মেইন ম্যেনু

কেন পাকিস্তানের সৃষ্টি হয়েছিল?

কেন পাকিস্তানের সৃষ্টি হয়েছিল? এমন প্রশ্ন তুলেছে সে দেশের প্রথম সারির সংবাদপত্র ‘দি নিউজ ইন্টারন্যাশনাল’। ১৪ আগস্ট দেশটির স্বাধীনতা দিবস, আর সে উপলক্ষেই ওই পত্রিকায় ‘এ নিউ রোডম্যাপ’ শিরোনামে একটি সম্পাদকীয় লেখা হয়। যেখানে এ প্রশ্ন তুলা হয়।

হতাশার সুরে সম্পাদকীয়তে বলা হয়, সংখ্যালঘুদের অধিকার সুরক্ষিত রাখার ‘অভিনব স্বপ্ন’ থেকে বিচ্যুৎ হয়েছে পাকিস্তান। তারা বলেছে, এবারের ১৪ অগাস্ট আমাদের ভাবতে বসা উচিৎ, কেন পাকিস্তান তৈরি হয়েছিল, কীভাবে আমরা সেই লক্ষ্য থেকে সরে গেছি।

১৯৪৭ সালে পাকিস্তান গঠনের পর দেশটির প্রতিষ্ঠাতা মহম্মদ আলি জিন্নাহ বলেছিলেন, ‘শুধু ধর্মীয় নয়, রাজনৈতিক অর্থেও এ দেশে হিন্দুরা হিন্দু থাকবে না, মুসলিমরা আর মুসলিম থাকবে না। ধর্ম প্রত্যেক নাগরিকের ব্যক্তিগত বিশ্বাসের ব্যাপার।’

সংবাদপত্রটি বলেছে, পাকিস্তান তৈরি হয়েছিল সংখ্যালঘুদের অর্থাৎ ভারত থেকে আসা মুসলিমদের অধিকার রক্ষা করতে। সুতরাং এটাই প্রত্যাশিত ছিল যে, আগামীদিনে নতুন সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলোর অধিকারও সুরক্ষিত রাখবে পাকিস্তান। কিন্তু সেই মহান স্বপ্ন থেকে কীভাবে যে আমরা বিচ্যুৎ হলাম, সে এক ট্র্যাজিক কাহিনী যা নতুন করে বলার দরকার হয় না। আমাদের সংখ্যালঘুদের আমরা যে সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছি, এটা শুধু ওদের উপেক্ষা করাই নয়। ওদের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা ঠেকাতে পারিনি। প্রয়োজনীয় আইন তৈরি করতে পারিনি আমরা।

যদিও সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলোকে আরো বড় স্বীকৃতি দেয়ার জন্য গত ১১ অগাস্ট ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি ও সেনেটে প্রস্তাব গৃহীত হওয়াকে ‘ভালো খবর’ বলেছে সংবাদপত্রটি।

সম্পাদকীয়তে বলা হয়, হয়তো প্রস্তাবিত জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন এই ভুলে যাওয়া মানুষগুলোকে পাকিস্তানি নাগরিকের মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে পারবে, যারা সমান অধিকার, সুরক্ষা চাইতে পারেন। তবে এই মূহূর্তে যা পরিস্থিতি, তাতে কিছুই তেমন বদলায়নি। সংখ্যালঘু হত্যা, তাদের ওপর অন্যান্য অপরাধ, হিংসার ঘটনা নিয়মিত ঘটেই চলেছে।

পাকিস্তানের সবুজ পতাকার সাদা অংশটি সংখ্যালঘুদের অস্তিত্ব বহন করে। কিন্তু গত কয়েক দশক জুড়ে সেখানে একাধিকবার রক্তের দাগ লেগেছে।