মেইন ম্যেনু

ক্রীড়া ও বিনোদনে সরকারী পৃষ্টপোষকতা না থাকায় বাড়ছে অপরাধ প্রবনতা

পর্যটন সীমান্ত ও বাণিজ্যিক উপ-শহর টেকনাফ এ উপজেলায় স্বাধীনতার পর হতে গড়ে উঠেনি শিশু কিশোরদের ও যুবসমাজের জন্য ক্রিড়া ও বিনোদনের কোন সু-ব্যবস্থা।

ফলে এ সীমান্ত উপজেলায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে অপরাধ প্রবনতা। শিশু কিশোর ও যুব সমাজের শত আগ্রহ থাকার শর্তেও ক্রীড়া ও বিনোদনের ব্যবস্থা না থাকায় তারা ক্রমান্বয়ে অপরাধ জগতে পা বাড়াচ্ছে। স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় ক্রীড়া ও বিনোদনের জন্য শিক্ষক রয়েছে।

এ শিক্ষকেরা মাসের পর মাস নামে মাত্র ক্রীড়া ও বিনোদনের বিল ভাউচার দেখিয়ে বেতন গুনছে। এ ছাড়া প্রতিমাসে শিক্ষা প্রতিষ্টানে বেতন নেওয়ার সময় ক্রীড়া ও বিনোদন বাবদ ফি নেই। অথচ এখাতে কোন একটি কানাকড়িও ব্যবহার করা হয়না বলে ছাত্র/ছাত্রীরা জানায়। অতীতে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্টান সমূহে বার্ষিক ক্রীড়ার আয়োজন করা হত। ইদানিং তাও চোখে পড়ে না।

খাতা কলমে বিল, ভাউচার দেখিয়ে অর্থ আত্মসাত করা হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্টান ছাড়া উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদে ক্রীড়া ও বিনোদনের জন্য আলাদা বাজেট থাকে। অথচ এ বাজেট দিয়ে কোন ক্রীড়া বিনোদনের ব্যবস্থা করা হয় না টেকনাফে।

এ অর্থ গুলো যায় কোথায় প্রশ্ন সচেতন মহলের। বিগত ২/৩বছর পূর্বে টেকনাফ উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে উপজলো ক্রীড়া সংস্থার উদ্যেগে উপজেলা পর্য্যায়ে ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছিল। উপজেলার ক্রীড়ামোদী জনতা তা দীর্ঘ দিন পরে হলেও মন ভরে উপভোগ করেছিল। অংশ নিয়েছিলেন অনেক ক্রীড়া প্রতিষ্টান। ইদানিং তা বন্ধ হয়ে পড়েছে।

সূত্রে জানায়, উপজেলা পরিষদে প্রতি বছর ক্রীড়া ও বিনোদনের জন্য আলাদা বাজেট রাখা হয়। অথচ এ বাজেটের মাধ্যমে ইদানিং কোথাও কোন ক্রীড়া বা বিনোদন হচ্ছে না বলে উপজেলা লোকজন জানায়। বিশেষ টেকনাফ উপজেলা পরিষদে মহান স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবস সমূহে নামে মাত্র ক্রীড়া ও বিনোদনের ব্যবস্থা করা হয় তাও সাময়িকের জন্য।

উপজেলা পরিষদে ছাড়া যুবউন্নয়ন সবচেয়ে বেশী ভূমিকা রাখার কথা। অথচ এ ব্যাপারে তাদের কোন খবর নেই। দেশের প্রতিটি উপজেলায় ক্রীড়া ও বিনোদনের জন্য প্রশস্ত মাঠ বা ষ্টেডিয়াম রয়েছে। অথচ টেকনাফ উপজেলাটি এত গুরুত্বপূর্ন হওয়ার শর্তেও একটি প্রশস্ত খেলার মাঠ নেই। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনের কোন উদ্যেগ নেই বলে স্থানীয় লোকজন জানায়।

এদিকে স্থানীয় লোকজন জানায়, টেকনাফ উপজেলা পরিষদের খেলার প্রশস্ত মাঠটি হচ্ছে টেকনাফ পৌরসভার পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ। তা বর্তমানে গরুর বাজারে পরিনত হওয়ায় সেখানে খেলা-ধুলা বন্ধ হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদের ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ফরহাদুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমরা সরকারী কোন সাহায্য সহযোগিতা না পাওয়ায় টেকনাফের ক্রীড়া ও বিনোদনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারছিনা।

জনসাধারণের আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে চলতি বছরে ৮টি টুর্নামেন্ট শেষ করেছি। প্রচুর ক্রীড়ামোদী যুবক উপজেলার সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নৈপূর্ণ্যতা দেখিয়েছে।

বর্তমানে টেকনাফের ৩জন যুবক জেলার অনুর্ধ-(১৫) এর সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছে। এরা হচ্ছেন মোঃ আয়ুব রানা, মোঃ ফারুক ও শাকিব। এদের মধ্যে মোঃ শাকিব জেলায় সেরা খেলোয়ার হিসেবে জাতীয় ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে ডাক এসেছিল।

কিন্তু সরকারী পৃষ্টপোষকতা ও আর্থিক সংকটের কারনে যেতে পারেনি। এভাবে শত ক্রীড়ামোদী যুবক প্রতিটি ক্রিড়ায় পারদশী হওয়ার শর্তেও আর্থিক ও সরকারী পৃষ্টপোষকতা না থাকায় জাতীয় পর্য্যায়ে যেতে পারছেনা। ফলে দিন দিন টেকনাফের ক্রীড়া ও বিনোদন জিম্মিয়ে পড়েছে। যুব সমাজ ধাবিত হচ্ছে অপরাধ জগতে।

এ বিষয়ে ক্রীড়া মোদী যুবসমাজের জন্য উপজেলা পর্য্যায়ে একটি আধুনিক ষ্টেডিয়াম,বিনামূল্যে খেলা-ধুলার সরঞ্জাম ও ভাল খেলোয়াড়দের জন্য আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে জাতীয় পর্য্যায়ে পাঠানোর ব্যবস্থা করনের জন্য উপজেলার জনসাধারণ উখিয়া টেকনাফ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্জ আব্দুর রহমান বদির হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।