মেইন ম্যেনু

কেমন হবে পূজার সাজ

পূজা আসার দু-এক মাস আগে থেকেই হিন্দু ধর্মাবলম্বী নারীদের মনের মধ্যে যেন সারাক্ষণ রাগ দরবারি বেজে চলে। আর শুরু হয় নিজেকে লক্ষ্মীরূপে নিজেকে সাজিয়ে তোলার সরঞ্জামের তালিকা। পূজা মানেই যেন লাল-সাদার আমেজ। পূজার সাজ নিয়ে বিস্তারিত জানাচ্ছেন ওমেন্স ওয়ার্ল্ডের রূপবিশেষজ্ঞ কণা আলম

দেখতে দেখতে চলেই এলো শারদীয় দুর্গাপূজা। এসে গেল হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জমজমাট আনন্দ আর ভক্তিরসে ভেজার ১০ দিন। যদিও ১০ দিনব্যাপী এ পূজার ব্যাপ্তি, কিন্তু ষষ্ঠ থেকে দশম অর্থাৎ ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত এ পূজার মূল আকর্ষণ। আর পূজার এ আকর্ষণে ম-পে ম-পে পুজা-অর্চনা আর দেবী দর্শন করে কাটাবেন সবাই। নারী-পুরুষ, কিশোর-কিশোরী, যুবক-যুবতী, পৌঢ়- বাদ যাবেন না কেউ। তবে পুজায় পুরুষদের পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে তেমন ঝামেলা হয় না বললেই চলে। ধুতি-পাঞ্জাবি-ফতুয়া-পাজামা-চুড়িদার থেকে জিন্স-টি-শার্ট সবই চলে। কিন্তু নারীদের সাজ পোশাকের ক্ষেত্রে বিশেষ করে ষষ্ঠী থেকে দশমীর দিন পর্যন্ত এ বিশেষ সাজের একটু নজর রাখতেই হয়। আর সেই বিশেষ লুক নিয়েই এবারের আয়োজন। সপ্তমী, অষ্টমী, নবমীতে নিজের পছন্দমতো জিন্সের প্যান্ট, ফতুয়া কিংবা সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে সাজলেও দশমীর দিন একটু যেন আলাদা। এদিন সবাই চায় পূজার সাজে নিজেকে সাজিয়ে তুলতে। লম্বা হাতার কুঁচি দেয়া ব্লাউজ কিংবা ঘটি হাতার ব্লাউজের সঙ্গে লালপেড়ে গরদের শাড়িতে সত্যিই যেন পূজার আমেজ ফুটে ওঠে। লাল-সাদা ঢাকাই জামদানি পরলেও ভালো লাগবে। সঙ্গে খোঁপায় গুঁজে দিতে পারেন শিউলি কিংবা বেলি ফুলের মালা। আবার খোলা চুলের একপাশে গুঁজে দিতে পারেন যে কোনো তাজা ফুল। মেয়েদের ক্ষেত্রে চার দিনে চার পোশাক নয় বরং চার দিনে চার লুকÑ এটিই হোক পূজার ফ্যাশনধারা।

মহাষষ্ঠীর বোধনের আলোতে : পূজার প্রথম দিন। আজ মা দূর্গাকে ঘরে তুলে নিতে আপনার পছন্দমতো এবং আরামদায়ক পোশাক পরতে পারেন। ত্বকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে মুখে, গলায় ও ঘাড়ে ফাউন্ডেশন লাগিয়ে নিন। এর ওপরে আলতো করে পাউডার এবং সামান্য বেজ কম্প্যাক্ট বুলিয়ে নিন। চোখের পুরোটা পাতায় ডিপ ব্রাউন বা পিঙ্ক আইশ্যাডো লাগান। চোখের উপরের পাতায় পেন্সিল আইলাইনার দিয়ে সরু লাইন টেনে নিতে পারেন। গালে দিন হালকা ব্রাউন ব্লাশঅনের ছোঁয়া। লাইট পিঙ্ক, কোরাল বা মভ কালারের লিপস্টিক। ট্রেন্ডি বা ট্র্যাডিশনাল কোনো হেয়ার কাট করে সেট করে নিতে পারেন অথবা ব্লো-ড্রাই করে নিতে পারেন। পনিটেইল বা বেণীও করা যেতে পারে।

মহাসপ্তমীর স্বর্ণবেলাতে : ষষ্ঠি এবং সপ্তমীতে প্রায় একইভাবে মার্জিত ও হালকা মেক আপ ব্যবহার করতে পারেন। তবে আজকে চোখের ওপরের পাতায় আইলাইনার দিয়ে নয়ন দুটোকে সাজিয়ে তুলতে পারেন, আর কপালে স্টোনের টিপ সাজটাকে আরো ফুটিয়ে তুলবে। সামান্য ব্লাশঅন আর ডার্ক ম্যাজেন্টা রঙের লিপস্টিক পরে আপনি সপ্তমীর পুজোতে যাবেন।

মহাষ্টমীর মহাসাজ : মহাষ্টমীর সন্ধ্যেবেলায় যে কোনো পোশাক বা শাড়ির সঙ্গে হালকা খোঁপা করে একটা সাদা ফুলের মালা জড়িয়ে দিন। কপালে থাকবে একটি বড় ময়ুরকণ্ঠি টিপ। কুমকুম বা সিঁদুর পরে সিঁথির প্রান্তে একটা ছোট্ট লার রঙের টিপ পরুন। আজ একটু গাঢ় মেকাপ করতে পারেন। মুখ ক্লিন করে টোনিং করে নিন। ওয়াটার বেজড ফাউন্ডেশন ভালোভাবে ব্লেন্ড করে মুখে, গলায় ও ঘাড়ে লাগিয়ে নিন। এর ওপরে কম্প্যাক্টের প্রলেপ বুলিয়ে নিতে পারেন। ড্রেসের কালারের সঙ্গে মিলিয়ে বা কন্ট্রাস্ট করে চোখে শ্যাডো লাগাতে পারেন। এরপর ঘন করে মাশকারা লাগিয়ে নিন। লিপ পেন্সিল দিয়ে ঠোঁট এঁকে লিপস্টিক পরুন। মহানবমীর মোহময়ী সন্ধ্যায় : সন্ধ্যার কনে দেখা আলো ফুরিয়ে যাবার পরপরই সাজটা শুরু করুন। আজ চুলটা খোলাই রাখতে পারেন আর কপালে পরুন পোশাকের সঙ্গে ম্যাচিং করে একটা টিপ। আজ কিন্তু মেকআপটা সামান্য লাউড হবে। নয়ন যুগলকে আজ একটু বেশি ভালোবেসে আই লাইনার, মাসকারা, কাজল, আই শ্যাডো দিয়ে সাজিয়ে তুলুন আর পোশাকের সঙ্গে ম্যাচ করে মেকআপ এ একটু ব্রোঞ্জ এফেক্ট আনার চেষ্টা করুন। ডার্ক লিপস্টিক আর তাতে মানানসই ব্রোঞ্জ গ্লস দিন।

দশমীর বরণ বেলায় : দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর দিন। যদিও তার চলে যাওয়ায় দুঃখ আছে তবে সেই সঙ্গে পরেরবার তার ফিরে আসার প্রতিশ্রুতির বাণীও আছে। তাই আজ শাড়ি পরলেই বেশি ভালো মানাবে। আটপৌড় শাড়িটা পরে মাথায় ঘোমটা দিয়ে বড় করে একটা সিঁদুরের টিপ, পায়ে আলতা দিলে ভালো লাগবে। এদিন অসংযমী সাজটা হওয়া চাই একদম ‘ঝাক্কাস’। লাল, গোলাপী, গেরুয়া, কাঁচা হলুদ এসব রঙের শাড়ি পরা যেতে পারে। মেকাপের জন্য প্রথমে বেইজ করার জন্য ত্বকের টোনের সঙ্গে মিলিয়ে ট্রান্সলুসেন্ট পাউডার বা ফাউন্ডেশন লাগাতে পারেন। চোখে অব হোয়াইট হাইলাইট, ব্ল্যাক-ব্রাউনের কম্বিনেশনে আইশ্যাডো, পেন্সিল আইলাইনারের সফট লাইন এবং মাশকারা। ঠোঁটে লাইট পিঙ্ক, কোরাল বা মভ কালারের লিপস্টিক বা লিপস্টিকের বদলে লিপগ্লস লাগাতে পারেন। সঙ্গে ব্রাউন ব্লাশঅন। সালোয়ার-কামিজ হলে চুল ব্লোড্রাই করতে পারেন। শাড়ির সঙ্গে ফ্রন্ট সেটিং করে টং, ব্লুমিং বান, ব্রেলা বান, রিং বান, ওয়েভ বান, করপোরেট বান, ফ্রেঞ্চ বান, ফ্রেঞ্চ নট, বিরা বান, ওয়ান বান, রিং লেস, ফ্রন্ট সেটিং, র‌্যাফলস, পিলার বান ইত্যাদি এমনকি হাত খোঁপা বা বেণীও করতে পারেন। পূজার সাজের অন্যতম অনুষঙ্গ হলোÑ বড় টিপ, আলতা, সিঁদুর, মেহেদি ইত্যাদি। টিপ ভালো কোয়ালিটির আঠাযুক্ত হলে ভালো হয়।

পূজার দিনের অনুষ্ঠানের সাজ : পূজার দিনের সাজের ক্ষেত্রে ময়েশ্চারাইজারসমৃদ্ধ সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে পারেন। এরপর ট্রান্সলুসেন্ট পাউডার লাগান। তৈলাক্ত ত্বকে অবশ্যই ময়েশ্চারাইজারের পরিবর্তে অ্যাস্ট্রিনজেন্ট লোশন লাগান। এ ক্ষেত্রে কম্প্যাক্ট পাউডার ব্যবহার করুন। ব্লাশঅন ব্যবহার করলে খেয়াল রাখবেন যেন ভালো করে ব্লেন্ড করে। দিনের বেলায় আই পেন্সিল ব্যবহার করুন। এককোট মাশকারাই যথেষ্ট। গাঢ় রঙের লিপস্টিকের পরিবর্তে হালকা প্যাস্টেল শেডের লিপস্টিক বেছে নিন। হালকা পারফিউম ব্যবহার করুন।

পূজায় রাতের অনুষ্ঠানের সাজ : রাতের বেলায় সাজের ক্ষেত্রে চোখ হাইলাইট করুন। ব্রাউন, ব্রঞ্জ, গোল্ড, আইশ্যাডো ব্যবহার করুন। ড্রামাটিক ইফেক্টের জন্য ডার্ক-ব্রাউন, ডার্ক-গ্রে আইশ্যাডো আপওয়র্ড ও মাউটওয়র্ড স্ট্রোকে ব্যবহার করুন। লিপস্টিকের ক্ষেত্রে মেটালিক রং ব্যবহার করতে পারেন। রেড চেরি প্লাম রঙের লিপ কালার ভালো মানাবে। মেকাপের পর মেকাপ রিমুভিং অত্যন্ত জরুরি।

সিঁদুর : হিন্দু বিবাহিত মেয়েদের সিঁথিতে সিঁদুর থাকবে না তা যেন অসম্ভব। সিঁদুরের পবিত্রতা যেন দিদি-বউদিদের সাজের পরিপূর্ণতা এনে দেয়। হিন্দু সম্প্রদায়ের বিবাহিত মেয়েদের কাছে সিঁদুর অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। খোলা চুলে চিকন করে এবং বাঁধা চুলে মোটা করে সিঁদুর পরলে ভালো লাগে। সাজসজ্জা, চেহারার ধরন, চুলের সাজ, উচ্চতা- সবকিছুর সঙ্গে মানায় এমনভাবেই সিঁদুর পরাই ভালো দেখাবে।

পূজার সাজে এক প্যাঁচে পরা চওড়া পাড়ের শাড়ি, সিঁথিতে সিঁদুর, কপালে লাল টিপ, পায়ে আলতা, হাতভর্তি চুড়ির সঙ্গে শাখা এবং হাতে সাজানো পূজার থালা- সবমিলিয়ে দুর্গাপূজার সাজে পরিপূর্ণ বাঙালি নারী।