মেইন ম্যেনু

ক্রিকেটের জন্য অস্ট্রেলিয়া কতটা নিরাপদ?

নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে বাংলাদেশ সফর স্থগিত করার একদিন পরই জঙ্গি হামলায় কেঁপে ওঠলো অস্ট্রেলিয়া।সিডনির নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যে পুলিশ সদরদপ্তরে আজ দুপুরে এই জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে।

অস্ট্রেলিয়ায় জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটলেও এর আগে শক্তহাতে জঙ্গি দমন করে বার বার বিশ্বের প্রশংসা কুঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীর বাহিনীর একাধিক টিম কেবল জঙ্গি দমনের কাজেই সর্বদা নিয়োজিত। যখনই ওদের সংগঠিত হওয়ার আলামত পাওয়া যাচ্ছে ঠিক তখনই তা নস্যাৎ করে দেয়া হচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ায় আজকের জঙ্গি হামলার পর জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে যে, অস্ট্রেলিয়া খেলোয়াড়দের জন্য কতটা নিরাপদ? আগামী মাসেই নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলের অস্ট্রেলিয়া সফর করার কথা রয়েছে।

অস্ট্রেলিয়াকে চার স্তরের নিরাপত্তা দেয়ার অঙ্গিকার করেও বাংলাদেশ তাদেরকে ঢাকা সফরে আনতে পারেনি।আর রাস্তায় একাকি জগিং করার সময় ইতালির একজন নাগরিক খুন হওয়ার পর কয়েকটি দেশের দূতাবাস একযোগে যেন গভীর ঘুম থেকে জেগে ওঠলো, জারি করলো সতর্কতা। বিষয়টা আগুনে ঘি ঢালার মতো হলো। একের পর এক সতর্কতা জারি করে অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশ সফরটা স্থগিতের সিদ্বান্ত করিয়েই ছাড়লো।

অথচ অস্ট্রেলিয়ায় পুলিশ সদর দপ্তরে জঙ্গি হামলার পর পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোকে সেভাবে সচল হতে দেখা গেলা না। এখন অস্ট্রেলিয়া তথা পশ্চিমা বিশ্বের এই আচরণকে সন্দেহের চোখে না দেখে কী উপায় আছে?

প্রশ্ন দেখা দিয়েছে-এখন কী নিউজিল্যান্ড তাদের অস্ট্রেলিয়া সফর বাতিল করে দিবে? জঙ্গি বা সন্ত্রাসী হামলা আজ কোন দেশে না হচ্ছে? ভারত, শ্রীলঙ্কা, ব্রিটেন, আমেরিকা থেকে শুরু করে কম বেশি সব দেশেই এই হামলার ঘটনা ঘটছে।এসব দেশে কী খেলাধুলা হচ্ছে না? সন্ত্রাসী হামলা হলেই যদি খেলা বন্ধ করে দেয়া হয় তাহলে তো সন্ত্রাসীরা সুবিধা পেয়ে বসবে।আর যাই হোক ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রণ তো আর সন্ত্রাসীদের হাতে ছেড়ে দেয়া যায় না।

বাংলাদেশের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া যে কাজটি করলো তা সন্ত্রাসবাদকে এক ধরণের প্রশ্রয় দেয়ার শামিল। কেউ চায় না জঙ্গি হালার জন্য নিউজিল্যান্ড তাদের আগামী মাসের অস্ট্রেলিয়া সফর বাতিল করে দিক।

বাংলাদেশ সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকিতে থাকার খবর বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর হাতে না থাকলেও অস্ট্রেলিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার হতে থাকার বিষয়টি যে হাস্যকর তার প্রমাণ মিললো আজ অস্ট্রেলিয়ায় জঙ্গি হামলায়।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে-অস্ট্রেলিয়া যখন নিজেই জঙ্গি হামলার মুখে দাঁড়িয়ে ঠিক তখন নিজেদের ঝুঁকির বিষয়টির খোঁজ না নিয়ে তারা বাংলাদেশে সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকির খবর পায় কী করে? এ ব্যাপারে অস্ট্রেলিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার ছলচাতুরি খতিয়ে দেখার দাবি রাখে।

নিউ ইয়র্কে সদ্য সমাপ্ত জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুলি বিশপ জানান, ‘সরকারি তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে আইএস ও অন্যান্য সন্ত্রাসী দলের সদস্য হয়ে ইরাক ও সিরিয়ায় অস্ট্রেলিয়ার ১২০ জন নাগরিক যুদ্ধ করছে। আইএসে অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকদের যোগদানের সংখ্যা কমানোর চেষ্টা চলছে দীর্ঘদিন ধরেই। তবে এ ব্যাপারে পররাষ্ট্র দফতর সম্পূর্ণ সফল হতে পারেনি। এ পর্যন্ত আইএসের পক্ষে যুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার ২০ জন নাগরিক নিহত হয়েছে।’

অপরদিকে বাংলাদেশ থেকে কোনো নাগরিক সরাসরি আইএসে যোগদান করেনি। বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত কয়েকজন ব্রিটিশ নাগরিক আইএসে যোগ দিয়েছে বলে খবরে জানা গেছে।

অস্ট্রেলিয়া নিরাপত্তা সংকটে রয়েছে এ ধারণাকে আরও মজবুত করে গত কয়েক বছরে অস্ট্রেলিয়ায় সংঘটিত বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা।

২০১৪ সালে দেশটির সিডনি শহরে ৪০ জন নাগরিককে জিম্মি করে সন্দেহভাজন জঙ্গিরা। এ ঘটনায় এক জন নিহত হন।

পরিসংখ্যান থেকে বলা যেতে পারে বাংলাদেশের থেকে বেশি নিরাপত্তা সংকটে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া।

এমন পরিস্থিতিতে আগামী নভেম্বরে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলের সম্ভাব্য অস্ট্রেলিয়া সফর ঠিক থাকে কিনা সেটাই দেখার বিষয়।