মেইন ম্যেনু

খরা ও অবিরাম বৃষ্টির কারনে নার্শারী মালিকরা হুমকির মুখে

অব্যহত খরা ও অবিরাম বৃষ্টির কারনে সাতক্ষীরা জেলার নার্শারী মালিকদের বিপুল পরিমান অর্থ লোকসান গুনতে হচ্ছে। জেলা কৃর্ষি সম্প্রাসরণ অধিদপ্তর খামার বাড়ি সাতক্ষীরার তথ্য অনুযায়ী জেলায় নার্শারী সংখ্যা ৩১২ টি। এর মধ্যে রেজিষ্টেশন আছে ১৩৪ টি নার্শারীর। সাতক্ষীরার নার্শারী চাষীরা বিভিন্ন ধরনের ফলদ বৃক্ষ, ফুল ও ঔষধী গাছের চারা উৎপাদন করে থাকেন।

সাতক্ষীরা আলীয়া মাদ্রাসার পার্শ্বে ডাঙ্গীপাড়ার নার্শারী চাষী সামছু সরদার জানান, তিনি ৫ বিঘা জমিতে একটি নার্শারী করেছেন। তিনি তার নার্শারীতে আম গাছের চাষ করছেন দীর্ঘ ৫ বছর যাবৎ। বিগত দিন গুলোতে এমন অবস্থার মুখোমুখি হতে হয়নি। এবারের মৌসূমে প্রচন্ড খরার কারনে গাছের চারা লাল হয়ে গিয়েছিল। বড় হতে পারেনি। আবার গত কয়েক মাসের অতি বৃষ্টির কারনে চারার শিকড় পঁচে গিয়ে অনেক চারা মারা গেছে। ফলে এবারের মৌসূমে লাভ তো দুরের কথা খরচের টাকা ও ফিরে আসবে না।

কলারোয়া উপজেলার ঝিকরা গ্রামের রিপন জানান ,তার নার্শারীতে চাষ করেন মেহেগিনী,লেবু,লিছু সহ বিভিন্ ধরনের ফলদ গাছ। ৪ বিঘা জমিতে তিনি নার্শারী তৈরী করেছেন। অন্যন্যা বছরে খরচ খরচা বাদ দিয়ে প্রায় ১ থেকে দেড় লাখ টাকা লাভ হতো। এবারের মৌসূমে তা হওয়ার সম্ভবনা একেবারেই কম। কারন হিসাবে জানান, এই সময়ের মধ্যেই গাছের সমস্ত চারা বিক্রি হয়ে যায়। কিন্তু গত কয়েক মাস অবিরাম বর্ষণের ফলে কেউ গাছের চারা কিনছেন না। বর্ষা মৌসূম প্রায় শেষ। অনেক চারা আছে নার্শরাীতে। এখন বিক্রি না হলে পরে বেশী দাম পাওয়া যাবে না।

কথা হয় নার্শারী মালিক সমিতির সভাপতি নূরুল ইসলামের সাথে। তিনি আওয়ার নিউজকে জানান,সাতক্ষীরার নার্শারীর একটা সুনাম আছে সারা দেশে। আগে ট্রাক ভর্তি করে পাইকারী ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন ধরনের গাছের চারা কিনে নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যেতেন। বাংলাদেশে প্রথম নার্শারীর জন্ম হচ্ছে সাতক্ষীরাতে ।

অথচ আজ নার্শারীর যত সমস্যা এখন সাতক্ষীরাতেই। অতিরিক্ত বর্ষার কারনে ঠিক সময় মত চারা উঠানো যায়নি। ফলে অনেক চারা বেশী পরিপক্ষ হয়ে গেছে। গাছের পাতা, কান্ড বিবর্ণ হয়ে গেছে। এতে করে যে গাছ গত বছর এ সময়ে বিক্রি হয়েছে ১ শ’ থেকে ১ শ’ ৫০ টাকা। তা এবছর বিক্রি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ দরে। এতে করে চাষীদেও মোটা অংকের অর্থের লোকসান গুনতে হচ্ছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি কৃর্ষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে পরিসংখ্যান দেওয়া হয়েছে তার ভুল। প্রকৃত পক্ষে জেলায় ৫০০ জন কৃষক নার্শরী চাষের সাথে জড়িত।

অন্যান্য ফসল চাষ করার জন্য কৃষকদের যেমন ভূর্তুকী প্রদান করা হয় তেমনি নার্শারী চাষের জন্য ও ভূর্তুকী ও বাস্তব মুখি প্রশিক্ষন দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর আবহান জানিয়েছেন নার্শারী চাষীগণ।



« (পূর্বের সংবাদ)