মেইন ম্যেনু

ক্যাম্পাস আড্ডায় রাবির শিক্ষার্থীরা

‘সাঁধের ক্যাম্পাসে প্রাণের আড্ডা’

ইয়াজিম ইসলাম পলাশ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে : প্রচন্ড রোদ। এরই মাঝে ছায়াযুক্ত সবুজ পরিবেশ। চায়ের কাপের টুং টাং শব্দ। হঠাৎ, মামা সাত কাপ চা। তুই কিছু বুঝিস নাকি? জীবনে কিছ্ইু তো পারিস না, একটা বল কিভাবে করতে হয় তাই তো জানিস না আর মুখে তো ঠিকই বলছিস। এভাবেই শুরু করল সায়েম। আরে, তিন বলে মাত্র দুই রান দরকার রে! কি মিসটাই না করল মামা, বলল রবিন। একে একে শুরু করল সবাই, থামার কোন নামই নেই,এ যেন কথার ফুলঝুরি। সকালটার শুরু এভাবেই।

একজনের কথা কেঁড়ে অন্যের কথা বলার প্রবণতাটাই বেশি। দেখে মনে হচ্ছে কথার হাঁট। আড্ডার বিষয়বস্তু ক্রিকেট। কোন খেলোয়ারের ভালো খেলল, কার ভুল কোথায় এগুলো বের করতেই যেন মরিয়া। সবাই এমনই চুলচেরা বিশ্লেষণে ব্যস্ত। চায়ের কাপ হাতে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের আড্ডার মাত্রাটাই যেন আলাদা।

বলছিলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া চত্ত্বরের একঝাঁক তরুণ শিক্ষার্থীদের কথা। তারা সবাই গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী। জমজমাট আড্ডার ফাঁকে কথা হলো তুখোর আড্ডাবাজ জহুরুলের সাথে। তিনি বললেন, ‘আড্ডা হলো আমাদের প্রাণ। পড়ালেখার ফাঁকে যেটুকু সময় পাই তা আড্ডাতেই কেটে যায়। আড্ডার মাধ্যমে একে অপরের সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে নেওয়া যায়। আড্ডা যেন আমাদের সিলেবাসের একটা অংশ।’

20160419_183403

কিছুদুর এগিয়েই চোখে পড়ে টুকিটাকি চত্ত্বর। ক্যাম্পাসের আড্ডার প্রাণকেন্দ্রই যেন এ চত্ত্বরটি। সবাই আসেন এখানে আড্ডা দিতে। দিনে একবার না আসলে যেন দিনটাই অসম্পূর্ণ থেকে যায়। এখানে খাবারের পাশাপাশি আড্ডার যে আনন্দ সেটা পাওয়া যায় তা সত্যিই অতুলনীয়। কি সকাল, কি বিকাল, সবসময় আনন্দমুখর পরিবেশে থাকে এটি। মান্না দের কফি হাউজের সেই আড্ডামঞ্চের মতো এই আড্ডামঞ্চকে নিয়ে রয়েছে অনেকের নানা স্মৃতি। শুধু তাই নয় পুরো ক্যাম্পাসটাই যেন স্মৃতিময়। শহীদ মিনার, প্যারিস রোড, চারুকলা বিভাগের সামনে পলাশ চত্ত্বর, টি.এস.সি, আম চত্ত্বর, স্নান চত্ত্বর, ইবলিশ চত্ত্বর, পুকুর পাড়, চায়ের দোকান, খেলার মাঠ সব জায়গায় যেন আড্ডার কেন্দ্রস্থল। জায়গার নাম এরুপ হওয়ার পিছনে রয়েছে নানা ইতিহাস। যেমন: ইবলিশ নামক নাটক মঞ্চস্থ হওয়ার কারণে জায়গাটির নাম হয়েছে ইবলিশ চত্ত্বর। বিকাল থেকে এখানে চলে আড্ডা। কখনো কখনো অনেক রাত পর্যন্ত চলে এ আড্ডা। এমনই এক মধুময় বিকালে ঘুরতে এসে দেখতে পেলাম কিছু শিক্ষার্থী জন্মদিন পালন করছে।

কথা হয় তার সাথে যার আজ জন্মদিন, এ আর আজাদ, ব্যবস্থাপনা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। সে নিজেই জানে না যে এইভাবে তার জন্মদিন পালন করা হবে। বন্ধুরা সব আয়োজন করে তাকে ডেকে নিয়ে আসে। তিনি বললেন গোধূলি লগ্নে প্রিয় বন্ধুদের সাথে মোমবাতি জালিয়ে কেক কেটে জন্মদিন পালন করার মজাই আলাদা। পরিবারের সাথে উৎযাপন করতে না পারলেও মনে হচ্ছে পরিবারের সাথেই আছি। বন্ধুরা মানেই সবকিছু ভাগাভাগি করে নেওয়া। হাসি, কান্না, আনন্দ, দুঃখ ভাগাভাগি করা আর মাঝে মাঝে মিষ্টি দুষ্টমির সাথে ক্যাম্পাস জীবনটাই অসাধারণ মনে হয়।