মেইন ম্যেনু

কে এই সোহেল মাহফুজ?

গুলশানে জঙ্গি হামলার পর পরিকল্পনাকারী হিসেবে যে কয়টি নাম উঠে এসেছে তার মধ্যে সোহেল মাহফুজ ওরফে হাতকাটা সোহেলের নাম অন্যতম।

ডান হাতের কব্জিহীন এই জঙ্গি নেতাকে ভারতীয় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনআইও দীর্ঘদিন ধরে খুঁজছিল। ওই গোয়েন্দা সংস্থার দাবি, ২০১৪ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানের খগড়াগড়ে বোমা বানাতে গিয়ে যে বিস্ফোরণ সংঘটিত হয়েছিল তার সঙ্গে সোহেল মাহফুজের সম্পৃক্ততা রয়েছে। শুধু সোহেল মাহফুজ নয়, এ ঘটনায় বাংলাদেশের জেএমবির ডজনখানেক নেতাকে খুঁজছে এনআই।

শুক্রবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা থেকে সোহেল মাহফুজকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট ও জেলা পুলিশ। সিটিটিসির দাবি, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শিবগঞ্জের পুষ্কনি এলাকার একটি আমবাগান থেকে চার সহযোগীসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সিটিটিসি সূত্র থেকে জানা যায়, জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) নেতা সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে আব্দুর রহমান বাংলা ভাইয়ের নেতৃত্বে জঙ্গি কার্যক্রম চালাত সোহেল মাহফুজ। তিনি জেএমবির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ছিলেন। ২০০৪ সালে যখন রাজশাহীর বাঘমারা উপজেলায় বাংলা ভাইয়ের সর্বহারা পার্টি বিরোধী অভিযান চালানো তখন কোনো এক বিস্ফোরণের সময় তার ডান হাতের কব্জি উড়ে যায়। এরপর থেকে সোহেল মাহফুজ ভারতে পালিয়ে গিয়ে আশ্রয় নেন।

সোহেল মাহফুজ ভারতে জেএমবির ‘ভারত শাখা’ খোলেন এবং প্রথম আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ সালের ২ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানের খগড়াগড়ের একটি বাড়িতে বোমা বানাতে গিয়ে দুই জেএমবি নেতা নিহত হন; যারা জেএমবির ভারত শাখার সদস্য ছিলেন। ওই ঘটনার পর জেএমবির ভারত শাখার খবর সবার সামনে আসে। ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গ সরকার সোহেল মাহফুজকে ধরিয়ে দিতে ১০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে। এরপর সোহেল মাহফুজ বাংলাদেশে চলে আসেন এবং আত্মগোপনে চলে যান।

সিটিটিসি সূত্র জানায়, যখন জেএমবির নতুন ধারা বা নব্য জেএমবি গঠিত হয় তখন সোহেল মাহফুজের বিচক্ষণতা ও অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন হিসেবে মজলিসে শূরা সদস্যপদ দেওয়া হয়। তিনি খুব একটা চলাফেরা করতেন না। কারণ, তার ডান হাতের কব্জি ছিল না। এতে করে তাকে সহজে চিহ্নিত করা যেত। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নব্য জেএমবির শীর্ষ নেতারা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসতেন।

সোহেল মাহফুজ সম্পর্কে সিটিটিসির প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘গুলশান হামলার পরিকল্পনা প্রণয়নে সোহেল মাহফুজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। গুলশান হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র-বিস্ফোরকগুলো ছোট মিজান বা অন্য কেউ বহন করেছিল, কিন্তু এগুলো আনা হয়েছে মাহফুজের পরিচালনায়।’

তিনি বলেন, তাকে গ্রেপ্তার করায় (সোহেল মাহফুজ) গুলশান হামলার তদন্ত আরো একধাপ এগিয়ে গেল। গুলশান হামলার যে পাঁচজনকে আমরা খুঁজছিলাম সে তাদের মধ্যে একজন। এখন নব্য জেএমবির আরো দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে গ্রেপ্তার করা গেলে গুলশান হামলার চার্জশিট আদালতে জমা দেওয়া যাবে।

এদিকে খগড়াগড়ের বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় সোহেল মাহফুজের সন্ধান চেয়ে এনআই বাংলাদেশের গোয়েন্দাদের সঙ্গে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করেছিল। তবে সে সময় মাহফুজ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অধরা থাকায় এনআইকে কোনো সহযোগিতা করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘তারা এর আগে মাহফুজের সঙ্গে কথা বলতে বেশ কয়েকবার আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিকভাবে আগ্রহ দেখিয়েছিল। এখন যেহেতু তাকে ধরতে পেরেছি সেহেতু তারা কথা বলতে চাইবে। তারা চাইলে আইনি প্রক্রিয়ায় জিজ্ঞাসাবাদ করতে দেওয়া হবে।’






মন্তব্য চালু নেই