মেইন ম্যেনু

ক্যান্সারের ভয়ে ফর্সা হওয়ার সকল প্রসাধন নিষিদ্ধ করা হলো যেখানে…

বাজারের বিভিন্ন ধরনের রং ফরসাকারী প্রসাধন দ্রব্যে (‘স্কিন লাইটেনিং প্রোডাক্ট’) যে ‘হাইড্রোকুইনোন’ থাকে, তা ক্যান্সারের কারণ হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), জাপান ও অস্ট্রেলিয়ায় নিষিদ্ধ এসব প্রসাধন দ্রব্য। এবার এ তালিকায় যুক্ত হলো আফ্রিকার এক দরিদ্র ও কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যুষিত দেশ ঘানা। আগামী আগস্ট থেকে দেশটিতে হাইড্রোকুইনোন সমৃদ্ধ কোনো প্রসাধনী বেচা যাবে না।

ঘটনাটা সামান্য মনে হলেও এর পটভূমি ঐতিহাসিক; ঔপনিবেশিকতা, জাতিবাদ ও পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার এক কলঙ্কিত অধ্যায়। ঔপনিবেশিকতার আমল থেকেই শ্বেতাঙ্গরা প্রভু, কৃষ্ণাঙ্গরা কর্মচারী, ভৃত্য বা দাস। ঔপনিবেশিকতার অবসান ঘটলেও সাদা চামড়ার ভূত মানুষের ঘাড় থেকে নামেনি। তবে সাদা চামড়ার লোভ সাহেবরা আসার অনেক আগে থেকেই ছিল, অন্তত ভারতের মতো দেশে, যেখানে উঁচু জাতের মানুষ চেনা যেত তার গায়ের রং দেখে। সব মিলিয়ে এই সাদা-কালোর বর্ণপ্রথা কবে না জানি বিয়ের বাজারে ঢুকে পড়ে। এই সুযোগে বাজারে এলো ‘স্কিন লাইটেনিং প্রোডাক্ট’। তার আগেই আবার সিনেমা আর বিজ্ঞাপনের জগতে প্রায় ডারউইনের ন্যাচারাল সিলেকশনের মতো যাদের গায়ের রং সাদা, তারাই জায়গা করে নিয়েছে। পাত্ররা যেমন ফরসা পাত্রী খোঁজে, তেমনিভাবে গোটা সমাজেই সৌন্দর্য ও সাফল্যের প্রতীক হয়ে দাঁড়ায় সাদা চামড়া?

পশ্চিমে জাতিবাদের চেহারা এক রকম, উপমহাদেশে এক রকম, আবার আফ্রিকায় এক রকম। ঘানায় স্কিন ব্লিচিং করার প্রসাধন দ্রব্য ব্যবহার করেন ‘মাত্র ৩০ শতাংশ’ নারী। সে তুলনায় নাইজেরিয়ায় ক্রিম মেখে ফরসা হওয়ার চেষ্টা করে শতকরা ৭৭ ভাগ ও সেনেগালে শতকরা ৫২ থেকে ৬৭ ভাগ নারী।

ঘানার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অথরিটির ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী আগস্ট মাস থেকে দেশটিতে ‘হাইড্রোকুইনোন’যুক্ত কোনো ধরনের প্রসাধন বেচা যাবে না। ১০ বছর আগে পদার্থটি যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ হয়। হাইড্রোকুইনোন ক্যানসার সৃষ্টি করতে পারে কি না, যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএ সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারেনি। সূত্র : ডয়চে ভেলে।