শুরু হয়ে গেছে। কিছু বুঝে ওঠার আগে হঠাঁ করে দেখি কেউ একজন আমার পেটের বাম পাশে ছুরি মেরে দিয়েছে। আমি মাটিতে পড়ে যাই। এরপর আর কিছু মনে নেই।”

কাদের মধ্যে সংঘর্ষ বা কে ছুরিকাঘাত করেছে তা জানাতে না পারলেও এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছিলেন বলে দাবি করেন প্রকাশ। চমেক হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটিতে আহত ছেলে প্রকাশ দে’র পাশে মেঝেতে নির্বাক বসেছিলেন বাবা অনুপম দে।

তিনি বলেন, “সকালে এক প্রতিবেশীর কাছে খবর পেয়ে ভোট কেন্দ্রে ছুটে যাই। গিয়ে দেখি সে মাটিতে পড়ে আছে। আমি আর কিছুই জানি না।”

বেঙ্গুরা স্কুল কেন্দ্রের সংঘর্ষে প্রকাশ ছাড়াও রশিদ আহম্মদ (৭০), ইউসুফ মিয়া (৫৫), নুরুল আবছার (৫৪), সঞ্জিব আচার্য্য ও মো. সিকান্দার (৫০) নামে আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। আর বোয়ালখালীর এই কেন্দ্রসহ চট্টগ্রামের চার উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে নির্বাচনী সহিংসতায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন।

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে পঞ্চম ধাপের ভোটের দিনের নির্বাচনী সহিংসতায়। এর মধ্যে একজন পটিয়া উপজেলা আশিয়া ইউনিয়নে ও আরেকজন কর্ণফুলীতে বড় উঠান ইউনিয়নে।

পটিয়ার আশিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের আসাদ আলী ফকির মাজার সংলগ্ন মাদ্রাসা কেন্দ্রে দুই সদস্য প্রার্থীর মধ্যে সংঘর্ষ চলাকালে মৃত বাবুল শীল (৬৫) সাধারণ ভোটার।

‘হৃদরোগে আক্রান্ত’ হয়ে তিনি মারা গেছেন বলে পুলিশ জানালেও নিহতের পরিবারের দাবি, বাবুলকে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। এর আগে সকালে কর্ণফুলী থানার বড় উঠান ইউনিয়নের শাহ মিরপুর ফকিরনিরহাট এলাকায় ছুরিকাঘাতে নিহত হন সদস্য প্রার্থী মো. ইয়াসিন (৩৫)।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ইয়াসিনের প্রতিবেশী মো. আলী বলেন, ভোট দিয়ে ফেরার পথে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে যান ইয়াসিন। তিনি বলেন, “ওই সময় আটকে পড়া মহিলাদের সরিয়ে নিতে গেলে সে সংঘর্ষের মাঝখানে পড়ে যায়।”

হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই জহিরুল ইসলাম বলেন, ইয়াসিনের বুকে, পিঠে, পেটে ও মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন আছে। তিনি বলেন, “নির্বাচনী সহিংসতায় আহত ১৫ জন হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছেন।”

আহত এই ১৫ জনের মধ্যে বোয়ালখালী থানার শাকপুরা এলাকায় গোলাগুলির সময় বিল্ডিং থেকে পড়ে আহত হয়েছেন মো. রুবেল (২৫) এবং মো. হোসেন। আর পটিয়ার আজমপুর এলাকার সংঘর্ষে গুলিতে আহত হয়েছেন মো. শহিদ (২৬), মো আলম, মো সাদ্দাম (২৮) ও মেহেরুন্নেছা। এছাড়া সংঘর্ষে আহত হয়ে উত্তর রাঙ্গুনিয়ার জঙ্গল পাড়া এলাকা থেকে চিকিৎসা নিতে এসেছেন ওমর ফারুক (২৬), সাকিব হোসেন (৩৫), মোবারক হোসেন কুরসি (৩০)।