মেইন ম্যেনু

কেরির সফরকে ইতিবাচক মনে করছেন বিশ্লেষকরা

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির বাংলাদেশ সফরে দ্বিপক্ষীয় অনেক বিষয়ে আলোচনা হলেও প্রধান্য পাবে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমন। এমনটাই ধারণা করছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও সাবেক রাষ্ট্রদূতরা।

এদিকে কেরির সফরে ঢাকা-ওয়াশিংটন সব ইস্যুতে কথা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলীও।

আগামী ২৯ আগস্ট এক ঝটিকা সফরে ঢাকায় আসছেন জন কেরি। এ সফরকে ইতিবাচক বলে ভাবছেন পররাষ্ট্র বিশ্লেষকরা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, এবারের বৈঠকে নিরাপত্তা ইস্যু ও জঙ্গিবাদ দমন বিষয়টি অগ্রাধিকার পাবে। এ সুযোগে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের জিএসপি পুনর্বহালের বিষয়টি উত্থাপন করবে বাংলাদেশ। জিএসপির শর্তগুলো বাংলাদেশ পূরণ করলেও এ ব্যাপারে কোনো ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। বাংলাদেশ জঙ্গি দমনে বিশেষ সাফল্য অর্জন করায় প্রেসিডেন্ট ওবামার সরকার শেষ সময়ে এসে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতেও পারে।

তিনি বলেন, জিএসপি বহাল হলে বাংলাদেশ প্রতিবছর ৫ হাজার কোটি টাকা বেশি আয় করতে পারত।

দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকে কেরি ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের সব স্টাফকে নিরাপত্তা দিতে ও বাংলাদেশে জঙ্গিবিরোধী অভিযান সম্পর্কে জানতে চাইতে পারেন।

এছাড়াও বাংলাদেশে উগ্রপন্থী তৎপরতা বেড়ে যাওয়া, সংখ্যালঘু, ব্লগার, বিদেশি নাগরিক ও মার্কিন মিশনের কর্মকর্তাকে হত্যার ঘটনায় উদ্বেগ জানাতে পারেন।

সাবেক রাষ্ট্রদূত আশফাকুর রহমান বলেন, জন কেরি বাংলাদেশ সফরে একটি মাত্র ইস্যুতেই আলোচনা করবেন না। দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন বলে আমি মনে করি।

তিনি বলেন, দ্বিপক্ষীয় সব ইস্যু আলোচনায় স্থান পেলেও সন্ত্রাস দমন হবে মূল ইস্যু। এর মধ্যে হলি আর্টিসানে জঙ্গি হামলার পর জঙ্গি দমনে সম্প্রতি বাংলাদেশ যে সব পদক্ষেপ নিয়েছে তা আলোচনা হতে পারে।

‘আমরা সাংঘাতিক বুদ্ধিমানের মত দূরদর্শী চিন্তা করে জঙ্গি দমনে পশ্চিমা বিশ্বের কোনো সহযোগিতা না নিয়ে এটিকে সামলাতে পেরেছি’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, ইউরোপের দেশ ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের জঙ্গি হানা অহরহ ঘটছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত এখন বলছেন, জঙ্গি দমনে বাংলাদেশের পদক্ষেপগুলো ভালো। তিনি কিন্তু প্রথমদিকে এ ধরনের মনোভাব পোষণ করতেন না।

তিনি বলেন, শুধু রাষ্ট্রদূত দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক জোরদার হয় না। রাজনৈতিক নেতৃত্বও যখন সরাসরি আলোচনা করে তখনই সম্পর্ক দানা বাঁধে। আর এ কারণেই কেরির ঢাকা সফরটি গুরুত্ব বহন করছে।

রাষ্ট্রদূত আশফাকুর বলেন, আমি ১১ বছর রাষ্ট্রদূত ছিলাম। আমাদের কাজ হল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বাহক হিসেবে বহন করা। তাই ওবামার শেষ সময়ে এসে দেরিতে হলেও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকায় আগমন অনেক বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক হবে। সন্ত্রাস ঠেকাতে পারলে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে অনেক বিষয়ে সহযোগিতা করবে বলে আমি মনে করি। তবে সন্ত্রাসই সব কিছু নয়। তাদের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য আছে। তারা জিএসপি দিচ্ছে না। মার্কিন সরকারের এই স্তরের থেকে কেউ সফরে এলে তা হবে কিনা জানি না। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ দাবি তোলা উচিৎ।

সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবীর বলেন, শুধু নিরাপত্তা নয়, কেরির সফরে অর্থনৈতিক, আঞ্চলিক, আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে বলে আমি মনে করি। এ ধরনের বড় সফরে সর্বোচ্চ রাজনৈতিক পর্যায়ে মত বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করে। সেদিক থেকে বিবেচনা করলে এটিকে আমি ইতিবাচক সফর হিসেবে দেখতে চাই।

তিনি বলেন, কেরির সফরে সন্ত্রাস দমন বিষয়টি আলোচনায় বিশেষ স্থান পেতে পারে। এর আগে সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন যখন এসেছিলেন তখনও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন ঘটে। তখন আমরা পার্টনারশিপ ডায়ালগ (সংলাপ) তৈরি করেছিলাম। এখন অর্থনৈতিক ডায়ালগ হচ্ছে। নিরাপত্তা ডায়ালগ হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি পেক্ষাপটে এগুলো একটা অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।