মেইন ম্যেনু

ক্ষমতা গ্রহণের এক ঘণ্টার মধ্যেই অবৈধদের দেশছাড়া করব : ট্রাম্প

অনেকেরই ধারণা ছিল, মেক্সিকো সফর শেষ করে এসে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প মেক্সিকো এবং অবৈধ অভিবাসী ইস্যুতে সুর নরম করবেন। কিন্তু সবাইকে চমকে দিয়ে তিনি মেক্সিকো সফর থেকে আসার পরপরই বললেন, তিনি ক্ষমতা গ্রহণের এক ঘণ্টার মধ্যেই লাখ লাখ অভিবাসীকে দেশছাড়া করবেন। কাউকে ক্ষমা করা হবে না।

এ ছাড়া ট্রাম্প বলেছেন, অনুপ্রবেশ ঠেকাতে মেক্সিকো সীমান্তে দুই হাজার মাইল দীর্ঘ মহাপ্রাচীর গড়ে তোলা হবে। আর এই দেয়াল তোলার সব খরচ মেক্সিকো সরকারকে দিতে হবে। অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের ফিনিক্স শহরে গত বুধবার দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন ট্রাম্প।

দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার লড়াইয়ে ট্রাম্প এই অভিবাসন বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন। মনোনয়ন পাওয়ার পর তাঁর সুর নরম হয়ে আসে। আবার তিনি আগের অবস্থানে ফিরে এলেন।

অভিবাসন ইস্যুতে ১০ দফা পরিকল্পনাও করেছেন ট্রাম্প। তিনি সমাবেশে বলেন, ‘বিশ্বের কাছে আমাদের স্পষ্ট বার্তা: যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে ঢুকলে কেউ আইনি স্বীকৃতি বা নাগরিকত্ব পাবে না। ওই দিন শেষ হয়ে গেছে।’

মেক্সিকোতে গিয়ে সে দেশের প্রেসিডেন্ট পেনা নাইতোকে তিনি বলেন, তিনি নির্বাচিত হলে একটি বিশাল প্রাচীর নির্মাণ করবেন। তবে সেই দেয়াল নির্মাণের খরচ কে দেবে, তা নিয়ে কোনো কথা হয়নি বলে জানান। তবে প্রেসিডেন্ট পেনা এক টুইটার বার্তায় বলেছেন, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, দেয়াল নির্মাণের খরচ মেক্সিকো দেবে না।

ট্রাম্প অভিবাসন নিয়ে আরও কঠোর পরিকল্পনার কথা বলে যাচ্ছেন। এর মধ্যে আছে অপরাধের রেকর্ড আছে এমন অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো, অনিবন্ধিত কয়েক লাখ অভিবাসীর সুরক্ষায় প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নির্বাহী আদেশ বাতিল এবং এসব অবৈধ অভিবাসীর প্রতি বৈষম্য প্রতিরোধে কেন্দ্রীয় তহবিল বরাদ্দ বন্ধ করে দেওয়া।

অ্যারিজোনার সমাবেশে ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসীদের বেশির ভাগকেই ‘খুনি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি অবৈধ অভিবাসীদের তাড়িয়ে দিতে ‘বিশেষ টাস্কফোর্স’ গঠনের প্রতিশ্রুতি দেন। এ জন্য অভিবাসন কর্মকর্তাদের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে বলেও জানান ট্রাম্প।

তবে হিলারি ক্লিনটন তাঁর প্রচারণায় অবৈধ অভিবাসীদের বিষয়ে একটি পথ খোঁজার চেষ্টার কথা বলেছেন। তাঁর প্রচারণা, দল অভিবাসীদের নিয়ে ট্রাম্পের এই কথাবার্তাকে ‘ঘৃণার প্রচারণা’ বলে আখ্যায়িত করেছে।