মেইন ম্যেনু

কোথায় গিয়ে ঠেকেছে মানুষের বিবেকবোধ, বৃদ্ধ শিক্ষকের সাথে এ কেমন অমানবিক আচরণ?

কোথায় গিয়ে ঠেকেছে মানুষের বিবেকবোধ ! সামান্য ঘটনায় মানুষ যখন সারাজীবন শিক্ষার আলো ছড়ানো অশিতিপর বৃদ্ধের হাতে কোমড়ে রশি বেধে চুড়ান্ত অপমান করে সারাগ্রাম ঘুড়িয়ে নিয়ে বেড়ায় তখন কিভাবে নিশ্চুপ থাকে সব দেখে শুনেও গ্রামের বাকি সবার বিবেক ? মানবতাকে চরম বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ঘটেছে এমন ন্যাক্যারজনক ঘটনা !

ছেলের কারনে শিক্ষক পিতাকে এমন পিছমোড়া করে বেঁধে শত শত লোকের সামনে সারা গ্রাম ঘোরানো দৃশ্য দেখাও আমাদের কাছে স্বাভাবিক ব্যাপার বটে!!বয়স ৭০। মাথায় টুপি। লম্বা সাদা পাঞ্জাবিতে ঢাকা শরীর। বয়সের ভারে কিছুটা ন্যূব্জও। জীবন ও যৌবনের সোনাঝরা সময়!

যে হাত দিয়ে হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রীকে শিক্ষার আলো বিলিয়েছেন, সে হাতে শুধু দড়িই উঠেনি, তাকে পিছমোড়া করে বেঁধে শত শত লোকের সামনে সারা গ্রাম ঘোরানো হয়েছে। ছেলের নেয়া টাকা পরিশোধ না করতে পারায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক তৈয়ব মাস্টারকে এ শাস্তি পেতে হয়েছে।

ঘটনাটি বেশ কিছুদিন আগের, তখন খুব বেশি প্রচার পেয়েছিলো সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে কিন্তু অদতাবধি কেও করেনি সেই অপমানের বিচার ।

মাথায় টুপি, লম্বা সাদা পাঞ্জাবিতে ঢাকা শরীর। বয়সের ভারে কিছুটা ন্যূব্জও। জীবন ও যৌবনের সোনাঝরা সময়টা গেছে জ্ঞান বিতরণের কাজে। শিক্ষকতার মহান দায়িত্ব শেষে জীবন-বিকালের পড়ন্ত সময়ে তার হাতেই উঠেছে শাস্তির দড়ি। কি অপরাধ ছিলো তাঁর কেনইবা এমন অনাকাংখিত শাস্তির মুখে পড়তে হল তাকে, কতটাই বা অপরাধি ছিলো এই বৃদ্ধ এমন প্রশ্ন এখন সমাজের হাজারো বিবেকবান সচেতন মানুষের মুখে মুখে ।

সম্প্রতি ঘটনাটি ঘটেছে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জস্থ গন্ধ্যর্বপুর ইউনিয়নের মৈশামুড়া বালুর মাঠ এলাকায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৈশামুড়া গ্রামের রহমত উল্লার ছেলে আব্দুল্লাহ দুবাই যাওয়ার জন্য তৈয়ব মাস্টারের ছেলে মোস্তফাকে ২ লাখ ৫২ হাজার টাকা দেন। আব্দুল্লাহ দুবাই গিয়ে বিমানবন্দরে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন এবং ২৬ দিন জেল খেটে দেশে ফিরে আসেন।

তার কাছ থেকে মোস্তফার নেয়া টাকা ফেরত না দিতে পারায় আব্দুল্লাহ ও তার বাবা মিলে তৈয়ব মাস্টারকে পিঠমোড়া করে বেঁধে শতাধিক লোকের সামনে সারা গ্রাম হাঁটান, চালান শারীরিক নির্যাতনও।

তৈয়ব মাস্টারের পরিবার থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ঘটনায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আলী আকবর শেখ, ইউপিসদস্য আশেক আলী ও স্থানীয় মাতব্বর জড়িত।

যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আলী আকবর শেখ বলেন, এ মর্মান্তিক ঘটনার সময় আমি পার্শ্ববর্তী পালিশারায় একটি সালিশ-বৈঠকে ছিলাম। মানুষ এখন অর্থপিশাচ হয়ে গেছে। এই বুড়ো লোকটাকে এভাবে শাস্তি দিলে কি সেই টাকাটা পাওয়া যাবে! লাঞ্ছিত এই প্রাক্তণ শিক্ষকের জন্য সুবিচার চাই।