মেইন ম্যেনু

কেবল জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে জামায়াত ছাড়তে পারে বিএনপি

বিএনপি জঙ্গিবাদ বিরোধী ঐক্য গড়ার জন্য জাতীয় স্বার্থে জামায়াতকে দূরে রাখতে রাজি। কারণ জামায়াতের তরফ থেকেই বলা হয়েছে যদি সরকারের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদ প্রশয় দেওয়ার অভিযোগে এবং দেশে গণতান্ত্রিক সরকার নেই বলে যেসব জঙ্গিবাদী কর্মকান্ড হচ্ছে ওই সব ঠেকানোর জন্য বিএনপি জাতীয় ঐক্য গড়ে তাহলে জামায়াত স্বেচ্ছায় দূরে থাকবে। কারণ সরকারের অভিযোগ জামায়াত জঙ্গিবাদী কর্মকান্ড করছে। এই অভিযোগের কারণে তারা জাতীয় ঐক্যের মধ্যে বিএনপির সঙ্গে থাকার জন্য খুব বেশি অনড় অবস্থানে নেই। কারণ জামায়াতের কাছে এখন জাতীয় ঐক্যই বড় ইস্যু। বিএনপি সেই ঐক্য করবে এটাই মনে করছে তারা। সেই জন্য তারা নিজেরা দূরে থাকতে চাইছে। তবে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান জামায়াতকে দূরে সরিয়ে রাখার কিংবা জমায়াত ছাড়ার মতো কোন সিদ্ধান্ত নেননি।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান বলেছেন, বিএনপি জামায়াত ছাড়বে এই ধরনের আনুষ্ঠানিক কোন সিদ্ধান্ত নেননি ম্যাডাম। তাছাড়া জামায়াতকেতো নিয়ে বিএনপি সব কর্মসূচী করছে না। এটা সরকার ভুলে যাচ্ছে বিএনপি একটি দল। জামায়াত আরো একটি দল। বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটে ২০টি দল রয়েছে। এরমধ্যে জামায়াত একটি। জোটের ২০ দলের আলাদা আলাদা এজেন্ডা রয়েছে। লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য রয়েছে। তেমনি জামায়াতেরও রয়েছে। জামায়াত তাদের মতো করে কাজ করে ও দল পরিচালনা করে। এই ক্ষেত্রে তারা বিএনপির কাছ থেকে পরামর্শ নেয় না। বিএনপিও পরামর্শ নিতে যায় না। এখন সবাই মনে করে বিএনপি ও জামায়াত এক। এটা মনে করার কোন কারণ নেই। জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির জোট কেবল নির্বাচনী জোট। এর বাইরে আর কোন সম্পর্ক নেই। নির্বাচনী জোটের সঙ্গে দলের কর্মকান্ড সম্পৃক্ত নয়। নির্বাচনের ব্যাপারে বিএনপি ও জামায়াত এক সঙ্গে কাজ করবে।

তারেক রহমানের ঘনিষ্ট বিএনপির এক সিনিয়র নেতা বলেন, বিএনপি জামায়াত নির্বাচনী জোট। এই জন্য নির্বাচনের সময়ে এক সঙ্গে কাজ করা হবে। এর বাইরে বিএনপির যত কর্মসূচী এটা বিএনপি করছে আলাদা করে। বিএনপি ও জামায়াত এক জোটে থাকার কারণে সবাই এক করে ফেলে। এতে করে একটা ঝামেলা তৈরি হয়। আসলে বিষয়টিতো তা নয়। বিষয়টি হলো জমায়াত কখন কি করবে সেটা তাদের ব্যাপার। জামায়াতের বিরুদ্ধে সরকার ও বিভিন্ন মহল থেকে নেতিবাচক প্রচারণার কারণে আন্তর্জাতিক মহল বার বার জামায়াত ছাড়ার কথা বলেছে। এখনও চাপ দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো বিএনপি জামায়াতকে জোট থেকে সরিয়ে দিলেই সরকারী জোট তাদেরকে নিয়ে নিবে। কারণ আগে জামায়াতের যে সব নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিলো মানবতাবিরোধী অপরাধের। ওই সব নেতাদের বিচার প্রায় শেষ। মীর কাসেমের রিভিউ আপিল শুনানীর জন্য রয়েছে। শীর্ষ জামায়াত নেতাদের বিচার শেষ। এই অবস্থায় যারা জামায়াতের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নেই। সেই হিসাবে জামায়াতে দোষারোপ করা যাবে না। আর যদি যায় সরকার জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার চেষ্টা করছে। সেটাই করুক। বিএনপিকে কেন জামায়াত ছাড়তে হবে। বিএনপির জামায়াত ছাড়া না ছাড়ায় এখন খুব একটা প্রভাব পড়বে না।

এই যখন বিএনপির অবস্থান তখন প্রফেসর এমাজউদ্দিন আহমদের বরাতে খবর প্রকাশ হয়েছে যে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জামায়াত ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই খবরে নানা মহলে বিভিন্ন আলোচনাও চলছে। এই ব্যাপারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, জাতীয় ঐক্য গড়তে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জামায়াতকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কি না তা আমি জানি না। আর এই বিষয়ে আমার কোন ধারনাও নেই। তবে বেগম জিয়া সিদ্ধান্ত নিলেও নিতে পারেন।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, কিছু কিছু গণমাধ্যমে এসেছে ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড এমাজ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, জামায়াত ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বেগম জিয়া। আসলে তিনি এ কথা বলেননি। আমি তার পাশেই বসে ছিলাম। আসলে তার ‘এমাজ উদ্দিন আহমেদ’ বক্তব্যে ভিন্নভাবে প্রচার করা হয়েছে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, জামায়াতকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে আমার জানা নেই।