মেইন ম্যেনু

খাদ্যাভ্যাসের যে ভুলগুলো আপনার হাড়ের ক্ষতি করছে

সুস্থ জীবনের জন্য খাদ্যাভ্যাস এবং ব্যায়াম এই দুটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আপনি কী খাচ্ছেন তার প্রতি নজর দেয়া প্রয়োজন। কারণ ভুল খাদ্য গ্রহণের ফলে আপনার হাড়ের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। খাদ্যাভ্যাসের যে ভুলগুলো আপনার হাড়ের ক্ষতি করছে সেই বিষয়েই জেনে নিব আজ।

১। লবণ

খাবারের সাথে অনেক বেশি লবণ খেলে এই অতিরিক্ত লবণ প্রস্রাবের সাথে বের হয়ে যাওয়ার সময় ক্যালসিয়াম ও বের হয়ে যায়। এই ক্যালসিয়ামের কিছুটা হাড় থেকেও আসে। দীর্ঘ মেয়াদে এই অবস্থা চলতে থাকলে হাড় দুর্বল হয়ে যায় বা অষ্টিওপোরোসিস হয়। কিছু গবেষণায় দেখানো হয়েছে যে, দৈনিক লবণ গ্রহণের পরিমাণ ১০ গ্রাম থেকে ৫ গ্রামে কমিয়ে আনলে হাড়ের শক্তিমত্তার উপর যে প্রভাব পড়ে ঠিক একই রকম প্রভাব পড়ে ক্যালসিয়াম গ্রহণের মাত্রা দৈনিক ১০০০ গ্রামে উন্নিত করলে।

২। কার্বোনেটেড পানীয়

শিশু অবস্থায় হাড়ের গঠনের সময়ে যদি এই ধরণের পানীয় পান করা হয় তাহলে তা হাড়ের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। সোডাতে উপস্থিত ফসফরাস ক্যালসিয়ামের ব্যবহারের সামর্থ্যকে সীমিত করে দেয়। অন্যদিকে অত্যধিক সোডা গ্রহণের ফলে ম্যাগনেসিয়ামের মাত্রাকেও কমিয়ে দেয় যা হাড়ের বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয়।

৩। কফি

আপনার যদি দিনে ৩-৪ কাপের বেশি কফি পান করার অভ্যাস থাকে তাহলে এর পরিমাণ কমানো শুরু করুন এখন থেকেই। কারণ কফি ক্যালসিয়ামের শোষণকে কমায় এবং হাড় থেকে ক্যালসিয়াম ক্ষয় হতে সাহায্য করে। কফির বদলে চা পান করতে পারেন। ২০১৪ সালের এক গবেষণা সমীক্ষায় জানা যায় যে, যারা চা পান করেন তাদের কোমরের হাড় ভাঙ্গার ঝুঁকি কম থাকে।

৪। চকলেট

যদিও চকলেটে হাড়ের ঘনত্ব বৃদ্ধিতে সাহায্যকারী উপাদান ফ্লেভোনলস ও ক্যালসিয়াম থাকে, এতে অক্সালেট থাকে যা ক্যালসিয়ামের শোষণে বাঁধা দেয় এবং এতে চিনি ও থাকে যা ক্যালসিয়ামের নিঃসরণের সাথে সম্পর্কিত। তাই বলা যায় যে, চকলেট খাওয়া হাড়কে দুর্বল করার ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। তাই চকলেট খেতে হবে সীমিত পরিমাণে। দৈনিক চকলেটের একটি বার খাওয়াই যথেষ্ট, এর চেয়ে বেশি গ্রহণ করা উচিৎ নয়।

লাল মাংস, চিনি, চর্বি, পরিশোধিত শস্য যেমন- ময়দা ও পাউরুটি ইত্যাদি গ্রহণের মাত্রা কমানো উচিৎ। হাড়ের সুস্থতার জন্য মাছ, আস্ত শস্যদানা, তাজা ফল ও সবজি খাওয়া প্রয়োজন। ভিটামিন এ এর সাপ্লিমেন্ট হাড়ের ক্ষয় হওয়াকে বৃদ্ধি করে বিশেষ করে ভিটামিন এ এর রেটিনল ফর্মটি। তাই ভিটামিন এ এর উদ্ভিজ উৎসগুলোই খাওয়া নিরাপদ। কলিজাতে ভিটামিন এ এর রেটিনল ফর্ম থাকে। তাই কলিজা খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন।