মেইন ম্যেনু

ক্রমেই বাড়ছে পুলিশের অপরাধ কর্মকাণ্ড

চট্টগ্রাম নগরীতে গ্রেপ্তারের হুমকি দিয়ে টাকা আদায়, নির্যাতন এবং ইয়াবা পাচারসহ নানা অপরাধে পুলিশ সদস্যদের জড়িয়ে পড়ার বেশ কয়েকটি ঘটনা ধরা পড়েছে।

গত বছরের তুলনায় এ বছরের প্রথম ছয় মাসে পুলিশ সদস্যদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সংখ্যা অর্ধ শতাধিক বেড়েছে বলে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে।

মহানগর পুলিশ কার্যালয়ের এক নথিতে দেখা যায়, ২০১৪ সালে যেখানে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ১৬০টি অভিযোগ জমা পড়েছিল, সেখানে চলতি বছর জুন পর্যন্ত ছয় মাসে অভিযোগ এসেছে ২২১টি।

যেসব পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে তাদের বেশিরভাগই উপ পরিদর্শক (এসআই) পদমর্যাদার, যারা মাঠ পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করেন।

এই পুলিশ সদস্যরা অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলাভঙ্গের পাশাপাশি নানা ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়লেও বেশিরভাগ ঘটনাই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আসে না বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন। ফলে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয় না তাদের বিরুদ্ধে।

এক বীমা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের হুমকি দিয়ে ৫০ হাজার টাকা দাবির অভিযোগে গত ২৫ জুন ভোরে শিল্প পুলিশের এসআই মাহবুবুর রহমানকে আটক করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। তাকে গ্রেপ্তার না দেখিয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।

এর চার দিন আগে গত ১১ জুন পাঁচলাইশ এলাকায় একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযানে গিয়ে টাকা দাবির অভিযোগ ওঠার পর গোয়েন্দা পুলিশের এক এসআই ও এএসআইসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত করে নগর পুলিশ কর্তৃপক্ষ।

এছাড়া গত ৩ জানুয়ারি রেল স্টেশন এলাকায় এক ব্যক্তির কাছ থেকে সোনার বার উদ্ধার করে নিজের কাছে রেখে দেওয়ার অভিযোগে গোয়েন্দা পুলিশের এসআই আবুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।

২৮টি সোনার বার আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগ ওঠার পর তার কাছ থেকে ২৩টি বার উদ্ধার করা হয়।

একই দিনে হালিশহর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হয় ছয় ‘মোটর সাইকেল চোর’, তাদের একজন পুলিশের কনস্টেবল। মনির হোসেন নামের ওই কনস্টেবল পুলিশের এসআরএফ শাখায় কর্মরত ছিলেন।

মহানগর পুলিশের তথ্যে জানা গেছে, গত বছর অপরাধ বিবেচনা করে একজন এসআই, একজন এএসআই ও ছয় কনস্টেবলের বেতন কেটে রাখা হয় এবং দুইজন এএসআইকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়।

এছাড়া একজন সার্জেন্ট, একজন এএসআই ও আট কনস্টেবলের বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট স্থগিত করা হয়।

লঘু দণ্ড হিসেবে ১৩ জন এসআই ও আটজন এএসআইকে সতর্ক করা হয়। এছাড়া ১৭ জন এসআই, একজন করে টিএসআই ও আমর্ড এসআই, ছয়জন এএসআই ও দুইজন নায়েককে করা হয় তিরস্কার।

এ বছরের ২২ জুন পর্যন্ত অভিযোগের মধ্যে চার কনস্টেবলের ইনক্রিমেন্ট স্থগিত এবং একজনের বেতন কাটা হয়েছে। এছাড়া এক এসআইকে ‘কালো তালিকাভুক্ত’ করা হয়েছে।

তিনজন করে এসআই ও এএসআই, একজন টিএসআই ও ২০ জন কনস্টেবলের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত চলছে। এছাড়া ১০৫ জন পুলিশ সদস্যেকে সতর্ক ও তিরস্কার করা হয়েছে।

পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত শেষে বিষয়টি চূড়ান্ত আদেশের অপেক্ষায় আছে।

এদিকে গত ২১ জুন ফেনীর লালপোল এলাকায় পুলিশের বিশেষ শাখায় কর্মরত এক এএসআইকে প্রায় আট লাখ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। ইয়াবা পাচারের সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যের নাম উঠে আসে তার জবানবন্দিতে।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন, অর্থ ও ট্রাফিক) এ কে এম শহিদুর রহমান বলেন, বিপুল সংখ্যক পুলিশ ফোর্সের মধ্যে ‘হাতেগোনা কয়েকজন’ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে।

“যারা এ ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ে তাদের বিষয়টি নজরে আসার সাথে সাথেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে আইনানুগভাবে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।” সূত্রঃ দৈনিক কালের কণ্ঠ