মেইন ম্যেনু

ক্ষ্যাপা কিমের ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে মুখ খুললেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে পৌঁছানোর মতো কোনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কাজ উত্তর কোরিয়া শেষ করতে পারবে না বলে দাবি করেছেন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে উত্তর কোরিয়াকে চীন সামলাতে পারছে না উল্লেখ করে বেইজিং কর্তৃপক্ষকেও উপহাস করেন তিনি। উত্তর কোরিয়া একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) তৈরির শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে পিয়ং ইয়ং-এর ঘোষণার একদিন পর টুইটারে এমন দাবি করেন ট্রাম্প।

উল্লেখ্য, রবিবার (১ জানুয়ারি) ইংরেজী নববর্ষ উপলক্ষে টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং-উন দাবি করেন তার দেশ একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বরাবরের মতোই তার এ ভাষণ ছিল আত্মপ্রচার, আড়ম্বরপূর্ণ প্রচারণা এবং পশ্চিমা বিরোধিতায় পূর্ণ।

কিম জং-উন বলেন, ‘উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও সামরিক শক্তির কারণে ভয়ঙ্কর শত্রুরা এখানে হস্তক্ষেপের দুঃসাহস করবে না। যুক্তরাষ্ট্র ও তার বাহিনী যদি আমাদের নাকের ডগায় পরমাণু হুমকি ও ব্ল্যাকমেইল এবং যুদ্ধের মহড়া বন্ধ না করে তাহলে উত্তর কোরিয়া তার সামরিক সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করা অব্যাহত রাখবে। পারমাণবিক শক্তির সাহায্যে আত্মরক্ষার সক্ষমতা অর্জন করা হবে।’

আর এর একদিন পরই সোমবার (২ জানুয়ারি) এক টুইটে ট্রাম্প দাবি করেন, উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানার মতো কোনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কাজ শেষ করতে পারবে

না বলেই বিশ্বাস করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘উত্তর কোরিয়া ঘোষণা দিয়েছে তারা যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর সক্ষমতা সম্পন্ন একটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সেটা ঘটবে না।’

তবে ট্রাম্প তার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে কি আইসিবিএম তৈরিতে উত্তর কোরিয়ার অক্ষমতার কথা বলেছেন নাকি সে অস্ত্র তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্র বাধা দেবে বলে বোঝাতে চেয়েছেন সে বিষয়টি স্পষ্ট নয়।

উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ইস্যুতে বলতে গিয়ে চীনকেও ছাড়েননি ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘চীন এক পাক্ষিক বাণিজ্য করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রচুর পরিমাণ অর্থ ও সম্পদ নিয়ে যাচ্ছে, অথচ উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে কিছু করতে পারছে না। চমৎকার!’

উত্তর কোরিয়া ২০১৬ সালে বেশকটি ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায়। আগের পূর্ববর্তী বছরগুলোর তুলনায় গতবছর দেশটির এমন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ছিল লক্ষ্যণীয়। তবে পশ্চিমা বিশেষজ্ঞদেরও ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানার মতো পারমাণবিক ওয়ারহেড যুক্ত আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পর্যায় থেকে এখনও কয়েক বছর পিছিয়ে আছে পিয়ংইয়ং।

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন গতবছর ক্ষুদে পরমাণু বোমার আরও পরীক্ষা চালানোর জন্য দেশটির সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশ দেন। যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিশাল যৌথ সামরিক মহড়া এ নির্দেশ দেওয়া হয়। গত মার্চে একটি পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনকালে কিম জং-উন ক্ষুদে পরমাণু বোমা তৈরির দাবি করেন। এ জাতীয় বোমা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে বসানো যায়। তখন কিমের বক্তব্যের সমর্থনে বেশকিছু ছবিও প্রকাশ করে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। তবে এসব ছবি থেকে এ দাবির সত্যতা নিরূপণ করা সম্ভব নয়।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের জন্য চাপ দিয়ে আসছে। এ জন্য আলোচনা থেকে শুরু করে অবরোধ আরোপ পর্যন্ত নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাতে নিভৃতকামী কমিউনিস্ট দেশটির অবস্থানের বিশেষ পরিবর্তন নেই। তারা পরমাণু অস্ত্রের সম্ভার বাড়িয়েই চলেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া চাইছে, উত্তর কোরিয়া নিজে থেকে শর্তহীনভাবে তার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ত্যাগ করবে। কিন্তু পিয়ংইয়ং বারবার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি পরিত্যাগ করার কোনও ইচ্ছা তার নেই।

উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক পারমাণবিক পরীক্ষা ও দূরপাল্লার রকেট উৎক্ষেপণকে কেন্দ্র করে দেশটির সঙ্গে প্রতিবেশী ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এরমধ্যেই ২০১৬ সালের ৭ মার্চ শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়া যৌথ সামরিক মহড়া। এ মহড়াকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ায় পারমাণবিক হামলার হুমকি দেয় উত্তর কোরিয়া।

কোরিয়ান পিপল’স আর্মির সুপ্রিম কমান্ডের পক্ষ থেকে তখন এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যদি এ মহড়া বন্ধ করা না হয়, তাহলে ওই দুই পরস্পর মিত্র দেশে উপর্যুপরি পারমাণবিক হামলা চালানো হবে।