মেইন ম্যেনু

কেন খোঁচান : সাংবাদিকদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় ১৪ দলের শরিক জাসদকে নিয়ে খোঁচানোকে নতুন করে কোনো এসাইন বলে মন্তব্য করেছেন ১৪ দলের মুখপাত্র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১৪ দলের বৈঠক শেষে বিফ্রিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন তিনি।

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ১৪ দলের অন্যতম শরিক জাসদের পঁচাত্তর পূর্ব ভূমিকা নিয়ে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা প্রশ্ন তোলায় বাগ্যুদ্ধ শুরু হয়, তা নিয়ে আজকের বৈঠকে কোন ইফেক্ট পড়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে জাসদের শরীফ নুরুল আম্বিয়া ও মইনউদ্দিন খান বাদলকে দেখিয়ে দিয়ে নাসিম বলেন, ‘আমার পাশে জাসদের দুইজন পাওয়ার ফুল সিনিয়র নেতা বসে আছেন। আমরা সব সময় একসঙ্গে থাকি তাই একটু প্রেম-ভালবাসার ঘাটতি হতেই পারে।’

একই প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সভাপতিমন্ডলীর এই সদস্য বলেন, ‘এই সমস্ত কথা বলে আবার নতুন করে এসাইন করা হচ্ছে। আমরা তো ভালভাবে বসলাম, আলোচনা করলাম। আপনি (সাংবাদিক) বললেন, আলোচনা হয়েছে, এটা আপনি (সাংবাদিক) কেন খোঁচান ?

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের আন্দোলন প্রসঙ্গে নাসিম বলেন, শিক্ষকদের প্রতি আমাদের সহানুভূতি আছে। তারা সম্মানীয় এবং শ্রদ্ধেয় সমাজ। আমরা তাদের আহ্বান জানাবো তারা যেন কর্মবিরতি করে শিক্ষা কার্যক্রমকে ব্যাহত না করে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় সমস্যা সমাধান করে।

দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, সরকার এবং ত্রাণ মন্ত্রণালয়কে আমরা আরো বন্যাকবলিত দুর্গত মানুষদের পাশে সাহায্য নিয়ে দাঁড়ানো এবং তাদের পুনর্বাসনের জন্য আহ্বান জানিয়েছি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী, ঢাকা মহানগর ১৪ দলের সমন্বয়ক এবং মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া।

নাসিম আরো বলেন, ১২ তারিখে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের নেতৃত্বে আমাদের দুইটি টিম উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে ত্রাণ নিয়ে যাবেন। উত্তরাঞ্চল টিমের নেতৃত্ব দেবেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। তিনি কুড়িগ্রাম, বগুড়া, গাইবান্ধা ও সিরাজগঞ্জে বন্যা দুর্গত অঞ্চলে ত্রাণ বিতরণ করবেন। অপরদিকে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিমের নেতৃত্বে দক্ষিণাঞ্চলে অপর টিমটি ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে সুবিধামতো সময়ে রওনা দেবে।

কমপ্লেইন ‘সেল’ গঠনের সিদ্ধান্ত :

এর আগে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতারা ১৪ দলের সঙ্গে তাদের সৌজন্য সাক্ষাতে একটি দাবি তুলেছিল। সেটা হল একটি ‘সেল’ করা।

এ বিষয়ে নাসিম বলেন, ‘তাই আমরা একটি সেল করবো। যেকোন সময় যেকোন পরিস্থিতিতে এই সেল কাজ করবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রীও বলেছে, বাংলাদেশে সবাই সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু বলে কিছু নাই। আমরাও তাই মনে করি।’

যেকোন সময় যেকোন অভিযোগ পেলে আমরা বসে সিদ্ধান্ত নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানাব বলেও যোগ করেন তিনি।

এসময় তিনিসহ এই সেলে যারা থাকবেন তাদের নাম উল্লেখ করেন। সেলের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন আওয়ামী লীগের উপ-দফতর সম্পাদক ও ১৪ দলের দফতর সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস। এ ছাড়াও থাকবেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদের শরীফ নুরুল আম্বিয়া, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ কেন্দ্রীয় ১৪ দলের আরো কিছু নেতৃবৃন্দ।

এ ছাড়াও আসন্ন ঈদুল আজহা এবং শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আইনশৃংখলা পরিস্থিতি ঠিক রাখার আহ্বান জানান আওয়ামী লীগ সভাপতিমন্ডলীর এই সদস্য।

সরকার ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত আমেরিকান জরিপ সংস্থা ‘আইআরআই’ এর রিপোর্ট প্রসঙ্গে নাসিম বলেন, সরকারে যে থাকে তার জনপ্রিয়তা হবে এটা স্বাভাবিক। যে নেতা। তার তো জনপ্রিয়তা বাড়বেই। সঙ্গে সঙ্গে সরকারেরও জনপ্রিয়তা বাড়বে।

আমাদের অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার, ১৪ দল মনে করে এবং আমাদের সরকারও সেটা মনে করে, সংবিধান অনুসারে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন হবে। সংবিধান অনুসারে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অধীনেই নির্বাচন হবে। এটা আমাদের সিদ্ধান্ত আছে।

‘জরিপে তাদের কি বক্তব্য, সেটা আমাদের দেখার দরকার নেই। আমি যেটা বলেছি, আমাদের যেটা সিদ্ধান্ত আছে, আমি মনে করি সেটাই আমাদের সঠিক সিদ্ধান্ত।’ আইআরআই জরিপে দ্রুত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দেয়ার দাবির প্রেক্ষিতে এক প্রশ্নের জবাবে নাসিম একথা বলেন।

ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) সভাপতি এনামুল হকের সভাপতিত্বে বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, আব্দুস সাত্তার, ফরিদুরনাহার লাইলী, আফজাল হোসেন, মৃনাল কান্তি দাস, সুজিত রায় নন্দী, এস এম কামাল, আমিনুল ইসলাম আমিন, জাসদের শরীফ নূরুল আম্বিয়া, মইনউদ্দিন খান বাদল, ওয়ার্র্কার্স পার্টির কামরুল আহসান, গণতন্ত্রী পার্টির শাহাদাত হোসেন, নূরুর রহমান সেলিম, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম, অসিত বরণ রায়, বাসদের রেজাউর রশিদ খান প্রমুখ।