মেইন ম্যেনু

কেমন হবে পথ শিশুদের নববর্ষ?

জীবনযুদ্ধে সুবিধা বঞ্চিত। সহজে বললে অবহেলিত, অবাঞ্চিত। সমাজ থেকে বহুদূরে সমাজেরই অংশ। আসলে ওরা টোকাই, সাবেক স্বৈরশাসকের দৃষ্টিতে ‘পথকলি’।

এই সুবিধা বঞ্চিত শিশুগুলোরও স্বপ্ন থাকে, আনন্দ থাকে, থাকে উৎসবও। তবে তাদের উৎসবগুলো আমাদের মত নয়। আজ বাঙালি জাতির সব থেকে বড় আনন্দের দিন। ১৪২৩ বাংলা নববর্ষকে স্বাগতম জানাচ্ছে পুরো জাতি।

তবে তাদের অপেক্ষা ভিন্ন। পহেলা বৈশাখ বলতে ওরা বুঝে কিছু নতুন জামা-কাপড় বন্ধুদের সাথে ঘোরাঘুরি এবং মানুষে থেকে চেয়ে কিছু পাওয়া।

মহাখালী বস্তিতে থাকা জীবন বলছে তার বৈশাখী পরিকল্পনা নিয়ে। মা অনেক কষ্ট করে ২৫০ টাকা দিয়ে একটা প্যান্ট আর গেঞ্জি কিনে দিয়েছে। কাল এই নতুন জামা পরে বন্ধুদের সাথে মেলায় যাবে, ঘুরবে বাঁশিও বাজাবে।

তাবে তার মা তারা বিবি বলেন, ‘অনেক কষ্ট করে জমানো টাকা দিয়ে ছেলের ইচ্ছে পূরণ করছি, এতেই আমার বড় শান্তি।

এদিকে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে বৈশাখী স্টিকার, পতাকা ও ফিতা বিক্রি করছে রমজান আলী। বাবা মা কেউই নেই। এখানেই থাকে। কাল সেও মেলায় যাবে বন্ধুদের সাথে ঘুরবে। তবে নতুন জামা নেই তার। কিভাবে কিনবে তার তো টাকা নেই।

রমজান বলছে, স্যার এগুলা বেইচা কাল মেলায় যামু, ঘুরমু। পান্তা-ইলিশ খাবা? হ স্যার খামু। অনেক ভালো স্যার ওনারা আমাদের খাবায়।

তাদের স্বপ্নগুলো একটু আলাদা। আদর করার মত কেউ নেই। যত্ন করার মত কেউ নেই। তবুও নিজেদের ছোট ছোট স্বপ্নগুলো নিজেরাই পূরণ করে।