মেইন ম্যেনু

কোন আষাঢ়ে গল্প নয়, জেনে নিন বিশ্বের ১১টি ভূতুড়ে রেল স্টেশন সম্পর্কে!

মাঝরাতে গোটা প্ল্যাটফর্মে আপনি একা? শেষ ট্রেন অনেকক্ষণ আগেই স্টেশন ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছে৷ পরের ট্রেন সেই ভোরে৷ ভাবছেন বাকি রাতটা কোনও ক্রমে স্টেশনের ওয়াটিং রুমেই কাটিয়ে দেবেন৷ তা সে আপনি করতেই পারেন তবে এড়িয়ে চলতে হবে ১১টি স্টেশন৷ সেখানে রাত কাটানো হতে পারেন বিপজ্জনক৷ কারণ? ওই স্টেশনে ভূতের বাস৷ আষাঢ়ে গপ্পো মনে হলেও বিশ্বে এমন ১১টি রেলস্টেশন রয়েছে যেগুলি ভূতুড়ে নামেই খ্যাত৷

8

১. বেগুনকুদুর রেল স্টেশন, পুরুলিয়া
পুরুলিয়া শহর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বেগুনকুদুর রেল স্টেশন৷ ১৯৬৭ সালে এক রেল কর্মী ওই স্টশনে এক সাদা পড়া এক মহিলার ভূত দেখেছিলেন৷ তার পরেই ওই ক্মীর মৃত্যু হয়৷ তারপর থেকেই ওই রেল স্টশনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল৷ গত ২০০৯ সালে মমতা বন্দ্যেপাধ্যয়ের কথায় ওই রেল স্টশন নতুন করে চালু করা হয়৷ মমতা বলেছিলেন, ‘আমি ভূতে বিশ্বাস করি না৷ এগুলি সব মানুষের তৈরি করা’৷

5

২. রবীন্দ্র সরোবর মেট্রো স্টেশন, কলকাতা
কলকাতার রবীন্দ্র সরোবর মেট্রো স্টেশনটিও ভূতূড়ে৷ জানা গিয়েছে, রাতের শেষ মেট্রোর চালক ও যাত্রীরা প্রায়ই স্টেশনে কোনও অাবছা ছায়া দেখতে পান, যা আবার সঙ্গে সঙ্গেই মিলিয়ে যায়৷

86

৩. কাওবাও রোড সাবওয়ে স্টেশন, চিন
চিনের কাওবাও মেট্রো স্টেশন নাকি বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ার্ত মেট্রো স্টেশন৷ এই মেট্রো স্টেশনে এলেই ট্রেনের ব্রেকে সমস্যা দেখা যায়৷ রাতের দিতে যাত্রীরা অদৃশ্য কোনও ব্যক্তির উপস্থিতি অনুভব করতে পারেন৷ এছাড়াও শোনা যায়, ভুতে নাকি যাত্রীদের ধাক্কা রেলওয়ে ট্র্যাকে ফেলে দেয়৷ এমন ভাবেই এই স্টেশনে মৃত্যু হয়েছে অনেকের৷

356

৪. অ্যাডিসকম্বি রেলওয়ে স্টেশন, ইংল্যান্ড
ইংল্যান্ডে অ্যাডিসকম্বি রেল স্টেশনের যদিও এখন আর কোনও অস্বিত্ব নেই৷ ২০০১ সালে এই স্টেশনটি ভেঙে দেওয়া হয়৷ কিন্তু তার আগে পর্যন্তও এই স্টেশনে অদ্ভূতুরে ঘটনা ঘটত৷ জানা গিয়েছে, লোকো ট্রেনের এক চালক বহু বছর আগে ওই স্টেশনে আত্মহত্যা করেছিলেন৷ তার পর থেকেই নাকি তার আত্মা স্টেশনের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বেড়ায়৷

355

৫. ওয়াটারফ্রন্ট স্টেশন, কানাডা
কানাডার ওয়াটারফ্রন্ট স্টেশনটিও ভূতুড়ে৷ স্টেশনের বহু নিরাপত্তা রক্ষী অভিযোগ করেছিলেন, রাতের দিকে স্টেশনে অদ্ভূতের কাণ্ড কারাখানা হয়৷ এমনকি স্টেশনে রাতের যে নিরাপত্তা রক্ষীরা থাকতেন তারা মাঝে মধ্যেই স্টেশনে ভূত দেখতে পেতেন৷ জানা গিয়েছে, কোনও এক রেলকর্মীর ভূতই নাকি স্টেশনে ঘুরে বেড়ায়৷

564

৬. প্যান্টিওনেস মেট্রো স্টেশন, মেক্সিকো
মেক্সিকোর সবচেয়ে কুখ্যাত মেট্রো স্টেশন হল প্যান্টিওনেস মেট্রো স্টেশন৷ জানা গিয়েছে, মেট্রো স্টেশন হওয়ার আগে ওই এলাকায় দুটি সমাধি ছিল৷ রাতের দিকে স্টেশন চত্বরে চিৎকার শোনা যায়৷ এমনকি মেট্রো চ্যানেলের মাঝেও ছায়ামূর্তি দেখতে পাওয়া যায়৷ এছাড়াও স্টেশনেও কোনও অন্ধকার কোনায় ভূত দাঁড়িয়ে থাকতেই পারে৷

index34

৭. বিশান এমটিআর স্টেশন, সিঙ্গাপুর
সিঙ্গাপুরের বিশান এমটিআর (মাস র‍্যাপিড ট্রান্সপোর্ট) স্টেশন তৈরি করা হয় বি শান তেঙ্গ কবরস্থানের উপর৷ ১৯৮৭ সালে এই স্টেশনটি চালু করা হয়৷ তার পর থেকেই সেখানে ভূতের উপদ্রব শুরু হয়৷ মুণ্ডহীন আবছায়া মূর্তি প্রায়ই দেখা যায় এই স্টেশনে৷ এছাড়াও ট্রেনের যাত্রীরা শুনতে পান ট্রেনের উপর দিয়ে কেউ হেঁটে যাচ্ছে৷

index56

৮. ম্যাককোয়ারি ফিল্ডস ট্রেন স্টেশন, অস্ট্রেলিয়া
অস্ট্রেলিয়ার এই স্টেশনে নাকি নাবালিকাকে হেঁটে বেড়াতে দেখা যায়৷ ওই নাবালিকার শরীর রক্তে ভেসে যাচ্ছে৷ সে নাকি ক্রমাগত কাঁদে এবং সেই কান্নার চিৎকার ধীরে ধীরে প্রবল হয়৷ মাঝে মাঝে তাকে রেল লাইনের দিকে ক্রুদ্ধ দৃষ্টি তাকিয়ে থাকতেও দেখা যায়৷

index88

৯. ইউনিয়ন স্টেশন, ফোনেক্স, আমেরিকা
আমেরিকার এই স্টেশনটি ১৯৯৫ সালে বন্ধ করে দেওয়া হয়৷ এই রেলওয়ে স্টেশনে এক রেল কর্মীর অতৃপ্ত আত্মা ঘুরে বেড়ায়৷ ওই ব্যক্তিকে সকলে ভলবেসে ফ্রেড নামে ডাকত৷ রেলওয়ে স্টেশনের অফিসে তাকে মাঝে মধ্যে দেখা যায়৷ এমনকি কথিত আছে স্টেশনের নির্দিষ্ট একটি ঘরে সে নাকি এখনও থাকে এবং ওই ঘরে অন্য কতোনও কর্মীরা ঢোকেন না৷ তাকে মাঝেমধ্যে স্টেশনও দৌঁড়ে বেড়াতে দেখা যায়৷

index77

১০. কনোলি স্টেশন, আয়ারল্যান্ড
ডাবলিন রেলওয়ে নেটওয়ার্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন হল এটি৷ এটিও বিশ্বের ভূতুরে স্টেশনগুলির মধ্যে একটি৷ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এই এলাকায় বোমা বিস্ফোরণে প্রচুর মানুষ মারা গিয়েছিলেন৷ তাদেরই আত্মা নাকি ঘুরে বেড়ায় এই স্টেশন চত্বরে৷

index55

১১. গ্লেন ইডেন রেলওয়ে স্টেশন, নিউজিল্যান্ড
মৃতদেহ আনা নেওয়া করার জন্য প্রাথমিক ভাবে এই স্টেশনটি তৈরি করা হয়েছিল৷ পরবর্তীতে স্টেশনটিকে উন্নত করা হয় ২০০১ এবং সেখানে একটি ক্যাফে তৈরি করা হয়৷ ওই ক্যাফেতেই নাকি এক ভুত ঘুরে বেড়ায়৷ জানা গিয়েছে, ১৯২৪ সালে এক রেল কর্মী একটি দুর্ঘটনায় মারা যান৷ এছাড়াও ওই স্টেশনে অনেকে যাত্রীরাই ভূত দেখেছেন বলে দাবি করেন৷