মেইন ম্যেনু

কোথায় আছেন, কেমন আছেন লাক্স সুন্দরীরা

বিশ্বের সুন্দরীদের নিয়ে প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয় ‘বিশ্ব সুন্দরী প্রতিযোগিতা’। বাংলাদেশেও সুন্দরীদের নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হচ্ছে ‘লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার’ প্রতিযোগিতাটি। চ্যানেল আই ও ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড এর যৌথ আয়োজনে এই প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়। ২০০৫ সাল থেকে এই প্রতিযোগিতা শুরু হয়। মাঝখানে ২০০৭ সালে এই প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়নি। বিশ্বের অন্যান্য দেশের সুন্দরী প্রতিযোগিতার মতো এই প্রতিযোগিতায়ও শুধুমাত্র বাহ্যিক সৌন্দর্য এর মাপকাঠিতে বিজয়ী নির্বাচন করা হয় না। পাশাপাশি অন্যান্য গুণও এখানে বিবেচনা করা হয়।

এই চলচ্চিত্রে যে সেরার মুকুটটি অর্জন করেন তিনি একটি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগের পাশাপাশি পুরস্কার হিসেবে পান একটি ব্র্যান্ড নিউ গাড়ি ও অভিনয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক স্কলারশিপ। প্রতিযোগিতার সেরা পাঁচ জনের জন্যও রয়েছে পুরস্কার। এই প্রতিযোগিতাটির প্রাথমিক পর্যায় শুরু হয় দেশের বিভাগগুলোতে। সেখান থেকে ইয়েস কার্ড প্রাপ্তদের নিয়ে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা। সর্বশেষ বা চূড়ান্ত পর্যায়ে সেরা ১০ জনকে নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় মূল প্রতিযোগিতা।

২০০৫ সালে প্রথমবার বিজয়ীর মুকুট পরেন শানারৈ দেবী শানু। ২০০৬ সালে জাকিয়া বারী মম, ২০০৭ সালে বিদ্যা সিনহা সাহা মীম, ২০০৮ সালে চৈতি, ২০০৯ সালে মেহজাবিন ও ২০১০ সালে শিরোপা জিতেন মাহবুবা ইসলাম রাখি। ২০১১ সালে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়নি। ২০১২ সালে সেরা সুন্দরীর মুকুটটি জয় করেন সামিয়া সাঈদ। ২০১৩ সালে এই প্রতিযোগিতাটি হয়নি। এরপর ২০১৪ সালে সেরা সুন্দরী হন নাদিয়া আফরিন মীম।

শানারৈ দেবী শানু: লাক্স-চ্যানেল আই সুপার স্টার এর প্রথম অর্থাৎ ২০০৫ এর সেরা সুন্দরী নির্বাচিত হয়েছিলেন শানারৈ দেবী শানু। সিলেট শানুর জন্মশহর। এই এলাকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী মণিপুরী মেয়ে তিনি। ২০০৯ সালের ২৭ ডিসেম্বর পরিবারের অমতে ৫ বছরের পুরনো প্রেমিক শান্তুনু বিশ্বাসকে বিয়ে করেন শানু। শানুর স্বামী একটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানির এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর পদে কর্মরত রয়েছেন। তাদের সংসারে জেনাস ঋত বিশ্বাসের বয়স তিন বছরের একটি ছেলে রয়েছে।

তবে এই বিয়ের ফলে শানুর সাথে তার পরিবারের সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়। মনিপুরী সমাজে কোনো বাঙালিকে বিয়ে করা সমর্থন করা হয়না। নিজেদের মধ্যেই বিয়ে হতে হয়। এতে মণিপুরী ধর্মের চরম অসম্মান করা হয়েছে! তিনি আর ফিরে যেতে পারবেন না এলাকায়। শানু অভিনীত নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে কর্তাকাহিনি, বুকে তার চন্দনের ঘ্রাণ, ইলেকশন ইলেকশন, সংসার সুখের হয় বেদনার গুণে। বর্তমানেও শানু মিডিয়ায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

জাকিয়া বারী মম: প্রথমে পাইলট পরে আর্কিটেক্ট হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন লাক্স তারকা জাকিয়া বারী মম। কিন্তু বড় হওয়ার সাথে সাথে সেই জায়গা দখল করে সংস্কৃতি কর্মী হওয়ার স্বপ্ন। এরই ফলশ্রুতিতে ২০০৬ সালে জিতে নেন লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতার সেরার মুকুট। লাক্স সুন্দরী প্রতিযোগিতায় প্রথম হওয়ার সুবাদে দারুচিনি দ্বীপ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অভিনয় অভিষেক হয়। আর প্রথম ছবিতেই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ঘরে নিয়ে আলোচনায় চলে আসেন মম। মমের পৈতৃক নিবাস ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। জাকিয়া বারী মমের ছোটবেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেই কাটে। ব্যক্তিগত জীবনে মম নাট্যকার এজাজ মুন্নার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের সংসারে উদ্ভাস নামে একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।

বিদ্যা সিনহা সাহা মিম: ২০০৭ সালে লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হওয়ার পর প্রয়াত হুমায়ুন আহমেদের “আমার আছে জল” ছবিতে অভিনয় করে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জয় করেন। এছাড়া ২০০৯ সালেও তিনি সেরা অভিনেত্রীর মনোনয়ন পেয়েছিলেন।

মিমের জন্ম রাজশাহীর বাঘা থানায় এবং তিনি বৃশ্চিক রাশির জাতিকা। তার বাড়ি রাজশাহী হলেও, তিনি বেড়ে ওঠেন ভোলাতে। তার পিতা বিরেন্দ্র নাথ সাহা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের সমাজ কল্যাণ বিভাগের প্রধান এবং তার মা একজন গৃহিনী। লাক্স সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় এসেছিলেন মা-বাবার অনুপ্রেরণায়। প্রজ্ঞা সিনহা সাহা মমি নামে তার একজন ছোট বোন আছে।

বর্তমান সময়ে মীম নাটকের চেয়ে সিনেমাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। মীম অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে – শেষের কবিতার পরের কবিতা, যোধা আকবর, নীল ছায়া, ঝড়ের রাত ফুলের দিন, পৌষ ফাগুনের পালা, জাদুর কাঠি, তুমি কি আমাকে বিয়ে করবে। আর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে – আমার আছে জল (২০০৮), আমার প্রাণের প্রিয়া (২০০৯), আমার মন বলে তুমি আসবে (২০১১), জোনাকির আলো (২০১৪)। এছাড়াও এ বছর মীম অভিনীত চলচ্চিত্র ‘পদ্ম পাতার জল’ আর এখন তুমুল ব্যস্ততায় পার করছেন ‘ব্ল্যাক’ চলচ্চিত্রের কাজ নিয়ে।

ইশরাত জাহান চৈতী: গাজীপুরের মেয়ে ইশরাত জাহান চৈতী ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতার সেরার মুকুটটি অর্জন করেন। চৈতীর ছিল গানবাজনার শখ। গাইতেন নজরুলসংগীত। তারকা হওয়ার পর একসময়ের গায়িকা চৈতীর দিনকালও বদলে গেছে। তবে গাজীপুরের পৈতৃক নিবাস ছেড়ে অন্যদের মতো স্থায়ীভাবে ঢাকাবাসী হননি তিনি। শান্ত-মারিয়ম ইউনিভার্সিটিতে ফ্যাশন ডিজাইনপড়ুয়া চৈতী এর মধ্যে একটি মিক্সড অ্যালবামের দুটি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন।

তবে মিডিয়ায় তাকে খুব একটা বেশি দেখা যায় না। চৈতী অভিনীত চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে শাহজাহান চৌধুরী পরিচালিত “মধুমতি” এবং নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘জীবন সংসার’, ‘প্রতিপক্ষ’ ও ‘খ-ও’। ২০১৩ সালের মে মাসে বিয়ে করেছেন চৈতী। স্বামী সাইফ পেশায় একজন ব্যবসায়ী। ৪ বছর আগে থেকেই তাদের দুজনের মধ্যে মন-দেয়া নেয়ার ব্যাপারটি ঘটেছিল। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তিনি খুব তাড়াতাড়ি বিয়ের পিড়িতে বসতে যাচ্ছেন।

মেহজাবিন চৌধুরী: জন্মের পরপর কথা শেখার আগে বাবা মহিউদ্দিন চৌধুরীর কোলে বসে পাড়ি দিয়েছেন মরুর দেশে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে। সেখানে কেটে গেছে শৈশব-কৈশোর। হাঁটা, গাওয়া, কথা বলা সবই শিখেছেন মরুর দেশ, ওমানে। পরিবারের কেউই সংস্কৃতি জগতের সঙ্গে জড়িত ছিল না। তবে সবাই সংস্কৃতিমনা। চৌধুরী পরিবারের বড় মেয়েটির ঠিকানা হলো শোবিজ। টাইমস অব ওমান-এ নিয়মিত মডেল হয়েছেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি মডেলিং। সঙ্গে ব্যালে নৃত্য। চলছিল জীবন। কেটে গেল ১৬টি বছর। তারপর ২০০৭ সালে পাড়ি দেন দেশে। ২০০৯ সালে প্রায় ১০ হাজার প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে সেরা সুন্দরী নির্বাচিত হন মেহজাবীন চৌধুরী। এর পরের গল্পটা প্রায়ই সবারই জানা।একের পর এক নাটক, বিজ্ঞাপনে কাজ করে দর্শকদের প্রিয় মুখ হন তিনি।

লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর মেহজাবীন অভিনীত প্রথম নাটক ছিল ইফতেখার আহমেদ ফাহমি পরিচালিত `তুমি থাকো সিন্ধুপারে`। এ নাটকে তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন মাহফুজ আহমেদ। এরপর তিনি একে একে কাজ করেন `মাঝে মাঝে তব দেখা পাই`, `কল সেন্টার`, `মেয়ে শুধু তোমার জন্য`, `আজও ভালোবাসি মনে মনে`, `হাসো আন লিমিটেড`সহ বেশকিছু নাটকে।

স্বপন আহমেদের পরিচালনায় কল্প-কাহিনী নির্ভর চলচ্চিত্র `পরবাসিনী`তে কাজ করছেন মেহজাবীন। এখানে তার বিপরীতে অভিনয় করছেন নিরব। কিন্তু পরবর্তীতে মেহজাবিনের এই চলচ্চিত্রটি শেষ হয়নি। মেহজাবিনের রয়েছে আরও দুই ভাই ও দুই বোন। ভাইদের নাম রাজ ও আলিসান। মুকাদ্দেস ও কায়নাত দুই বোন। তবে এই পাঁচজনের মধ্যে সবার বড় মেহজাবিন।

মাহবুবা ইসলাম রাখি: লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার ২০১০ এর মুকুট বিজয়ী মাহবুবা ইসলাম রাখি। তিনি একাধারে মডেল এবং অভিনেত্রী। দু’ভাই এবং দু’বোনের মধ্যে রাখি সবার ছোট। ১৯৯৩ সালের ২৪ জুলাই ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন রাখি। তার শৈশব পার করেছেন টিকাটুলীতে আর কেশোর কেটেছে ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুরে। রাখি এজাজ মুন্নার ‘জেনারেশন নেক্সট ডট’, আসিন, রায়হান খানের ‘অচেনা প্রতিবিম্ব’, মোস্তফা কামাল রাজের ‘ইডিয়টস’ ধারাবাহিকে কাজ করছেন।

ব্রিটিশ কাউন্সিলের অধীনে প্রাইভেট ইনস্টিটিউট থেকে এ-লেভেল পাশ করেছেন। ছোটবেলা থেকেই মডেলিং ও অভিনয়ের প্রতি রাখির ঝোঁক ছিল। রাখির প্রিয় ঋতু বসন্ত আর শখ হলো নানা মজাদার বিষয়ের ওপরে প্রকাশিত আর্টিকেল কেটে কেটে নোটবুকে জমা করা। নাচ, গান, ছবি আঁকার প্রতিও ছোটবেলা থেকেই রাখির ঝোঁক রয়েছে। তিনি গত দুজছর ধরে অস্ট্রেলিয়াতে পড়াশুনা করছেন। আশা করা হচ্ছে তিনি খুব তাড়াতাড়ি দেশে ফিরে আবারও মিডিয়াতে নিয়মিত হবেন।

সামিয়া সাঈদ: ২০১২ সালে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্নে সবাইকে পেছনে ফেলে প্রথম হন কুমিল্লার সামিয়া সাঈদ। আলভী আহমেদের ‘ইনক্রিমেন্ট’ নামক নাটকের মাধ্যমে মিডিয়ায় পথচলা শুরু হয় সামিয়ার। চালচলন আর কথাবার্তায় সামিয়া বেশ দুরন্ত। রয়েছে ক্যারম এবং বাস্কেটবল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অভিজ্ঞতা। সামিয়ার বাবা বাবা জাহাজে কাজ করতেন।

সেই সুবাদে বহু দেশের সুমদ্র সীমা ছোয়ার সুযোগ হয়েছে সামিয়ার। সামিয়া বর্তমানে নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটিতে অর্থনীতির ছাত্রী। সামিয়া অভিনীত নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে – ‘কেউ কেউ মৃত জোনাকি’, জাবির রাসেলের ‘নিউটনের তৃতীয়সূত্র’, ‘মলম পার্টি’ ‘দশ মিলিয়ন ডলার’ প্রভৃতি।

নাদিয়া আফরীন মীম: চোখ ধাঁধানো নানা রঙের আলোর ঝলকানি আর আয়োজনের বর্ণাঢ্যতায় লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতা-২০১৪ এর সেরার মুকুট মাথায় পরলেন নাদিয়া। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠানে সেরা পাঁচের চারজনকে টপকে লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার-২০১৪ হন তিনি। পুরস্কার হিসেবে তার হাতে তুলে দেয়া হয় একটি ব্র্যান্ড নিউ গাড়ির চাবি ও ১০ লাখ টাকার চেক। তিনি অল্প অল্প কাজ করছেন মিডিয়াতে। বর্তমানে অপূর্বা ধারাবাহিকে কাজ করছেন। এছাড়া কিছু এক ঘন্টার নাটক করেছেন।

এবার দেখা যাক সামনের বছর কে এই মুকুট জয় করে সেরা সুন্দরী নির্বাচিত হন।