মেইন ম্যেনু

ক্যাম্পাসে বসে পুলিশের অপেক্ষায় ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ ছাত্ররা

রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ ওঠা ভারতের জওহর লাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) কয়েকজন ছাত্রের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পুলিশও তাঁদের গ্রেপ্তার করার জন্য খুঁজে পাচ্ছিল না। তবে গতকাল রোববার রাতে প্রকাশ্যে এলেন তাঁরা। একেবারে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উপস্থিত হয়ে ছাত্র-শিক্ষকদের কর্মসূচিতে অংশ নিলেন।

খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার বাইরেই উপস্থিত হয় পুলিশ। তবে সেখানে প্রবেশের অনুমতি না থাকায় ওই ছাত্রদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি তারা। ফলে পুরো রাত সেখানে সৃষ্টি হয় এক নাটকীয় পরিস্থিতি।

এনডিটিভির এক খবরে বলা হয়, কর্মসূচি থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়, পুলিশ যদি ছাত্রদের ওপর চড়াও হয় তাহলে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

অবশ্য পুলিশ বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোনো লিখিত অনুমোদন ছাড়া তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করবে না।

রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ ওঠা ছাত্রদের মধ্যে উমর খালিদ, অনির্বাণ, আশুতোষ, রমা নাগা ও অনাথ প্রকাশ গতকাল রাতে জেএনইউর কয়েকশত ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের সাথে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দিয়েছেন।

ওই ছাত্রদের একজন এনডিটিভিকে বলেন, ‘আমাদের লুকিয়ে থাকতে হচ্ছে, কারণ আমাদের জীবন নিয়ে আমরা শঙ্কিত।’

২০০১ সালের ১৩ ডিসেম্বর পাঁচজন স্বশস্ত্র বন্দুকধারী ভারতের পার্লামেন্টে ঢুকে এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে নয়জনকে হত্যা করে। নিহতের মধ্যে ছয়জন নিরাপত্তাকর্মী ও একজন বাগানের এক মালি। একই সঙ্গে মারা যান হামলাকারী পাঁচ জঙ্গি। ওই হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে জঙ্গি সংগঠন জয়েশ-ই-মোহাম্মদের নেতা আফজাল গুরুকে দোষী সাব্যস্ত করেন ভারতের সর্বোচ্চ আদালত।

ভারতে পার্লামেন্টে হামলায় দায়ে ২০১৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি তিহার জেলে কার্যকর করা হয় আফজাল গুরুর মৃত্যুদণ্ড। এর আগের আট বছর ওই জেলেই বন্দি ছিলেন তিনি।

এ বছর ৯ ফব্রুয়ারি আফজাল গুরুর মৃত্যুবার্ষিকীতে জেএনইউর ছাত্ররা রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দিয়েছে বলে অভিযোগ আনে ভারত সরকার। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়টির ১৬ জন ছাত্রের বিরুদ্ধে রাষ্টদ্রোহের অভিযোগে মামলা করা হয়। এর মধ্যে কানাইয়া কুমার নামে ছাত্র সংসদের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করে তিহার জেলে পাঠায় পুলিশ। এরপর থেকে জেএনইউতে বিক্ষোভ চলছে।

৯ ফেব্রুয়ারি পর থেকে মামলার অভিযুক্ত উমর খালিদসহ পাঁচ ছাত্র লুকিয়ে ছিলেন। গতরাতে তাঁরা বলেন, আমরা কখনো কোনো রাষ্ট্রদ্রোহী আচরণ বা বক্তব্য দেইনি।

আলোচিত এই ঘটনার জন্য উমর খালিদকেই প্রধান দোষী বলে মনে করছে পুলিশ।

উমর খালিদ বলেন, ‘গত সাত বছরে প্রথমবারের মতো আমার নিজেকে মুসলমান বলে মনে হচ্ছে। বিশেষ করে গত দশ দিনের কারণে। আমি আমার পরিচয় হারিয়েছি। এটি খুবই লজ্জাজনক। তাদের কারণেই এটি হয়েছে যারা দেশপ্রেমের কথা বলছে। তারা সংখ্যা গরিষ্ঠ, কিন্তু তারা আমাদের ভয় পায়। তারা আমাদের ভয় পায়, কারণ আমরা চিন্তা করি।’



(পরের সংবাদ) »