মেইন ম্যেনু

খটখট শব্দে মুখরিত দর্জি পল্লী

কে.এম জাহেদ, চট্টগ্রাম থেকে : আধুনিক যন্ত্রপাতি উদ্ভাবনের ফলে আজ তৈরি হচ্ছে নানান মান ও নকশায় পোশাক। সভ্যতার সঙ্গে তাল মেলাতে তৈরি পোশাকের কদর বেড়েছে নানা বসয়ী মানুষের কাছে। এ পরিবর্তনের ধারা পাল্টে দিয়েছে দর্জিদের কাজকর্ম। আধুনিক এসব মানের পোশাকের মান ও নকশার সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই তৈরি করতে হচ্ছে নারী ও পুরুষের বিভিন্ন পোশাক। তৈরি পোশাকের উপরে মানুষের চাহিদা থাকলেও বিভিন্ন কারণে দর্জিদের তৈরি করা পোশাকের প্রতি এক অন্যরকম আকর্ষণ এখনো বিদ্যামান। আর তাইতো ঈদের নতুন পোশাক তৈরিতে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন চট্টগ্রামের দর্জিরা।

জেলা সদর ছাড়াও বিভিন্ন হাট-বাজার ও গ্রামে গ্রামে রয়েছে অসংখ্য দর্জি। সারাবছর আগের মতো ব্যস্ততা না থাকলেও বছরের দুই ঈদের আগে তাদের ব্যস্ততার শেষ থাকে না। রমজানের শুরু থেকেই এবার পোশাক তৈরির অর্ডার পেয়েছেন বেশিরভাগ দর্জি। যা অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি। তাই নিয়মিত কারিগরদের পাশাপাশি মৌসুমী কারিগর নিয়োগ করেও ব্যস্ততা কমছে না। প্রতিদিনই নতুন নতুন অর্ডার হচ্ছে। ঈদে মানুষের নতুন পোশাক তৈরি করার জন্য দিনরাত পরিশ্রম করছেন অনেক দর্জি দোকানের কারিগররা।

নগরীর কয়েকটি দোকান ঘুরে দেখা গেছে, পোশাক কারিগরদের কথা বলার মতো সময়টুকুও নেই। একমনে কাজ করে যাচ্ছেন। সেলাই মেশিনের খটখট শব্দে মুখরিত গোটা বিপণীবিতানগুলো। অন্যদিকে, কেচির খ্যাচ খ্যাচ শব্দে আপন মনে মাপ অনুযায়ী কাপড় কেটে যাচ্ছেন কাটিং মাস্টাররা। নারী-পুরুষের কাপড় তৈরির জন্য আলাদা আলাদা দর্জির দোকান রয়েছে।

নারীদের পোশাক তৈরি মাস্টার জেডি টেইলার্স মালিক মাসুম জানান, এবারের ঈদে মেয়েদের পোশাকের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে লেহেঙ্গা। এছাড়াও থ্রীজি, গুগল, ম্যাসেঞ্জার, জিপসি ও সাধারণ স্যালোয়ার কামিজের অর্ডারও রয়েছে ব্যাপক পরিমাণ। পোশাকের দোকান থেকে কাপড় কেনার পর তা শরীরের ফিটিং মতো তৈরি করতে দর্জিদের স্মরণাপন্ন হচ্ছেন ক্রেতারা। একটি লেহেঙ্গা ফিটিং মূল্য পাঁচশত টাকা।

পোশাক তৈরি করতে আসা কয়েকজন নারী জানান, মেয়েদের পোশাক তৈরির আলাদা দর্জির দোকান তাই সুবিধা অনেক। মনের মতো ডিজাইন ও ফিটিং করে পোশাক তৈরি করতে কোনো সমস্যা নেই। তৈরি পোশাক দেখতে ভালো লাগলেও সবার গায়ে তো আর সব পোশাক ঠিকঠাক হয় না। এজন্য আগে থেকেই থ্রি-পিস কিংবা পছন্দমতো পোশাকের কাপড় কিনে দর্জিদের কাছে দিয়েছেন তারা। তাছাড়া সেলাই ও মনের মত নকশা বেছে নেয়ার সুযোগ রয়েছে বিধায় এখনো দর্জিদের প্রতি অনেকেই বেশি টান রয়েছে। তৈরি পোশাকের চেয়ে কারিগর দিয়ে বানানো পোশাকের প্রতি আগ্রহ বেশি।

এদিকে, পুরুষদের পোশাক তৈরি করেন এমন দর্জি দোকানগুলোতেই একই রকম ব্যস্ততা। পুরুষের তৈরি প্যান্ট, শার্টের প্রতি যাদের আগ্রহ বেশি তারাই ভিড় করছেন দর্জি দোকানগুলোতে। রমজানের শুরুতেই প্যান্ট, শার্ট ও পাঞ্জাবির অর্ডার পড়েছে। এখনো প্রতিদিনই আশাব্যাঞ্জক অর্ডার মিলছে। তবে দুয়েকদিন পরে আর অর্ডার নেয়ার মতো অবস্থা থাকবে না। কারিগরদের সক্ষমতা অনুযায়ী অর্ডার নিলেও এখন তা ছাপিয়ে যাচ্ছে।

নতুন পোশাকে সকলেই ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে চান। এজন্য তারা বাড়তি পরিশ্রম দিয়ে হলেও ক্রেতাদের চাহিদা পূরণের চেষ্টা করছেন। প্রায় প্রতিদিনই ২৪ ঘণ্টা কাজ চলছে। ঈদের আগের দিনের রাত পর্যন্ত কাজ করে হলেও তারা অর্ডার নেয়া পোশাক তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অন্যদিকে, বাড়তি রোজগারের মধ্য দিয়ে সারা বছরের ঘাটতি পূরণসহ পরিবারের ঈদ কেনাকাটার অর্থ জোগাতে আপ্রাণ চেষ্টা করছেন তারা।