মেইন ম্যেনু

কয়লা খনি থেকে গ্যাস তোলা হবে

দেশের সর্ববৃহৎ জামালগঞ্জ কয়লা খনি থেকে কোল বেড মিথেন (সিবিএম) পদ্ধতিতে মিথেন গ্যাস উত্তোলন করা হবে। এজন্য সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু হচ্ছে। প্রকল্প এলাকায় তিনটি কূপ খনন করা হবে। এতে ব্যয় হচ্ছে ২৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।

সিবিএম পদ্ধতি হচ্ছে, কয়লাস্তরের মধ্যে থাকা মিথেন গ্যাসকে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে আহরণ করা।

আগামী ৫ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ প্রকল্পটি উদ্বোঘধন করবেন।

এ কাজের পরামর্শক হিসেবে কাজ করছে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান মাইনিং অ্যাসোসিয়েটস প্রাইভেট লিমিটেড। গত বছরের ২১ জুন কোম্পানিটির সঙ্গে চুক্তি করে পেট্রোবাংলা। প্রকল্পটির মেয়াদ চলতি বছরের জুন পর্যন্ত।

তিন কূপের প্রতিটির গভীরতা হবে এক হাজার ১০০ মিটার। এর মাধ্যমে কয়লার নমুনা সংগ্রহ, কয়লাস্তরে গ্যাসের উপস্থিতি নির্ণয় করা হবে। নমুনা ভারতে পরীক্ষা করা হবে। গত বছরের ১৪ মে জ্বালানি বিভাগ প্রথমবারের মতো এ পদ্ধতি ব্যবহারের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে পেট্রোবাংলার প্রস্তাবকে অনুমোদন দেয়।

জয়পুরহাটের জামালগঞ্জ কয়লা খনির মাটির অনেক গভীরে কয়লা আছে। উন্মুক্ত বা ভূগর্ভস্থ পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন সম্ভব নয়। তাই সিবিএম পদ্ধতির কার্যকারিতা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে ৷

পেট্রোবাংলা নিজস্ব অর্থায়নে এ কাজটি করবে। ১৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয় হবে খননকাজে। জমি ইজারা, ইজারাকৃত জমির ফসলের ক্ষতিপূরণ এবং যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে বাকি টাকা ব্যয় হবে।

১৯৬২ থেকে ১৯৬৫ সালের এক জরিপে জয়পুরহাটের জামালগঞ্জে কয়লার সন্ধান পাওয়া যায় ৷ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের তথ্য অনুয়ায়ী, বাংলাদেশে যে কয়টি কয়লা খনি আছে তার মধ্যে এ খনি সবচেয়ে বড়। ১৬ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে থাকা এ খনিতে কয়লা রয়েছে মাটির ৬৪০ থেকে ১ হাজার ১৫৮ মিটার গভীরে। মজুদের সম্ভাব্য পরিমাণ ১ হাজার ৫০ মিলিয়ন টন।

দেশের পাঁচ কয়লা খনির মধ্যে বর্তমানে একমাত্র বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে ভূগর্ভস্থ পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, দেশের কয়লা খনির সবগুলোই উত্তরাঞ্চলে। এ অঞ্চলের কৃষিজমি ও ভূগর্ভস্থ পানির বিপুল সমারোহের কারণে উন্মুক্ত ও ভূগর্ভস্থ পদ্ধতির মাধ্যমে কয়লা উত্তোলন নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

২০১৩ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ হাইড্রোকার্বন ইউনিট সরকারকে জানায়, যেসব খনিতে উন্মুক্ত ও ভূগর্ভস্থ উত্তোলন পদ্ধতির মাধ্যমে কয়লা তোলা সম্ভব না, সেসব খনিতে সিবিএম ও ইউসিজি পদ্ধতিতে কয়লা তোলার সুপারিশ করা হয়েছে। হাইড্রোকার্বন ইউনিট ভারতীয় পরামর্শক সংস্থা মেসার্স প্রাইস ওয়াটার হাউস কুপার্স প্রাইভেট লিমিটেডের মাধ্যমে এ বিষয়ে একটি জরিপ চালায়।

তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের কয়লা উত্তোলনের ক্ষেত্রে সিবিএম ও ইউসিজি পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে। এ দুই পদ্ধতিতে উত্তোলিত গ্যাস বায়ুমণ্ডলের গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন প্রতিরোধ এবং খনি এলাকার নিরাপত্তা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ইউজিসি পদ্ধতি হচ্ছে ভূগর্ভস্থ কয়লাকে পুড়িয়ে গ্যাসে রূপান্তর করে তা তুলে নিয়ে আসা।