মেইন ম্যেনু

কোন ঘরে ব্যবহার করবেন কোন আলো?

ঘর থাকলে তাতে আলো জ্বালানোর জন্যে বাল্ব তো লাগবেই। নিশ্চয়ই প্রায়ই দোকানে গিয়ে তাই কেবল এটুকু ভেবেই যেকোন একটা বাল্ব খুব একটা না দেখে, না ভেবে-শুনেই কিনে আনেন আপনিও। কিন্তু আপনি কি জানেন যে আপনার এই একটুখানি অসতর্কতার কারণেই অনেক সময় ভুগতে হয় আপনার পুরো পরিবার, এমনকি আপনাকেও! এটা সত্যি যে ঘরে আলোর দরকারে বাল্ব লাগবে। তবে সেটা কিন্তু যেকোন বাল্ব হলে চলবেনা। আবার একই বাল্ব সবগুলো ঘরে লাগালেও দেখা দেবে সমস্যা। তাহলে কেমনভাবে আর কোন কোন বাল্ব ঘরে লাগাবেন- এই তো ভাবছেন? চলুন জেনে নিই প্রশ্নের উত্তরগুলো।

আলো এমন একটা জিনিস যেটা আমাদের ঘুম থেকে শুরু করে চিন্তা ভাবনাকেও প্রভাবিত করে। আর তাই ঘরের জন্যে আলো ঠিক করতে প্রথমে এটা ঠিক করে নিন যে কোন ঘরটি কোন কাজের জন্যে ব্যবহার করছেন আপনি। সাধারনত আলো তিন রকমের হয়ে থাকে ( মাই ডোমেইন )।

প্রথমত, হালকা বা সাধারন ধরনের আলো। যেটা ঘরকে দেয় প্রাকৃতিক একটা আভা। এটি খুব বেশি চকমকে নয়, তবে ঘরের প্রতিটি কোণাকে দৃশ্যমান করে তোলে।

দ্বিতীয়ত, কাজের বা উজ্জ্বল আলো। এটি মূলত কাজ করার সময় বা কোনকিছু পড়ার সময়ই ব্যবহার করি আমরা। অল্প একটু জায়গাকে পুরোপুরি আলোকিত করে রাখে এই আলো।

তৃতীয়ত, নির্দিষ্ট স্থনের উজ্জ্বল আলো। কোনরকম ছবি বা কোন বস্তুর চারপাশের অনেকটাকে অন্ধকার করে রাখতে সাহায্য করে এই আলো। আর আলোকিত করে রাখে বাকীটা স্থানকে।

এখন তাহলে চলুন দেখে নেওয়া যাক এদের ভেতরে কোন আলোটি কোন ঘরে লাগালে ভালো ফল পাবেন আপনি।

১. শোয়ার ঘর

২. রান্নাঘর

৩. বাথরুম

এক্ষেত্রে শোয়ার ঘরে প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করতে পারেন আপনি। সেই সাথে রাখতে পারেন একটি অল্প স্থানকে আলোকিত করে রাখতে সক্ষম এমন আলোকেও। তাহলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে অন্য কাউকে বিরক্ত না করেও নিজের কাজ করে যেতে পারবেন আপনি।

রান্নাঘরের ক্ষেত্রে মাথার ওপরে একটি প্রাকৃতিক আলো দেয় এমন বাল্ব লাগাতে পারেন আপনি। সেই সাথে রান্নাঘরের কোণাগুলোকে দেখে রাখার জন্যে, বিশেষ করে সিংকের ওপরে একটি কাজের জন্যে ব্যবহৃত বাল্ব লাগাতে পারেন।

বাথরুমের জন্যে এমনভাবে একটি সাধারন আলোর বাল্ব লাগান যেটি আপনার আয়নার ওপর চেহারাকে ঠিকভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারে। এক্ষেত্রে আয়নার পেছনে বাল্বটি লাগাতে পারেন আপনি।

এছাড়াও আলোর প্রকৃতির ওপর ভিত্তি করে বাল্বকে আরো চারভাগে ভাব করা যায় ( লাইফহ্যাকার )।

১. ইনক্যানন্ডেসেন্ট বাল্ব- সেই বাল্ব যেটা আমরা প্রচীনকাল থেকে ব্যবহার করে আসছি। অনেকটা গরম ভাব আর উজ্জ্বল হলদে আলো দিতে সাহায্য করে এটি ঘরকে।

২. ফ্লুরোসেন্ট বাল্ব- এই বাল্বের আলো অনেকটা শক্তি সঞ্চয় করে আর টেকে বেশী। তাই অনেক মানুষই ফ্লুরোসেন্ট বাল্ব ব্যবহার করতে পছন্দ করেন।

৩. এলইডি- এই বাল্বগুলো অনেকটা ফ্লুরোসেন্টের মতনই আলো দেয়। তবে অনেকটা কম গরম হয় আর দীর্ঘজীবি হয়। ফ্লুরোসেন্টের চাইতে অন্তত ৩ গুন বেশি সময় টেকে এরা।

৪. হ্যালোজেন- কাজের জন্যে ব্যবহৃত আলো। যেটি অনেক বেশি উজ্জ্বল আলো দেয় এবং শক্তিও সঞ্চয় করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে এদের ভেতরে-

হালকা ও উষ্ণ আলোগুলো শোয়ার ঘরে লাগানো উচিত। অন্যদিকে রান্নাঘর, বাথরুম ও গ্যারেজে উজ্জ্বল অথচ ঠান্ডা আলো ব্যবহার করাটাই ভালো। আর প্রাকৃতিক আলো দেয় এমন বাল্ব ঘরের যেকোন স্থানে লাগালেও সমস্যা নেই।