মেইন ম্যেনু

ক্ষুদিরামের মূর্তির নীচে মদের আসর, বাধা দিতেই ‘কচু-বনে’ শহিদ! দেখুন ভিডিও…

ক্ষুদিরামের স্মৃতিবিজড়িত স্থানে মদ্যপানে বাধা। এর পরে ক্ষুদিরামের মুর্তি ভেঙে কচুর ঝোপে ফেলে দিল দুষ্কৃতীরা।

শহিদ ক্ষুদিরামের স্মৃতিবিজড়িত স্থানের আশে পাশে মাদক সেবন নিষিদ্ধ করায় দুষ্কৃতীরা ক্ষুদিরামের মুর্তিকেই তুলে ফেলে দিল কাছেই একটি ঝোপের মধ্যে৷ স্বাধীনতা দিবস পালনের আগের দিনে এমন আচরণে ক্ষুব্ধ শহিদ ক্ষুদিরাম স্মৃতিরক্ষা সোসাইটি৷ পুলিশে অভিযোগ করা হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও গ্রেফতারির খবর পাওয়া যায়নি।

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাতেই শহিদ ক্ষুদিরাম দাসের জন্ম। জেলার বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে তাঁর স্মৃতি। এই ঘটনাটি জেলার দাসপুর থানার বড়শিমুলিয়া গ্রামে৷ ১৯০৭ সালে এখানেই বৃটিশদের ডাক লুণ্ঠন করেছিলেন বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসু৷

শহিদ ক্ষুদিরাম স্মৃতিরক্ষা সোসাইটির কর্তারা সেই কাহিনি জানাতে গিয়ে বলেন, বৃটিশদের বিশেষ কোনও গোপন বার্তা ওই ডাক মারফৎ যাচ্ছিল বলে খবর ছিল৷ সেই তথ্য জানার পরে ক্ষুদিরাম বসুর উপরে ওই ডাক-লুঠের দায়িত্ব দেওয়া হয়। খবর ছিল, দাসপুরের সোনাখালি থেকে ঘাটালে পায়ে হেঁটে ডাক মারফত সেই চিঠি যাবে ভোরে৷ ওই বছরের অক্টোবর মাসে সেই চিঠি লুঠ করতে এক সহযোগীকে নিয়ে বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসু বড়শিমুলিয়া গ্রামে একটি বড় বটগাছের আড়ালে লুকিয়ে ছিলেন৷

imagfe (1)

যথাসময়ে সেই পথে ডাক আসতেই তিনি ঝাঁপিয়ে পড়ে তা লুঠ করে নিয়ে পালিয়েছিলেন৷ বড়শিমুলিয়ার সেই স্থানে ক্ষুদিরামের এই কাজের স্মৃতিতে একটি স্মারক তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। উদ্যোগী হন এই অঞ্চলের বেশ কয়েকজন স্বাধীনতা সংগ্রামী। ১৯৯৬ সালে বড়শিমুলিয়াতে তৈরি হয়েছিল শহিদ ক্ষুদিরাম স্মৃতিরক্ষা সোসাইটি৷ পুরনো বটগাছের তলায় শহিদ বেদি তৈরি করা হয়। পাশেই সোসাইটির অফিস ঘর৷

সম্প্রতি শহিদ বেদির নিচেই দুষ্কৃতীরা মদের আসরে বসায়। মদ্যপদের তাণ্ডব রুখতে সেখানে একটি নিষেধাজ্ঞার বোর্ড লাগিয়ে দেন সোসাইটি কর্তারা৷ এর পরে সেই নিয়ম মানতে কড়াকড়ি শুরু হয়৷ তার জেরেই মূর্তি ভাঙা হয়েছে বলে দাবি শহিদ ক্ষুদিরাম স্মৃতি রক্ষা সোসাইটির। রবিবার সকালে দেখা যায় ক্ষুদিরাম বসুর মূর্তিটি কিছুটা দূরে ঝোপে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

imagfe (1)

 

সোসাইটির সভাপতি বীরেন্দ্রনাথ দুয়ারি বলেন, ‘‘স্বাধীনতা দিবসের আগেই এই ঘটনায় আমরা মর্মহত। মদ্যপদের বিরোধিতা করাতেই এই ফল হয়েছে৷ পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেছি। অনুরোধ করেছি, অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার করা হোক। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক৷’’

দেখুন ভিডিও—