মেইন ম্যেনু

কোন খাবারই স্বাদ না লাগার কারণগুলো

ব্যক্তির খাদ্যের স্বাদ গ্রহণের সামর্থ্য নষ্ট হয়ে গেলে তা খুবই হতাশা জনক হয় এবং এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করাও তার জন্য বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। মাত্র ৫% রোগী স্বাদ ও গন্ধের সমস্যা নিয়ে ডাক্তারের কাছে যান। যাদের বেশীর ভাগেরই স্বাদের সমস্যা থাকে। বিভিন্ন ধরণের স্বাদের সমস্যা আছে যেমন- অ্যাগিউসিয়া, এটি হলে আক্রান্ত ব্যক্তির স্বাদ অনুভূতি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। হাইপোগিউসিয়া হলে স্বাদ গ্রহণের ক্ষমতা আংশিক কমে যায়। অ্যাগিউসিয়া খুবই বিরল সমস্যা। যদি আপনার খাদ্যকে বেস্বাদ মনে হয় বা ধাতব স্বাদ অনুভূত হয় তাহলে এর জন্য যে কারণগুলো দায়ী হতে পারে তা হচ্ছে –

১। বারনিং মাউথ সিনড্রোম (BMS)

BMS অনেক বেশি প্রভাবশীল হয় নারীদের মেনোপোজ পরবর্তী সময়ে। প্রায়ই তারা দীর্ঘস্থায়ী তিক্ত বা ধাতব স্বাদ অনুভব করেন। এই রোগে আক্রান্ত রোগী জিহ্বা, মাড়ি, ঠোঁট এমনকি মুখের ভেতরেও জ্বালাপোড়ার অনুভূতি পান।BMS এর কারণ এখনো অজানাই রয়ে গেছে।

২। হেড ইনজুরি

মাথায় আঘাত পেলে তা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে, যা স্বাদ উদ্দীপকের প্রক্রিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর ফলে স্বাদের অনুভূতি এবং গন্ধের অনুভূতিও হারিয়ে যায়। মাথায় আঘাতের পরিমাণ বেশি হলে স্বাদের সমস্যাটি স্থায়ী রুপ লাভ করতে পারে।

৩। ভিটামিন বি এর ঘাটতি

গবেষণায় জানা যায় যে, দীর্ঘদিন যাবৎ ভিটামিন বি ১২ এর ঘাটতিতে ভুগলে এবং রোগ নির্ণয় করা না হলে এর ফলে স্বাদ ও গন্ধের অনুভূতি নষ্ট হয়ে যায়। তাই আপনার স্বাদের অনুভূতির সমস্যা হলে ভিটামিন বি ১২ এর ঘাটতি আছে কিনা তা জানার জন্য ব্লাড টেস্ট করাতে হবে।

৪। ডায়াবেটিস

স্বাদহীনতা টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ও একটি লক্ষণ হতে পারে, বিশেষ করে যাদের বয়স ৫০ বছরের বেশি।

৫। বয়সবৃদ্ধি

গবেষণায় জানা যায় যে, বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে স্বাদ কোষের ঝিল্লির পরিবর্তন হয় বলে স্বাদ অনুভূতি কমে যায়। গবেষকেরা জেনেছেন যে, আমরা ১০,০০০ টেস্ট বাড বা স্বাদ কুঁড়ি নিয়ে জন্ম গ্রহণ করি। আমরা যখন মধ্যবয়সে পৌঁছাই তখন এই টেস্ট বাড এর সংখ্যা কমতে থাকে।

৬। Sjogren’s সিনড্রোম

এটি একটি অটোইমিউন রোগ যার ফলে মুখ ও চোখ ড্রাই হয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয়। Sjogren’s সিনড্রোম রিউমাটয়েড আরথ্রাইটিসের সাথে আসতে পারে, যার ফলে পেশীতে ব্যথা ও অবসাদের সমস্যায় ভুগে রোগী। এটি স্বাদ নষ্ট হওয়ার একটি বিরল কারণ।

৭। আপার রেস্পিরেটরি ইনফেকশন

আপনি হয়তো লক্ষ করে থাকবেন যে, ঠান্ডা লাগলে বা ভাইরাস জ্বর হলে কোন খাবারই স্বাদ লাগেনা। তেমনি আপার রেস্পিরেটরি ইনফেকশন যেমন- সাইনুসাইটিস, ব্রংকাইটিস, ল্যারিনজাইটিস ইত্যাদির কারণেও স্বাদ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তবে ইনফেকশন ভালো হয়ে যাওয়ার সাথে সাথেই স্বাদের সমস্যাটিও ঠিক হয়ে যায়।

হাইপোথাইরয়ডিজম এর সমস্যায় ভুগলে, মাড়ির রোগ থাকলে এবং মৌখিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চললেও স্বাদের অনুভূতি নষ্ট হয়ে যাওয়ার সমস্যাটি তৈরি হতে পারে।