মেইন ম্যেনু

কোনো ঝামেলা ছাড়াই যেভাবে কাটতে পারেন ট্রেনের টিকিট

ঈদ উপলক্ষে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রির প্রথম দিন আজ বুধবার। রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে টিকিটপ্রত্যাশী হাজারো মানুষের ভিড়। টিকিট বিক্রির নির্ধারিত সময়ের অন্তত ১৪ ঘণ্টা আগে অনেকে এখানে এসেছেন বলে জানালেন। অথচ জনৈক রেজাউল করিম তাঁর সুবিধামতো সময়ে স্টেশনে এলেন। একটু সময়ের মধ্যেই টিকিট নিয়ে ফিরে গেলেন।

স্টেশনের ২২টি কাউন্টারের সামনে হাজারো টিকিটপ্রত্যাশী যখন অপেক্ষার প্রহর গুনছে, তখন কী এমন জাদুবলে রেজাউল সহজেই তাঁর কাঙ্ক্ষিত টিকিট পেয়ে গেলেন?

সেই রহস্য শুনুন রেজাউলের মুখে, ‘আজ সকাল সাড়ে সাতটায় মোবাইল ফোনে এসএমএস পাঠাই। ফিরতি এসএমএসে ১ জুলাই চট্টগ্রাম মহানগর প্রভাতী ট্রেনের চারটি টিকিট নিশ্চিত করা হয়।’

মুঠোফোনে এসএমএসের মাধ্যমে যারা ট্রেনের আগাম টিকিট কিনছে, তারা স্টেশনের নির্ধারিত ১৯ নম্বর কাউন্টার থেকে তা সংগ্রহ করতে পারছে। সকাল থেকে এই কাউন্টারে ভিড় ছিল না বললেই চলে। কাউন্টারে এসে ফিরতি এসএমএস ও কোড নম্বর দেখালেই টিকিট দেওয়া হয়।

রেজাউল বলেন, ‘মুঠোফোনে রেজিস্ট্রেশন করে কয়েক বছর ধরে এভাবে টিকিট নিয়ে আসছি। প্রতি টিকিটের জন্য ২০ টাকা বাড়তি দিতে হয়। কিন্তু ঝামেলা-অনিশ্চয়তা কোনোটাই থাকে না।’

মুঠোফোনের মাধ্যমে ট্রেনের টিকিট সংগ্রহের এই পদ্ধতিটি অনেকের কাছেই অজানা। তবে প্রক্রিয়াটি বেশ সোজা।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, দেশের শীর্ষ দুটি মুঠোফোন অপারেটর গ্রামীণফোন ও বাংলালিংক এই সেবা দিচ্ছে। সেবা পাওয়ার জন্য এই দুটি প্রতিষ্ঠানের যেকোনোটির একটি নম্বর থেকে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। রেজিস্ট্রেশনের জন্য ইংরেজি বর্ণে ‘TKET’ লিখে ‘1200’ নম্বরে এসএমএস করতে হবে। রেজিস্ট্রেশন শেষ হলে গ্রাহক চার সংখ্যার একটি পিন নম্বর পাবে। পরে যেকোনো সময় টিকিট কিনতে ওই পিন নম্বর ব্যবহার করতে হবে।

রেলওয়ের ওয়েবসাইটে মুঠোফোনে টিকিট কেনার পুরো প্রক্রিয়ার বর্ণনা রয়েছে। সেখানকার তথ্য অনুযায়ী, টিকিট কেনার আগে গ্রাহককে তাঁর মুঠোফোনে প্রয়োজনমতো টাকা রিচার্জ করে নিতে হবে। অর্থাৎ, টিকিট কেনার মতো পর্যাপ্ত টাকা মুঠোফোনে থাকতে হবে। এরপর ১২টি সহজ ধাপে টিকিট কেনার প্রক্রিয়া শেষ করতে হয়।

প্রথমে ‘*131#’ লিখে ডায়াল করতে হবে। এরপর ধারাবাহিকভাবে অপশনগুলো আসবে। সেগুলো একটার পর একটা বেছে নিতে হবে।
দ্বিতীয় ধাপে অপশনে ‘বুক ট্রেন টিকিট’, ‘পারচেজ ট্রেন টিকিট আফটার বুকিং’ ও ‘পারচেজ ট্রেন টিকিট’–এর যেকোনো একটি বেছে নিতে হবে।

তৃতীয় ধাপে গ্রাহকের পিন নম্বর লিখতে হবে।
পরের ধাপগুলোতে যথাক্রমে যাত্রার তারিখ, যাত্রা শুরুর নির্ধারিত স্টেশন, গন্তব্য স্টেশন, ট্রেনের নাম, টিকিটের আসনের শ্রেণি, যাত্রীসংখ্যা ও তাঁদের বয়স বেছে নিতে হবে।

সবশেষে আসবে নির্ধারিত টিকিটের দাম। সেটি বেছে নেওয়ার পর মুঠোফোন থেকে সমপরিমাণ টাকা কেটে নেবে অপারেটর। এরপর একটি এসএমএস আসবে, যাতে থাকবে একটি কোড নম্বর। এসএমএসসহ ওই কোড নম্বরটি রেলস্টেশনের নির্ধারিত কাউন্টারে অথবা সংশ্লিষ্ট মুঠোফোন অপারেটরের নির্ধারিত কাউন্টারে দেখিয়ে টিকিট সংগ্রহ করা যায়।

কমলাপুর রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক সিতাংশু চক্রবর্তী বলেন, রেলের মোট টিকিটের ২৫ ভাগ অনলাইন ও মুঠোফোনের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। ঈদের সময়ও এভাবে টিকিট বিক্রি হয়। একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ চারটি টিকিট কিনতে পারেন।