মেইন ম্যেনু

ক্যামব্রিয়ানে ছাত্রীর লাশ: হত্যার অভিযোগ পরিবারের

ক্যামব্রিয়ান কলেজের ছাত্রী সামিয়া-তুজ-সাদেকা ইমাকে হত্যার পর ফ্যানের সঙ্গে লাশ ঝুলিয়ে রেখে ঘটনাটিকে ‘আত্মহত্যা’ বলে প্রচার করা হয়েছে। মৃতদেহের সঙ্গে পাওয়া চিরকুটের হাতের লেখাও ইমার নয়।

গতকাল শুক্রবার এমন অভিযোগ করেছেন ইমার স্বজনরা। তারা দাবি করছেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গুলশানের কালাচাঁদপুরে ক্যামব্রিয়ান কলেজের ছাত্রীনিবাস থেকে ইমার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি কলেজটির বিজ্ঞান বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে পুলিশ দাবি করে, মোবাইল ফোন চুরির অপবাদ সইতে না পেরে তিনি আত্মহত্যা করেন।

শুক্রবার সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) মর্গে ইমার লাশের ময়নাতদন্ত শেষে লাশ চাঁদপুরে গ্রামের বাড়িতে নেয়া হয়। তার বড় মামা এএসএম শাহজালাল বলেন, ‘ইমার বাবা ইব্রাহিম খলিল ব্যবসায়ী ও মা সুরাইয়া বেগম স্কুলশিক্ষক। তারা সচ্ছল পরিবার। এমন পরিবারের মেয়ের মোবাইল ফোন চুরি করার কোনো কারণ থাকতে পারে না। কলেজ কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা থাকায় ছাত্রীনিবাসে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতেন না ইমা। এ কারণে তার জন্য বিদেশ থেকে আনা একটি দামি মোবাইল ফোন বাসায় রেখে দেয়া হয়েছে।’

তার অভিযোগ, পুলিশ যে চিরকুট দেখিয়ে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে প্রমাণ করতে চাইছে, সেটির হাতের লেখাও ইমার নয়। মৃতদেহের ঝুলন্ত অবস্থার ছবি দেখেও স্বজনদের মনে হয়েছে, তাদের মেয়ে আত্মহত্যা করেননি। কারণ, ইমার পা মেঝের কাছে ছিল। পরিবারের ধারণা, কোনো কারণে ইমাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।’

স্বজনরা জানান, ইমার বাবা ব্যবসায়িক প্রয়োজনে রাজধানীর কদমতলীর রায়েরবাগের বাসায় থাকতেন। তার মা চাকরির কারণে থাকতেন গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরে। শুক্রবার সন্ধ্যায় গ্রামের বাড়িতে ইমার লাশ দাফন করা হয়।

গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফিরোজ কবীর বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলেই ধারণা করা হচ্ছে। চিরকুটেও মেয়েটি সে কথা লিখে গেছে। ময়নাতদন্তে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় এখনও কোনো মামলা হয়নি।’