মেইন ম্যেনু

কেন অবিবাহিত মেয়েদের শিবলিঙ্গ স্পর্শ করতে দেওয়া হয় না ?

শিবলিঙ্গের পূজা সারা ভারতেই জনপ্রিয়। বিশেষ বিশেষ পরব উপলক্ষে শিবলিঙ্গের পূজা সারা দেশেই সাড়ম্বরে পালিত হয়ে থাকে। কিন্তু সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা প্রচলিত বিশ্বাস হল এই যে, অবিবাহিত মেয়েদের শিবলিঙ্গের কাছে যাওয়া অনুচিত। কিন্তু কেন গড়ে উঠেছে এমন একটা বিশ্বাস?

প্রাচীন হিন্দু শাস্ত্রে বলা হচ্ছে, যেসব জায়গায় বসে শিব ধ্যান করেছিলেন সেই জায়গাগুলি ছিল অত্যন্ত পবিত্র। শিবের ধ্যানক্ষেত্রের আশেপাশে সাধারণ মা‌নুষ তো দূরস্থান, দেবতা ও অপ্সরাদেরও প্রবেশ ছিল নিষিদ্ধ। কারণ সকলকেই খেয়াল রাখতে হত, শিবের ধ্যানে যাতে কোনওভাবে বিঘ্ন না ঘটে। কারণ শিবের ধ্যানে কোনওরকম বাধা পড়লেই রুষ্ট হবেন শিব। আর শিব রুষ্ট হয়ে একবার ধ্বংসলীলায় মেতে উঠলে সমগ্র সৃষ্টিরই অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়বে।

নারীই পুরুষের ধ্যানভঙ্গের প্রধান কারণ বলে বিবেচিত। কুমারী নারীর সান্নিধ্যে পুরুষের চিত্তবিচলন ঘটার সম্ভাবনা আরও বেশি। সেই পুরুষ দেবতা হলেও নিয়ম অন্যরকম নয়। কাজেই শিবের কাছাকাছি যাওয়ার ব্যাপারে কুমারী মেয়েদের কিছু বিধিনিষেধ প্রচলিত হয়ে গিয়েছে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, মেয়েদের শিব পূজায় কোনও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সারা ভারতেই বহু কু‌মারী মেয়ে শিবকে সন্তুষ্ট করার জন্যে ষোলো সোমবার ব্রত রেখে থাকেন। এই ব্রত অনুসারে পরপর ১৬টি সোমবার উপবাস রাখেন কুমারী মেয়েরা। শ্রাবণ মাসে এই ব্রত রাখলে বিশেষ উপকার পাওয়া যায় বলে বিশ্বাস।

দক্ষিণ ভারতে শিবের পূজা হলে মেয়েরা পু‌রুষদের সাহায্যকারী হিসেবে কাজ করেন‌। উত্তর ভারতে দেখা যায়, স্নানের পর শিবলিঙ্গের মাথায় জল ঢেলে নিজেদের ভক্তির বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছেন তরুণীরা। মেয়েদের শিবভক্তির নানা উল্লেখ রয়েছে নানা পুরাণেও। শিবকে সন্তুষ্ট করতে পারলে নাকি মেয়েরা শিবের মতোই আদর্শ স্বামী লাভ করেন। রামায়ণে কথিত হয়েছে, রামেশ্বরমের শিবলিঙ্গটি তৈরি করেছিলেন স্বয়ং সীতা। রাম শিব পূজার প্রয়োজন বোধ করলে একটি শিবলিঙ্গ আনার জন্য হনুমান কাশী পাড়ি দেন। কিন্তু তাঁর ফিরতে দেরি হওয়ায় সীতাই রামের জন্য একটি শিবলিঙ্গ তৈরি করে দেন।