মেইন ম্যেনু

কোটিপতি হয়েও আজ রাস্তায় খাবার বিক্রি করছেন ঊর্বশী

একটু বেলা হলেই গুরগাঁওয়ের ১৪ নম্বর সেক্টরের বাজারের বাইরে দেখা পেয়ে যাবেন ঊর্বশী যাদবের। ‘ছোলে-কুলচে’ নামে এই খাবার স্টলটির বয়স মাত্র ৪৫ দিন। কিন্তু, ইতিমধ্যে ঊর্বশীর এই ফুড স্টল এলাকায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও আলোচিত হচ্ছেন ঊর্বশী, এবং তার ‘ছোলে-কুলচে’ ফুড স্টলের খবর।

গুরগাঁওয়ের ১৭ নম্বর সেক্টরের এ ঊর্বশী যাদবের বাড়ি। যার মূল্য বর্তমানে প্রায় তিন কোটি টাকা। বাড়ির গ্যারাজেও দামি এসইউভি। নিজে একটি নার্সারি স্কুলে শিক্ষিকার চাকরি করতেন ঊর্বশী। এমন অবস্থায়ো ৩৬ বছরের ঊর্বশীকে কেন রাস্তায় ফুড স্টল খুলতে হলো? সেই কাহিনিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে।

ঊর্বশীর স্বামী ৩৭ বছরের অমিত যাদব সম্প্রতি দুর্ঘটনায় আহত হয়ে শয্যাশায়ী। নামী সংস্থার এক্সিকিউটিভ পদে কাজ করেন অমিত। কিন্তু, দুর্ঘটনায় তার হিপ-বোন এতটাই জখম হয়েছে যে অবিলম্বে ‘হিপ ট্রান্সপ্লান্ট’ করাতে হবে বলে চিকিৎসকরা জানিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু, এই অস্ত্রোপচারের পর অমিত ভাল করে হাঁটতে পারবেন কি না সে ব্যাপারেও চিকিৎসকরা নিশ্চয়তা দিতে পারেননি। হয়তো হুইলচেয়ারেই বাকি জীবনটা কাটাতে হতে পারে ঊর্বশীর স্বামীকে। প্রায় দুই বছর আগেও ক্রিকেট খেলতে গিয়ে পা ভেঙেছিল অমিতের। সেই আঘাতও এতটাই গুরুতর ছিল যে ২ মাসের বেশি সময় লেগেছিল তার সুস্থ হতে।

সংসারের মূল উপার্জনকারীর এই অবস্থায় চোখে কার্যত অন্ধকার দেখেছিলেন ঊর্বশী। বাড়িতে অবসরপ্রাপ্ত বিমানবাহিনীর অফিসার শ্বশুর। এছাড়াও ঊর্বশী এবং অমিতের দুই ছেলে মেয়ে নামী স্কুলে পড়াশোনা করে। তাদের পড়াশোনার খরচের অংকটাও কম নয়। সংসারের ভবিষ্যৎ কী হবে? এই ভেবে আতঙ্কগ্রস্ত হয়েছিলেন ঊর্বশী।

এরপরই রাতারাতি সিদ্ধান্ত নিয়ে স্বল্প বেতনের নার্সারি স্কুলের শিক্ষিকার চাকরি ছেড়ে দেন তিনি। আর খুলে ফেলেন ফুড স্টল। ঊর্বশীর দাবি, যা ভেবেছিলেন তার থেকে বেশি সাড়া পাচ্ছেন। মাত্র ৪৫ দিনেই ফুড স্টলের জনপ্রিয়তা দেখে আশায় বুক বেঁধেছেন ঊর্বশী।