মেইন ম্যেনু

কেন খুন হলেন রাবি শিক্ষক রেজাউল?

আবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষককে খুন করা হলো। আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর শালবাগানের বটতলা মোড় এলাকায় ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

গত ১২ বছরে চারজন শিক্ষককে এভাবে খুন হতে হলো। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

অধ্যাপক রেজাউল করিম ‘কোমলগান্ধ্যার’ নামে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক পত্রিকা সম্পাদনা করতেন। তিনি ভালো সেতার বাজাতেন এবং ‘সুন্দরম’ ও ‘অরণী’ নামে দুইটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের উপদেষ্টা ছিলেন।

নিহত অধ্যাপকের ভগ্নিপতি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তিনি (রেজাউল করিম) ঘরকুনো স্বভাবের ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় ও লেখাপড়া নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন। এর বাইরে তার অবসর সময় কাটত সঙ্গীত সাধনায়। তিনি নরম ও চাপা স্বভাবের ছিলেন। তার কোনো শত্রু ছিল বলে জানা নেই। তার মতো একজন ব্যক্তি এভাবে নিহত হবে তা তারা কেউ ভাবতে পারেননি।

নিহত রেজাউল করিমের ছেলে সৌরভ বলেন, ‘আমার বাবা কারো শত্রু ছিলেন না। এভাবে তাকে কেন চলে যেতে হবে? আমরা কী এর বিচার পাব?’

তার স্ত্রী হোসনে আরা শিলা বলেন, ‘কী ঘটনা, তার সঙ্গে কী এমন ঘটল, কিছুই বুঝতে পারছি না। সে তো রাজনীতি করত না। কারো সঙ্গে বিরোধ আছে বলেও কখনো শুনিনি। কেন এভাবে তাকে মরতে হবে?’

নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহাদত হোসেন বলেন, হত্যাকাণ্ডের কোনো ক্লু এখনো পাওয়া যায়নি।

তবে রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশানার মো. শামসুদ্দিন বলেন, রেজাউল করিমের ঘাড়ে তিনটি কোপ দেখা গেছে। যা ৭০-৮০ ভাগ গভীরে। ইতিপূর্বে কয়েকজন ব্লগার হত্যাকাণ্ডের ধরনের সঙ্গে এই হত্যার মিল রয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গেও মৌলবাদীদের যোগসূত্র থাকতে পারে। বেশ কিছুদিন আগে রেজাউল করিম বাগমারা এলাকায় একটি গানের স্কুল গড়ে তোলেন। এ নিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল। এ বিষয়টি সামনে নিয়ে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা খতিয়ে দেখছে।

‘সুন্দরম’ সংগঠনের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্থাপন শাখার সেকশন অফিসার হাসন রাজা বলেন, তার সঙ্গে পরশুদিনও পত্রিকা (কোমলগান্ধ্যার) বের করা নিয়ে বিভিন্ন কথা হয়েছে। এটা মৌলবাদীদের পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

রেজাউল করিমের সহকর্মী ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক জহুরুল ইসলাম বলেন, তারা একসঙ্গে লেখাপড়া করেছেন। কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা নেই। ক্লাস-পরীক্ষা আর লেখাপড়া নিয়ে তিনি ব্যস্ত থাকতেন। অবসর সময়ে তিনি সঙ্গীত সাধনা করতেন।

রাবির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেম জানান, তিনি বেহালা বাজাতে পছন্দ করতেন। সঙ্গীত চর্চায়ও তার উৎসাহ ছিল। এ ছাড়া সবসময় তার হাতে ক্যামেরা দেখা যেত। তার ফটোগ্রাফিতে শখ ছিল।

গত ২০১৪ সালের ১৫ নভেম্বর দুপুরে খুন হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এ কে এম শফিউল ইসলাম। তখন জঙ্গি সংগঠন আনসার উল্লাহ বাংলা টিম এ হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে। তবে পুলিশ তা নাকচ করে দেয়। এর আগে ২০০৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর ভোরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সংলগ্ন বিনোদপুর এলাকায় কুপিয়ে হত্যা করা হয় অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনুসকে। ২০০৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের আবাসিক এলাকা থেকে নিখোঁজ হন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এস তাহের। দুইদিন পর ক্যাম্পাসের বাসার পাশের ম্যানহোলের ভেতরে তার লাশ পাওয়া যায়।