মেইন ম্যেনু

কেয়ামত আসার পূর্বে মানুষের অবস্থা কেমন হবে?

কেয়ামত কখন হবে একমাত্র আল্লাহ্ তা’য়ালাই ভালো জানেন। পবিত্র কোরআনে শুধু এতোটুকু বলা হয়েছে যে, কেয়ামত আকস্মিকভাবেই সংঘটিত হবে।

একদিন হযরত জিবরাঈল (আ.) মানুষের আকৃতি ধারণ করে একটি মজলিসে উপস্থিত হয়ে নবী করীম (সা.) কে জিজ্ঞেস করেন, হে নবী আপনি বলুন- কিয়ামত কখন সংঘটিত হবে? তিনি (সা.) বলেন-‘এ বিষয়টি সম্পর্কে জিজ্ঞেসকারী থেকে জিজ্ঞেসিত ব্যক্তির জ্ঞান অধিক নয়।’ (বুখারী, মুসলীম)

কেয়ামতের সূচনা হবে সিঙ্গায় ফুৎকারের মাধ্যমেই। সিঙ্গায় ফুৎকারের শুধু যে মানুষগণ ধ্বংস হবে তাই নয়। বরং সমস্ত বস্তু ধ্বংস হয়ে যাবে। আসমান ফেটে চৌচির হয়ে যাবে, তারকাগুলো খসে পড়বে এবং নিষ্প্রভবন হবে, চন্দ্র-সূর্যের আলো থাকবে না। জমিন এক সমতল প্রান্তে পরিণত হবে এবং পাহাড়গুলো তুলার ন্যায় উড়তে থাকবে।

রোজ হাশরে আল্লাহ্ তা’য়ালা স্বয়ং বিচারাসনে বসবেন। প্রত্যেক বান্দাকেই সেদিন কৃতকর্মের ফল দেয়া হবে। দুনিয়াতে যে সামান্যতম সৎ কাজ করেছে সে তার কাজের পুরষ্কার পাবে। পক্ষান্তরে অসৎ কাজের জন্য ভোগ করতে হবে শাস্তি।

এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআন পাকে ইরশাদ করা হয়েছে- অনন্তর যে ব্যক্তি রেণু পরিমাণ নেকী করবে, সে এটা দেখতে পাবে। আর যে ব্যক্তি রেণু পরিমাণ বদী করবে, সে তাও দেখতে পাবে। (সূরা যিলযাল : ৭,৮)

হযরত নোমান বিন বশীর (রা.) থেকে বর্ণিত। হযরত রাসূলে করিম (সা.) এরশাদ করেছেন :

দোযখী লোকদের মধ্যে যে ব্যক্তি সবচেয়ে হালকা সাজা পাবে সে ব্যক্তির জুতা ও জুতার ফিতা আগুনের তৈরি হবে। এ আগুনের তাপে জ্বলন্ত চুলার ওপর বসানোর ডেকচিতে যেভাবে তরল পদার্থ টগ্বগ্ করে ঠিক সেভাবে তার মাথার মগজ ফুটবে। সে ব্যক্তি কল্পনাও করতে পারে না যে, তার চেয়ে বেশি সাজাও অন্য কেউ ভোগ করতে পারে। অথচ এ ব্যক্তি সবার চেয়ে কম সাজা ভোগ করবে। (বুখারী ও মুসলিম)



« (পূর্বের সংবাদ)