মেইন ম্যেনু

ক্ষমতার লড়াইয়ে সৌদি রাজপরিবার

সৌদি আরবের বর্তমান বাদশাহ সালমান বিন আবদুল-আজিজ আল সৌদ অনেকটাই অসুস্থ। তিনি আলঝাইমারে ভুগছেন। এ অবস্থায় সালমানকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চান তার আট ভাই। সম্প্রতি সালমানের জীবিত ১১ ভাইয়ের মধ্যে এক যুবরাজ ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য ইনডিপেনডেন্টকে এ কথা জানিয়েছেন।
আর তাদের এই সিদ্ধান্তে দেশের প্রভাবশালী ওলামা কাউন্সিলেরও সমর্থন মিলবে বলে দাবি করেছেন ওই যুবরাজ। বাদশাহকে সরাতে দেশের ওলামা কাউন্সিলের সমর্থন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বাদশাহ হিসেবে কোনো যুবরাজকে নির্বাচন করা ও তাকে ক্ষমতা অর্পণ করার অনেকটাই অধিকার রয়েছে তাদের হাতে।
এ বছর সালমান ক্ষমতায় আসার পরই রাজপরিবারের অভ্যন্তরীণ দ্বদ্ন্ব তৈরি হতে শুরু করেছে। ওই যুবরাজের মন্তব্য, তারা নতুন বাদশাহ হিসেবে যুবরাজ আহমদকে পছন্দ করছেন।
ওই দৈনিকের মতে, রাজপরিবারের যে যুবরাজ ওই অভ্যন্তরীণ সমস্যার কথা প্রকাশ করেছেন তিনি সম্প্রতি দেশের বাদশাহ বদলের কথা তুলে দুটি চিঠিও প্রকাশ করেছিলেন। তবে সৌদি বাদশাহ বদলানোর বিষয় কিন্তু এবারই প্রথম নয়।
এর আগে ১৯৬৪ সালে বাদশাহ সৌদকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সে সময় রাজপরিবারের সদস্য ও ওলামারা এক জোট হয়ে বাদশাহ সৌদের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেন। সেভাবেই হয় সৌদের মতো বাদশাহ সালমান পদত্যাগ ত্যাগ করবেন, নয়তো সব ক্ষমতা রাজকুমার আহমদকে দিতে হবে। এটাই সমাধানের একমাত্র উপায়। সম্প্রতি ইয়েমেনের সঙ্গে লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েছেন বাদশাহ সালমান। পাশাপাশি এ বছর হজে বড়সড় দুর্ঘটনা হয়ে গেল। একই সঙ্গে সম্প্রতি আইএমএফ সাবধান করেছে, আগামী ৫ বছরের মধ্যে সৌদি আরব প্রবল আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়তে পারে। এখনই দেশের বিপুল খরচ কমাতে না পারলে ওই সংকট থেকে বেরনোর উপায় নেই। কারণ তেলের দাম পড়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি আঞ্চলিক লড়াই সৌদির ওপর প্রভাব ফেলবে।
সম্প্রতি বাদশাহ সালমান দেশের ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্স ও তার ছেলে মহম্মদ বিন সালমানকে দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করেছেন। তিনি ক্ষমতায় এসেই ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েন। অথচ ওই লড়াইয়ের কোনো প্রয়োজন ছিল না। মহম্মদ বিন সালমান বর্তমানে এতটাই শক্তিশালী, যে কোনো ধরনের চিঠি বা ফোন তার মাধ্যমেই বাবা সালমানের কাছে যায়। প্রিন্স আহমদকেও কোনো কোনো মহল থেকে রাজপদের দাবিদার বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি রাজা সৌদের কনিষ্ঠ পুত্র। ৩৭ বছর ধরে তিনি দেশের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী ছিলেন। ২০১২ সালে তাকে দেশের ধর্মীয় স্থানগুলো রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু পদে বসার পাঁচ মাস পর তিনি স্বেচ্ছায় পদ ছেড়ে দেন। রাজপরিবারের সঙ্গে নীতিগত মতপার্থক্য হওয়ার কারণেই তিনি পদ ছাড়েন। আহমদ চাইছিলেন, দেশে বাকস্বাধীনতা দেওয়া হোক, দেশের বিচার ব্যবস্থা সংস্কার করা হোক এবং দেশে যেসব রাজনৈতিক বন্দীদের জঙ্গি বলে আটক করে রাখা হয়েছে তাদের ছেড়ে দেওয়া হোক। পরে তার জায়গায় ওই পদে আনা হয় প্রিন্স মহম্মদ বিন নায়েফকে। বর্তমানে তিনি ক্রাউন প্রিন্স।
সাক্ষাৎকারে ওই যুবরাজ বলেন, ‘বাদশাহ (সালমান) যদি বাদশাহ সৌদের মতো সৌদি ছেড়ে চলে যান তাহলে তাকে দেশে ও দেশের বাইরে সম্মান করা হবে। অথবা প্রিন্স আহমদকে ক্রাউন প্রিন্স বানাতে হবে এবং তাকে পুরো দেশ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব দিতে হবে। দিতে হবে অর্থনীতি, তেল, সামরিক বাহিনী, ন্যাশনাল গার্ড, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, গোয়েন্দা সংস্থা এ থেকে জেড পর্যন্ত সব দায়িত্ব।’

সৌদি রাজপরিবারে বিদ্রোহের শঙ্কা

আল-সৌদকে অপসারণ করে তার ভাইকে বসাতে চান বাদশাহ সালমানের আট ভাই। শনিবার বাদশাহর বিরুদ্ধাচরণকারী একজন প্রিন্সের বরাত দিয়ে দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাদশাহ সালমানের বদলে প্রিন্স আহমেদ বিন আবদুল আজিজকে ক্ষমতায় চান তারা। নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশ না করে ওই সৌদি প্রিন্স দাবি করেন, তাদের এই পরিবর্তন চাওয়ার পেছনে  দেশটির শক্তিশালী উলামা পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন রয়েছে। এর আগে প্রিন্স আহমেদ বিন আবদুল আজিজ দেশটির সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।  সৌদি আরবে উলামা পরিষদের সমর্থন দেশটির শাসক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ওই প্রিন্স বলেন, ১৯৬৪ সালে বাদশাহ সৌদের আমলে ঠিক এমনটাই ঘটেছিল। এত দিন পর হয়তো একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে যাচ্ছে।

প্রিন্স আরও বলেন, ‘বাদশাহ সৌদের মতো যদি বাদশাহ সালমান দেশ ত্যাগ করেন, তাহলে দেশে ও দেশের বাইরে তিনি সম্মানিত ব্যক্তি হয়ে থাকবেন।