মেইন ম্যেনু

কোনও পুরুষ যদি ধর্ষণ করত, তা-ও ভালো ছিল!

ভরা আদালত কক্ষে দাঁড়িয়ে, বিচারকের উদ্দেশে তরুণী বলছেন, ‘এর চেয়ে কোনও পুরুষ যদি তাঁকে ধর্ষণ করত, তা-ও ভালো ছিল!’ একরাশ হতাশা গলায়। এ যেন তাঁর নারীত্বের চরম অপমান! তরুণী যাঁর প্রেমে পড়েছিলেন, সে যে তাঁর মতোই এক নারী, পুরুষ নয়– সম্পর্ক বিছানায় গড়ানোর আগে অবধি টের পাননি। নকল পেনিস লাগিয়ে, এমন নিখুঁত পুরুষ সেজে সঙ্গ দিয়েছেন, সম্পর্ক বিছানায় নিবিড় হওয়ার আগে, বোঝার উপায়ও ছিল না। মনে হয়েছে, এটাও তো একরকম ‘প্রতারণা’ই। তাই বিচার চেয়ে, শেষমেশ শরণাপন্ন আদালতের। খবর এই সময়।

অভিযুক্ত বছর পঁচিশের গেইল নিউল্যান্ডের সঙ্গে তরুণীর আলাপ ফেসবুকে-ই। গার্লফ্রেন্ড পাতাতে ভুয়ো প্রোফাইল খোলেন গেইল। ভুয়ো নাম ‘কি ফরচুন’। অভিযুক্তকে এই নামেই চিনেছেন ‘প্রতারিত’ তরুণী। দু-জনের সম্পর্ক দানাবাঁধার পর, যুগলে ঘুরতে যান চেস্টারে। মাখোমাখো হয়ে ঘুরে, যখন হোটেলে ফেরেন, বিপত্তি তার পরেই। কামনার উত্তুঙ্গ মুহূর্তে মোহভঙ্গে সময় লাগেনি। চরম হতাশা।

যা চাপা রাখতে পারেননি চেস্টার ক্রাউন কোর্টেও। ‘আমি যখন বুঝলাম, আমার বয়ফ্রেন্ড আসলে, পুরুষ নয়, আমারই মতো যুবতী, নিউল্যান্ড, এর পর ঘেন্নায় গা গুলিয়ে ওঠে। মানসিক ভাবে অসুস্থ বোধ করি।’

এই ভাষ্য বিচারক শুনছিলেন আগে থেকে রেকর্ড করে রাখা ভিডিয়ো সাক্ষাত্কারে। সেখানে সাক্ষীর কথাও ছিল। পরে, ভিডিয়ো লিঙ্কে হাজির হয়ে বিচারক রজার ডটনের প্রশ্নের উত্তর দেন ওই তরুণী। জানান, ২০১১ সালে ভুয়ো প্রোফাইল থেকে তাঁকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছিলেন নিউল্যান্ড। রিকোয়েস্টে উল্লেখ করেন, এক মিউচুয়াল ফ্রেন্ডের সূত্রেই তিনি তাঁকে চেনেন। রিকোয়েস্টে সাড়া না দেওয়ার কিছু ছিল না। ক্রমে প্রেমের সম্পর্ক দানা বাঁধে। এর মধ্যে কয়েকবার প্রেমিক কি-ফরচুনের সঙ্গে দেখাও করতে চান। কিন্তু, প্রতিবারই পাশ কাটিয়ে যান ‘কি’। নানা অজুহাতে। ফেসবুক ছাড়া কথা হত ফোনেও। অবশেষে ‘বয়ফ্রেন্ড’কে রাজি করাতে পারেন। ২০১৩-র ২২ ফেব্রুয়ারি চেস্টারের ডেনে হোটেলে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হন দু-জনে। কেন এড়িয়ে গিয়েছেন বারবার, সে গল্পও শোনান। জানান, দুর্ঘটনায় পুরুষাঙ্গে চোট লেগেছিল, তার জন্য অস্ত্রোপচারও করাতে হয়। এসব গল্পের পর যুগলে সেক্স করতে গেলে, তরুণী চমকে ওঠেন, দেখেন কি-র পুরুষাঙ্গ আসলে কৃত্রিম।