মেইন ম্যেনু

কেমন ছিল দূর্ধর্ষ মঙ্গোলরা?

মঙ্গোলিয়া এখনো আছে, কিন্তু আজকের মঙ্গোলদের পূর্বপুরুষ, আদীম মঙ্গোলরা যারা ঘোড়ায় চড়ে দাপিয়ে বেড়াত পূরো রাজ্য তারা ইতিহাসের পাতা ছাড়া আর কোথাও নেই। মঙ্গোল বলতেই মনে আসে উৎপাত করে বেড়ানো নির্মম এক জাতি। তবে আজ আমরা তাদের সম্পর্কে আরও কিছু তথ্য জানব।

১। মঙ্গোলরা মাত্র ৩ বছর বয়স থেকে ঘোড়ায় চড়তে শিখত। শিশুদের মায়েদের দায়িত্ব ছিল তাকে এই প্রশিক্ষণ দেওয়ার। প্রারম্ভিক শরীরচর্চা হিসেবে তাকে বেঁধে দেওয়া হত ঘোড়ার পেছনে, যাতে দূর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায় শিশুটি। প্রচন্ড গতিতে শিশুটিকে পিঠে নিয়ে ছুটে চলত সেই ঘোড়া। এর ২ বছর পরে শিশুটিকে দেওয়া হত তীর ধনুক। একজন মঙ্গোলিয়াল ছেলে শিশু খুব কম বয়সে যুদ্ধে যোগ দেবে এটাই আশা করত সবাই। এমনকি তাকে উৎসাহিত করা হত স্যাডলে ঘুমানোর জন্য যাতে সে প্রয়োজনমত সহজে জেগে যুদ্ধে যোগ দিতে পারে।

২। মঙ্গোলদের ছিল প্রখর দৃষ্টিশক্তি। অবাক করা বিষয় যে, ৪ মাইল দূরে বাঁশের ঝোপে লুকিয়ে থাকা শত্রুকে তারা চিহ্নিত করতে পারত এবং ১৮ মাইল দূর থেকেই আলাদা করে বুঝতে পারত মানুষ আর পশুর অবয়ব। তারা তাদের চারপাশকে খুব ভালভাবে খেয়াল করত এবং নিজেদের অভিজ্ঞতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করত। আবহাওয়া, খাদ্যের যোগান, পানির সরবরাহ সবকিছুই দক্ষতার সাথে বিচার এবং ব্যবহার করতে জানত তারা।

৩। মঙ্গোল সভ্যতার পটচিত্র বা দেয়ালচিত্র দেখলে মনে হতে পারে এখানে নারীরা ছিল উপেক্ষিত, অবহেলিত। কিন্তু তা নয়। মঙ্গোল পুরুষ যখন ব্যাস্ত একজন মহান যোদ্ধা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠায়, মঙ্গোল নারী তখন ভার নিতেন সমাজ পরিচালনার। তারা ছিল ক্ষমতার অধিকারী যদিও অর্থনীতি, রাজনীতি ভাল লাগত না তাদের! মঙ্গোল সভ্যতায় বেশ কিছু নারী শাসকের কথাও জানা যায়। একজন শক্তিশালী মঙ্গোলিয়ান রানীর নাম ছিল ‘মান্ধুহাই’।

৪। মঙ্গোলরা দীর্ঘদিন না খেয়ে খাকতে পারত। তাদেরকে দিনের শুরুতে দেওয়া হত শুকনো দই যা পানির সাথে মিলিয়ে খেতে হত। আর দেওয়া হত কয়েক টুকরো মাংস এবং কিইমিস নামের একপ্রকারের পানীয়। এই প্রশিক্ষণ তাদের দেওয়া হত যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে। যুদ্ধে তারা লড়ত অমানুষের মত, অনেক সময় থাকতে হত না খেয়ে। তবে এটা কোন ব্যাপারই ছিল না তাদের জন্য।

৫। যুদ্ধে মঙ্গোলরা ২ ধরণের তীর ব্যবহার করত। মঙ্গোলদের ধনুক অন্তত ৭৫ কেজি ওজনের তীর নিক্ষেপ করতে পারত এবং সেই তীর ২৫০ গজ দূর পর্যন্ত যেত। জানা যায়, মঙ্গলরা ভারি অস্ত্র ব্যবহার করত কাছের শত্রুকে নিধন করতে আর হালকা তীর ছিল দূরবর্তী লক্ষ্যের জন্য।

৬। মঙ্গোলরা মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ এবং গুপ্তচর বৃত্তিতে ভীষন পারদর্শী ছিল। তাদের জন্য যুদ্ধ শুরু হত যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশের অনেক আগে থেকেই। শত্রুপক্ষের যাবতীয় খোঁজখবর নিত তারা। খুজে বের করত দূর্বলতা, শক্তি। স্যার জন মান্দাভাইল তাদের এই প্রবৃত্তিকে নাম দিয়েছেন ‘great dread’। তারা অনেক আগে থেকে যুদ্ধ কৌশল নির্ধারণ করত। প্রয়োজনে শত্রুরাষ্ট্রের জনগনের মাঝে মিশে যেত, তাদের একজন হয়ে বের করে আনত তাদের খবর।

৭। মঙ্গোলরা তাঁবু বানানো এবং বহন করতে পারদর্শী ছিল। তারা বৃত্তাকার বিশাল ছাউনি তৈরি করত এবং যুদ্ধের সময় এগুলোই হত তাদের আস্তানা। বহুবছর আগের তাদের এই তাবু তৈরির ধরণ এখনো অনুসরণ করা হয়।