মেইন ম্যেনু

কেন পৃথিবীতে ভারত-বাংলাদেশের সীমারেখা সবচে উদ্ভট?

আসছে ৩১শে জুলাই ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক বিনিময় হবে ছিটমহলগুলোর। গেল ৬ই জুন নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের সময় দুদেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক স্থলসীমা বাস্তবায়ন চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে ছিটমহল বিনিময়ে সম্মত হয় বাংলাদেশ-ভারত। বাংলাদেশ-ভারত সীমানাকে পৃথিবীর সবচেয়ে উদ্ভট উল্লেখ করে এ সীমানার মধ্যে কী করে ছিটমহলের অস্তিত্ব এল তা নিয়ে এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইকোনমিস্ট। একইসঙ্গে এ সঙ্কট সমাধানের কারণে তিনটি প্রভাব পড়ার কথাও চিহ্নিত করা হয়েছে প্রতিবেদনে। বলা হয়েছে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার ছিটমহল বিনিময় হয়ে গেলে বিশ্বের ছিটমহল সংখ্যা অনেক কমে যাবে।

বিশ্বে এমন পাল্টাপাল্টি ছিটমহলের অস্তিত্বের নজির আর নেই উল্লেখ করে প্রতিবেদনের শুরুতেই বলা হয়, ‘চলতি বছর বিশ্বের উদ্ভট এক ভৌগোলিক রেখার সমাধান হলো। ৩১শে জুলাই পরস্পরের মধ্যে ১৬২টি ছিটমহল বিনিময় করবে বাংলাদেশ-ভারত। এদিন ১১১টি বাংলাদেশি এবং ৫১টি ভারতীয় ছিটমহল বিনিময় হবে।’ বেশিরভাগ মানচিত্রেই ছিটমহলগুলোর অস্তিত্ব ছিল না উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, কেবল মানচিত্রই নয়; স্থলভাগেও ছিল না স্বীকৃতি। এরপরও ব্যাপক আকারে পাসপোর্ট আর ভিসা নিয়ন্ত্রণের কারণে ৫০ হাজার মানুষের জন্য এ ছিটমহলগুলো দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৪৭ সাল থেকে ৪ হাজার ১শ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমানা শেয়ার করে আসছে ভারত-বাংলাদেশ। আর এ সীমানাটি বিশ্বের পঞ্চম দীর্ঘ সীমানা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।

কীভাবে গড়ে উঠলো উদ্ভট ছিটমহলগুলো?
ইকোনমিস্ট-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী বেশ কয়েক শতক আগে দুই মহারাজার মধ্যে কয়েক দফার দাবা খেলার অংশ হিসেবে গঠিত হয় ছিটমহলগুলো (ভূখন্ডগুলোকে সেসময় বাজি জেতার পুরস্কার হিসেবে ব্যবহার করা হত)। রাজনৈতিক ভূগোলবিদ রীচ জোনসের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৭১১ এবং ১৭১৩ সালে দিল্লির মুঘল সম্রাট ও কুচবিহারের মহারাজার মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে বিশাল এলাকা থেকে ভূ-খন্ডগুলিকে বাদ দেয়া হয়। ছোটখাটো যুদ্ধ এড়াতে তারা এমন পদক্ষেপ নিয়েছিলেন বলে বলা হয়ে থাকে। পঞ্চাশ বছর পর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এ অগোছালো মানচিত্র পরিবর্তন করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়।

ভারত-পাকিস্তান বিভক্তির সময় কোনো রাষ্ট্রের আওতায় না পড়ায় নো-ম্যানস ল্যান্ডে পরিণত হয় ছিটমহলগুলো। ১৯৪৯ সালে ভারতে যুক্ত হওয়ার ইচ্ছের কথা জানান, কুচবিহারের হিন্দু মহারাজা। আর তখন তিনি তার সঙ্গে নিয়ে আসলেন উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া মুঘল এবং ব্রিটিশ কর্তৃত্বপরায়ণতা। আর তখন ওপারে থাকা ছিটমহলগুলো পূর্ব পাকিস্তান ‘গিলে নিয়েছে’ এমন মন্তব্য করে প্রতিবেদনে বলা তবে তা হজম করতে পারেনি।

ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ আর ভারতের মধ্যে ছিটমহল বিনিময়ের ব্যাপারে সর্বপ্রথম সমঝোতা হয়। সেসময় হংকং আইল্যান্ড এর অর্ধেক মাপের এলাকা হারানোর ব্যাপারে সেসময়কার ভারত সরকার রাজি হলেও দুর্বল সরকার এবং জাতীয়তাবাদের কারণে ব্যাহত হয় ভারতের দিককার অগ্রগতি।