মেইন ম্যেনু

খাদ্য অধিদপ্তরে নিয়োগ দুর্নীতি: ৫৩ জনের বিরুদ্ধে দুদুকের মামলা

খাদ্য অধিদপ্তরে নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের এক যুগ্ম সচিব ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিবসহ ৫৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ৪৪ জন প্রার্থীকে চাকরি লাভের অবৈধ সুযোগ করে দেয়ার অভিযোগে এ মামলা করা হয়েছে।

বুধবার রাজধানীর শাহবাগ (ডিএমপি) থানায় দুদকের উপপরিচালক মোহা. মনিরুল হক বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

দুদকের করা মামলায় আসামিরা হলেন- বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও সাবেক খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব নাসিমা বেগম, খাদ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (সংগ্রহ) ইলাহী দাদ খান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব রোকেয়া খাতুন , ঢাকা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান ফারুকী এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ইফতেখার আহমেদ।

তারা সবাই খাদ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন পদে লোক নিয়োগ পরীক্ষায় নম্বর নির্ধারণ, প্রশ্নপত্র তৈরী, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ, ফলাফল প্রকাশসহ বিভাগীয় নির্বাচন/বাছাই কমিটির মধ্যে ছিলেন।

এছাড়া নিয়োগ জালিয়াতিতে যুক্ত চুক্তিবদ্ধ আইটি সার্ভিস প্রভাইডার প্রতিষ্ঠান ডেভলপমেন্ট প্ল্যানার্স অ্যান্ড কনসালটেন্টস(ডিপিসি) এর ৪ সদস্যরা হলেন- ম্যানেজার মোঃ আইউব আলী, টেকনিক্যাল ম্যানেজার আসাদুর রহমান, সাবেক হার্ডওয়ার ইঞ্জিনিয়ার মো. আরিফ হোসেন এবং এসিসটেন্ট ডাটাবেজ এডমিন মো. আবুল কাসেম।

এসব আসামি চাকরিতে নিয়োগ প্রার্থীদের স্বার্থ রক্ষা করার আইনী বাধ্যতা থাকলেও কম্পিউটার সফটওয়ার পরিবর্তন করে ফলাফলে অধিক নম্বর প্রাপ্তী দেখিয়েছে। এভাবে তারা পারস্পরিক যোগসাজসে ক্ষমতার অপব্যবহারপূর্বক মেধাবী ও উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীদের চাকরি থেকে বঞ্চিত করে অনুত্তীর্ণ বা কম নম্বর প্রাপ্ত পরিক্ষার্থী উত্তীর্ণ দেখিয়েছেন।

এসব জালিয়াতির মাধ্যমে উত্তীর্ণ প্রার্থীরাও দুদকের করা মামলার আসামি। তাদেরকে পরীক্ষার খাতায় (ওএমআর সীট) প্রাপ্ত নম্বর থেকে ডিজিটাল জালিয়াতির মাধ্যমে ফলাফল শিটে বেশি নাম্বার দেয়া হয়েছে। তাদের অধিকাংশকেই পরীক্ষায় ২০ বা ৩০ নম্বর পেলেও জালিয়াতি করে ৯০ বা ৯৫ নম্বর দেয়া হয়েছে। আবার কেউ ৮ নম্বর পেলেও তাকে ৯০ নম্বর দেয়া হয়েছে। এভাবেই গত বছরের ৫ মে ওই সব পরীক্ষার্থীসহ মোট ৩২৮ জনকে খাদ্য অধিদপ্তরের খাদ্য পরিদর্শক পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলে দুদকের অনুসন্ধানে প্রমাণিত হয়।