মেইন ম্যেনু

খবরটি পড়ার পর টার্মিনাল বা স্টেশনের পানি খাওয়ার সাহস পাবেন না!

ট্রেন ধরার প্রয়োজনে স্টেশনে এসেছেন। সেই সময় যদি তেষ্টা পায় তাহলে কী করবেন? যদি আপনার সঙ্গে পানি থাকে তাহলে তো ভালই। আর যদি না থাকে? তাহলে স্টেশনের কলের পানিই ভরসা। আপনি নিশ্চিন্তে সেই পানি খেয়ে তেষ্টা মেটালেন।

ভাবলেন, ভারতীয় রেলের মতো প্রতিষ্ঠানের পরিবেশন করা জল খেলে বিপদ-আপদের কোনও সম্ভাবনাই নেই। পরম তৃপ্তিভরেই আপনি পান করলেন সেই জল। কিন্তু এবার আপনার সেই তৃপ্তির পরিমাণ অনেকটাই কমতে চলেছে। কারণ জানা গিয়েছে, ভারতের রেল স্টেশনগুলির কলে যে জল পাওয়া যায় তাতে রয়েছে থার্মোটলারেন্ট কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়া (টিসিবি), যে ব্যাকটেরিয়া মানুষের মলে পাওয়া যায়। এবং এই খবর জানিয়েছে খোদ ভারতীয় রেল কর্তৃপক্ষ।

মাস কয়েক আগে ট্রেন ও প্ল্যাটফর্মে পরিবেশিত জল কতটা স্বাস্থ্যকর তা জানতে চেয়ে একটি পিটিশন দাখিল করা হয়েছিল। সেই পিটিশনের উত্তরে দিল্লি হাইকোর্টে ভারতীয় রেল কর্তৃপক্ষ মেনে নেয় যে, ভারতীয় স্টেশন এবং রেল কোয়ার্টারে যে জল সরবরাহ করা হয় তা পানের অযোগ্য। কারণ এই জল পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে যে, প্রতি ১০০ মিলি জলের নমুনায় ১০ ইউনিট করে টিসিবি-র অস্তিত্ব রয়েছে। মূলত উত্তরভারতের স্টেশন ও রেল কোয়ার্টারগুলির জলের নমুনাই পরীক্ষার জন্য সংগ্রহ করা হয়েছিল বলে জানায় রেল কর্তৃপক্ষ।

কিন্তু কেন রেলের পরিবেশিত পানীয় জলের এই দুর্দশা? রেলের তরফে জানানো হয়, স্টেশনে স্টেশনে পানীয় জলকে পানের উপযোগী করে তোলার জন্য উত্তর ভারতে মোট ৫৪১টি ক্লোরিনেশন প্ল্যান্ট রয়েছে। বর্তমানে তার অর্ধেকের বেশি অকেজো হয়ে পড়ে। সেই কারণেই এই বিপত্তি।

এই জল পান করলে তার কী প্রভাব পড়তে পারে মানবশরীরে? ডাক্তাররা বলছেন, টিসিবি এমন একটি ব্যাকটেরিয়া যা মানুষের মলে পাওয়া যায়। জলের সঙ্গে যদি সেই ব্যাকটেরিয়া মানবশরীরে প্রবেশ করে তাহলে পেটের নানা সমস্যা, যেমন ডায়েরিয়া, ডিসেন্ট্রি কিংবা পেটে খিঁচ ধরার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনকী, বয়স্ক ও বাচ্চাদের ক্ষেত্রে টিসিবির কারণে হাইপোভেলমিক শক-এর ফলে প্রাণ সংশয় পর্যন্ত দেখা দিতে পারে।

ভারতের ই‌উনিফর্ম ড্রিঙ্কিং ওয়াটার কোয়ালিটি মনিটরিং প্রোটোকল অনুসারে পানীয় জলে এক ইউনিট টিসিবি থাকাও উচিৎ নয়। সেই বিচারে ভারতীয় রেলের গাফিলতি বেশ গুরুতর। নিজেদের ত্রুটি তারা আদালতে দাঁড়িয়ে স্বীকারও করে নিয়েছে। সেই ত্রুটি সংশোধন করার জ‌ন্য তারা কী করে সেটাই এখন দেখার। -এবেলা