মেইন ম্যেনু

কৌশল বদলেছে জেএমবি

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় একের পর এক নাশকতার পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবি (জামাতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ) কৌশল পরিবর্তন করেছে। তারা নতুন করে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। এ ছাড়া নাশকতা চালানোর জন্য রাজধানীর পরিবর্তে মফস্বল এলাকাগুলোকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে তারা।

সম্প্রতি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

জেএমবির কৌশল পরিবর্তনের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও কৌশলী করা হচ্ছে। এজন্য সম্প্রতি অতিরিক্ত কমিশনার, যুগ্ম-কমিশনার, উপ-কমিশনার, পুলিশ সুপার, সহকারী কমিশনার ও থানার তদন্ত কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে একটি প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে।

গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের একটি সূত্র জানায়, জেএমবির সদস্যরা নাশকতা চালানোর জন্য শহুরে এলাকা বাদ দিয়ে মফস্বল এলাকাগুলোকে বেশি টার্গেট করছে। এরই মধ্যে রাজধানীর বাইরে জেলাগুলোর কয়েকটিতে নাশকতা চালিয়েছে তারা।

সম্প্রতি দিনাজপুরের কান্তজিউ মন্দিরে হামলা হয়েছে। তার পাশে কাহারোল উপজেলায় ইসকন মন্দিরে হামলা হয়েছে। রংপুরে জাপানি নাগরিককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। পাবনার ঈশ্বদীতে এক খ্রিষ্টান ধর্ম প্রচারককে গলা কেটে হত্যার করার চেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়া লালমনিরহাটসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় আইএস নামে হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। তবে তারা আইএস নয়। মূলত তারা জেএমবি।

ওই গোয়েন্দা সূত্রটি জানায়, কেবলমাত্র নাশকতার বেলাতেই তারা কৌশল পরিবর্তন করেনি। তারা নতুন সদস্য সংগ্রহের জন্য ওয়াজ-মাহফিল থেকে শুরু করে ঘরোয়া বৈঠক করছে। এমনকি তারা আত্মীয়-স্বজনদের বাড়ি ও তার আশেপাশের এলাকাতে বৈঠক করে নতুন সদস্য সংগ্রহ করছে।

অর্থ সংগ্রহের জন্য তারা আগের মতো ব্যাংক ডাকাতি ও ছিনতাই বাদ দিয়ে বিভিন্ন ছোট ছোট পেশা বেছে নিয়েছে। যেমন বই বিক্রি, হকারি, আতর-সুরমা, টুপি-তোয়ালা ইত্যাদি বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করছে। ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে তারা তাবলিগ জামাতের মতো দাওয়াতি কাজ করছে। ফলে একদিকে যেমন পুলিশের চোখ ফাঁকি দেওয়া সহজ হচ্ছে, অন্যদিকে তারা সংগঠিত থাকতে পারছে।

র‌্যাবের একটি সূত্র বলছে, জেএমবি ও দেশীয় অন্যান্য জঙ্গি দলের সদস্যরা নাশকতা করে যতটা না মানুষ মারছে, তার চেয়ে বেশি চেষ্টা করছে মানুষের মাঝে ভীতি সৃষ্টি করতে। তারা জানান দিচ্ছে যে, এ দেশে তাদের অস্তিত্ব আছে। জিহাদের নামে তারা সাধারণ মানুষকে দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করছে।

প্রসঙ্গত, গত কিছু দিন ধরে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সদস্যরা দেশে নাশকতার পরিকল্পনা করছে বলে গোয়েন্দারা দাবি করে আসছেন। ব্যাংক ডাকাতিসহ নানাভাবে তারা অর্থ সংগ্রহ করেছে জঙ্গিরা। আশুলিয়াসহ বিভিন্ন জায়গায় দিনের বেলায় গুলি করে ব্যাংক ডাকাতি করেছে তারা। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে তারা অর্থ সরবরাহ করছে। এ রকম নানা তথ্য গোয়েন্দাদের হাতে আছে। একই তথ্যের ভিত্তিতে তারা এরই মধ্যে কয়েকজনকে গ্রেফতারও করেছে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার উপ-কমিশনার মুনতাসিরুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি জেএমবির কৌশল পরিবর্তন নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। এ ব্যাপারে পুলিশ কর্মকর্তাদের ক্ষুদ্র পরিসরে হলেও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সারা দেশের পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে কি না, সে ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ওই সব এলাকার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের ব্যাপারে পুলিশের সদর দফতর সিদ্ধান্ত নেবে।রাইজিংবিডি